ভারত হাসিনাকে বক্তব্যের সুযোগ দিয়ে জুলাই শহীদদের অসম্মান করেছে: রিজভী

0
পলাতক আসামি হাসিনাকে ভারতে রাজনীতি ও বক্তব্যের সুযোগ দেওয়া শহীদদের প্রতি অপমান: রুহুল কবির রিজভী ।। ছবি: সংগৃহীত
গণ-অভ্যুত্থানের মুখে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়া সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে বক্তব্য ও রাজনীতি করার সুযোগ করে দিয়ে ভারত জুলাই আন্দোলনের শহীদদের অসম্মান করেছে বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
এটিকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে এক ধরনের হস্তক্ষেপ এবং জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি চরম অপমান বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে মহান স্বাধীনতার ঘোষক সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যে গণবিপ্লবে হাজারেরও বেশি তরুণ, কিশোর ও শিক্ষার্থীর জীবন গেছে এবং যাদের রক্তে রাজপথ রঞ্জিত হয়েছে, সেই মহান আন্দোলনের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। কিন্তু নিজেদের পৃথিবীর বৃহত্তম গণতন্ত্র দাবি করা একটি দেশে তাঁকে প্রকাশ্য রাজনীতি ও বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। যে হাজারো প্রাণ শেখ হাসিনা ঝরিয়েছেন, সেই শহীদদের আত্মত্যাগকে অপমান করার জন্যই পরিকল্পিতভাবে এই সুযোগটা তৈরি করে দেওয়া হয়েছে।”

পলাতক আসামির প্রত্যাবাসন ও দ্বিপক্ষীয় চুক্তির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি আরও বলেন, “শেখ হাসিনা বর্তমানে আদালতের একাধিক মামলায় দণ্ডপ্রাপ্ত ও পলাতক আসামি। ২০১৩ সালের বন্দি প্রত্যর্পণ চুক্তির আওতায় তাঁকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর জন্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠালেও ভারতের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। চুক্তি থাকা সত্ত্বেও একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে ফেরত না দিয়ে তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের সহযোগিতায় সেখানে রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরির সুযোগ দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক এবং দুই দেশের পারস্পরিক আস্থা ও শ্রদ্ধাবোধের পরিপন্থী।”

প্রতিবেশী দেশের এই ভূমিকাকে ‘ঘৃণ্য প্রচেষ্টা’ আখ্যা দিয়ে রিজভী বলেন, “যেদিন বাংলাদেশে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা সুরক্ষার জন্য বিশাল গণজাগরণ ও মহাবিপ্লব সম্পন্ন হয়েছিল, ঠিক সেই দিনেই দিল্লিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করে হাসিনাকে বক্তৃতা করার সুযোগ দেওয়া হলো। এটি ভারতীয় নীতি-নির্ধারকদের একটি সুপরিকল্পিত পদক্ষেপ। বাংলাদেশ সরকার ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিয়ে ভারত সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবহিত করা হলেও তারা কোনো ইতিবাচক সাড়া দেয়নি।”

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রের ইতিহাস তুলে ধরে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, “ইতিহাসে যখনই বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে, তখনই দেশীয় ও আন্তর্জাতিক চক্রান্ত শুরু হয়েছে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যখন দেশকে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ করেন এবং বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন, ঠিক তখনই চক্রান্তের মাধ্যমে তাঁকে হত্যা করা হয়। আজও বাংলাদেশের স্থিতিশীলতা ও অগ্রগতি নস্যাৎ করতে নানা ধরনের ষড়যন্ত্র চলমান রয়েছে, যা দেশবাসীকে সঙ্গে নিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে।”