শার্শার বেলতলা কুলের হাটে ট্রাকে চাঁদাবাজি

0

শার্শা(যশোর)সংবাদদাতা॥ যশোরের শার্শার বেলতলা কুলের বাজারে ট্রাক থেকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ট্রাক শ্রমিকের নামে কিছু অসাধু শ্রমিক ও বাজার কমিটি একত্রিত হয়ে সিলিপের মাধ্যমে ট্রাক প্রতি ২শ টাকা থেকে ৪শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে বলে ট্রাক চালকদের অভিযোগ। চাঁদা না দিলে ট্রাক লোড- আনলোডে বাধা ও বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

ট্রাক চালকরা জানান, প্রতি বছর শার্শার বেলতলা বাজারে মৌসুমি বাজার হিসেবে আম ও কুলের পাইকারি বাজার বসে। দুই মৌসুমে বেলতলা বাজারে কোটি কোটি টাকার আম ও কুল পাইকারি বেচাকেনা হয়। আর এ আম ও কুল দেশের বিভিন্ন জেলায় ট্রাক ও পিকআপে সরবরাহ হয়ে থাকে। এই সুযোগে এক শ্রেণির অসাধু শ্রমিক ও বেলতলা বজার কমিটি প্রতি ট্রাক থেকে ২শ টাকা থেকে ৪শ টাকা করে চাঁদা আদায় করছে। এ চাঁদার রশিদও দেওয়া হচ্ছে। তাাতে লেখা আছে, ট্রাক বন্দোবস্তকারী অফিস। ট্রেড লাইসেন্স নং ৬৮৮। —বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন ফেডারেশনের অন্তর্ভুক্ত।

এ ব্যাপারে আব্দুল কুদ্দুস নামে এক ট্রাক চালক বলেন, তার কাছ থেকে ২শ টাকা চাঁদা নেওয়া হয়েছে।

বেলতলা বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান বলেন, কয়েক দিন হলো বেলতলা বাজারে কুলের হাট বসেছে। এখান থেকে দূরের ব্যবসায়ীরা পাইকারি দরে কুল ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করেন। ট্রাক শ্রমিকরা সন্ধ্যার পর পণ্য বোঝাই ট্রাক থেকে টাকা আদায় করেন।

বেলতলা বাজার কমিটির সভাপতি মাহমুদ হোসেন জানান, অল্প কয়েক দিন হলো বেলতলা বাজারে কুলের পাইকারি হাট শুরু হয়েছে। বছরে দুই মৌসুমে বেলতলা বাজারে আম ও কুলের পাইকারি হাট বসে। আগে এই হাট থেকে আওয়ামী লীগের দুর্বৃত্তরা ব্যপকভাবে চাঁদা আদায় করত।সে সময় বেনাপোল, নাভারন, বাগআঁচড়া ও শংকরপুর এলাকার কিছু অসাধু ব্যক্তি সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চাঁদার টাকা ভাগ করে নিয়ে যেত। এখন সেই সাংবাদিকরা আমাদের কাছে টাকা চাচ্ছে। অন্যথায় আমাদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট করবে বলে হুমকি দিচ্ছে।
তিনি বলেন, বেলতলা বাজার থেকে সন্ধ্যার পর বাগআঁচড়া ট্রাক শ্রমিক অফিস থেকে টাকা আদায় করা হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, বেলতলা বাজার কমিটি কোন চাঁদাবাজির সাথে জড়িত না।

এ ব্যাপারে জানতে বাগআঁচড়া ট্রাক শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি শহিদুল ইসলামের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

শার্শা থানার অফিসার ইনচার্জ রবিউল ইসলাম জানান, শার্শার বেলতলা বাজারে চাঁদাবাজির কোন অভিযোগ তার কাছে নেই। যদি কোন ব্যক্তি অভিযোগ করে তবে অভিযোগ তদন্ত করে অপরাধী যেই হোক তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।