৭০ হাজার শিক্ষক নিয়োগে আসছে নবম গণবিজ্ঞপ্তি, অপেক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের

0
বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭০ হাজার শিক্ষক নিয়োগের মহাযজ্ঞ; নবম গণবিজ্ঞপ্তির অনুমোদনের চিঠি মন্ত্রণালয়ে।। ছবি: এআই/লোকসমাজ
দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি) শিক্ষক নিয়োগের লক্ষ্যে নবম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। এই গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে দেশজুড়ে প্রায় ৭০ হাজার যোগ্য প্রার্থী শিক্ষক হিসেবে নিয়োগের সুযোগ পাবেন।
নিয়মানুযায়ী বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পূর্বে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রশাসনিক অনুমোদনের বাধ্যবাধকতা থাকায়, ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের সবুজ সংকেত মিললেই দ্রুততম সময়ে এই নবম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে।

এনটিআরসিএ সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে, চলতি সপ্তাহের শুরুর দিকে মোট ৬৯ হাজার ৫৭৭টি শূন্য পদের প্রশাসনিক অনুমোদন চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এর আগে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পাঠানো শূন্য পদের তথ্য যাচাই-বাছাই করে প্রাথমিকভাবে মোট ৭৫ হাজার ৭৬৯টি পদ চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ১৮তম শিক্ষক নিবন্ধনকারীদের জন্য সংরক্ষিত পদসহ অন্যান্য কিছু প্রায়োগিক পদ বাদ দেওয়ায় চূড়ান্ত শূন্য পদের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৯ হাজার ৫৭৭টি।

এই পদগুলোতেই নবম এন্ট্রি লেভেলের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা করা হয়েছে। এনটিআরসিএর সচিব এ এম এম রিজওয়ানুল হক সংবাদমাধ্যমকে জানান, নবম শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার অনুমোদনের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে। মন্ত্রণালয় অনুমোদন সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে পরীক্ষা ও পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, শিক্ষক নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়ায় এবার বড় ধরনের কাঠামোগত পরিবর্তন আসছে। এখন থেকে বেসরকারি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রচলিত নিবন্ধন পরীক্ষার পরিবর্তে সরাসরি শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। বদলে যাওয়া এই পদ্ধতিতে আগের মতো শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে প্যানেল তৈরি বা সুপারিশ নয়, বরং নির্দিষ্ট বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে সরাসরি নিয়োগ পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হবে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, প্রার্থীদের ২০০ নম্বরের প্রিলিমিনারি/লিখিত (এমসিকিউ) এবং ২০ নম্বরের মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হবে, যেখানে পাস নম্বর নির্ধারণ করা হয়েছে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ। এই নতুন পদ্ধতিতে যেসব প্রার্থী চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য বিবেচিত হবেন, কেবল তাঁদেরই এনটিআরসিএ থেকে শিক্ষক পদে যোগদানের সনদ প্রদান করা হবে।

তথ্যমতে, অনলাইনে শিক্ষকদের শূন্য পদের চাহিদা (ই-রিকুইজিশন) এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তথ্য হালনাগাদের (ই-রেজিস্ট্রেশন) কাজ কয়েক দফা সময় বাড়ানোর পর গত ১৫ এপ্রিল চূড়ান্তভাবে শেষ হয়েছে। এর আগে, গত ৫ জানুয়ারি ২০২৬ তারিখে শিক্ষক নিবন্ধন সনদের ভিত্তিতে সর্বশেষ সপ্তম গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছিল এনটিআরসিএ, যেখানে শূন্য পদের সংখ্যা ছিল ৬৭ হাজার ৮৭টি। এরপর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধান পদগুলোতে (অধ্যক্ষ, উপাধ্যক্ষ, প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক ও সুপার) নিয়োগের জন্য ১২ হাজার ৯৫১টি শূন্য পদ নিয়ে অষ্টম বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়।

উল্লেখ্য, ২০০৫ সাল থেকে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষা পরিচালনা করে আসছে এনটিআরসিএ। শুরুতে নিয়োগের চূড়ান্ত ক্ষমতা গভর্নিং বডি বা ম্যানেজিং কমিটির হাতে থাকলেও, ২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর সরকার আইন সংশোধন করে এনটিআরসিএকে সনদ প্রদানের পাশাপাশি সরাসরি শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশের দায়িত্ব দেয়। এর পর থেকে সাতটি সফল গণবিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারের মতো শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ করেছে এই রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষ।