টুর্নামেন্ট বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনায় ভুল স্বীকার করে ক্ষমা চাইলেন ইনফান্তিনো

0
বিশ্বকাপসহ বড় টুর্নামেন্টের স্বত্ব বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনায় ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়েছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। মরক্কোর সভায় পর্ষদের সমর্থন পাওয়ায় তিনি পদে বহাল থাকলেও ইউরোপজুড়ে তাঁর পদত্যাগের দাবি তীব্র হচ্ছে।। ছবি: সংগৃহীত
বিশ্বকাপসহ ফিফার বড় টুর্নামেন্টগুলোর অংশীদারত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনায় নিজেদের ‘ভুল’ স্বীকার করে আন্তরিক ক্ষমা চেয়েছেন ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। তবে মরক্কোয় অনুষ্ঠিত জরুরি সভায় ফিফার পরিচালনা পর্ষদ ও শীর্ষ নির্বাহীদের সমর্থন পাওয়ায় পদত্যাগ না করে ফিফা সভাপতি হিসেবেই বহাল থাকছেন তিনি।

সংস্থাটির বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যে ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ (এফএফই) নামে একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দিয়েছিলেন ইনফান্তিনো। প্রস্তাবে সায় দিলে ফিফার ২১১টি সদস্য-অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি ডলার করে দেওয়ার লোভনীয় সুবিধাও রাখা হয়েছিল।

তবে গত ২৮ জুলাই ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টাইমসে গোপন এই পরিকল্পনার খবর ফাঁস হওয়ার পর বিশ্ব ফুটবলে তীব্র সমালোচনা ও বিতর্কের ঝড় ওঠে। ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও কনকাকাফ এই পরিকল্পনার কড়া বিরোধিতা করে এবং উয়েফার অধীনস্থ ৫৫টি দেশ বিশ্বকাপ বর্জনেরও হুঁশিয়ারি দেয়। পরবর্তীতে গত শনিবার প্রস্তাবটি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করা হলেও ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে মরক্কোর রাবাতে ফিফার আফ্রিকান কার্যালয়ে পরিচালনা পর্ষদের একটি বিশেষ জরুরি সভা আহ্বান করা হয়। সভা শেষ হওয়ার চার ঘণ্টা পর ফিফার প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়, ২১১টি সদস্যদেশের ভোটে নির্বাচিত একমাত্র অফিসিয়াল হিসেবে সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর ওপর পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করা হচ্ছে।

ফিফার মহাসচিব মাতিয়াস গ্রাফস্ট্রোম ও পর্ষদের সদস্যরা এতে যৌথ সই করেন। পাশাপাশি ইনফান্তিনো ও গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে ফিফার সদস্যদেশগুলোর কাছে লিখিত চিঠিতে ভুলের জন্য অনুশোচনা ও ক্ষমা প্রকাশ করে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা না ঘটার অঙ্গীকার করেন।

ফিফা তাদের বিবৃতিতে স্বীকার করেছে যে, এই প্রক্রিয়ার বাইরে সদস্যদেশ ও কাউন্সিলকে রাখার অভিপ্রায় তাঁদের ছিল না এবং বিষয়টি ভিন্নভাবে সামলানো উচিত ছিল। পাশাপাশি মরক্কোকে ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে সমর্থন আদায়ের যে অভিযোগ দ্য টাইমসে উঠেছিল, তাকে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর দাবি করেছে সংস্থাটি। স্প্যানিশ ও পর্তুগিজদের সাথে যৌথভাবে আয়োজিত সেই টুর্নামেন্টের ফাইনাল ভেন্যু যথাসময়ে নির্ধারিত হবে বলে জানানো হয়।

মরক্কোর সভায় ইনফান্তিনো সমর্থন পেলেও বিশ্ব ফুটবলে এই বিতর্ক থামেনি। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি স্পষ্ট জানিয়েছেন, ইনফান্তিনোর ওপর তাঁর কোনো আস্থা নেই। অন্যদিকে সাবেক পর্তুগিজ তারকা লুইস ফিগো অবিলম্বে ইনফান্তিনোর পদত্যাগ দাবি করে মন্তব্য করেছেন যে, ইনফান্তিনো ফুটবলের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করেছেন। ইউরোপের একাধিক দেশ ইতিমধ্যে ২০২৭ সালের সভাপতি নির্বাচনে ইনফান্তিনোর প্রতি দেওয়া সমর্থন প্রত্যাহার করার ঘোষণা দিয়েছে এবং উয়েফা আইনি পদক্ষেপের হুমকি বহাল রেখেছে। তবে এসব বাধা সত্ত্বেও ২০২৭ সালের মার্চে হতে যাওয়া নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদের জন্য ইনফান্তিনো আবারও লড়াইয়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।