১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উন্নতির আশা: জাতীয় সংসদে জানালেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

0
জাতীয় সংসদের অধিবেশনে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যের প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির সার্বিক চিত্র ও পরিকল্পনা তুলে ধরছেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।। ছবি: ভিডিও থেকে নেয়া

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ সংকট মোকাবিলায় সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে এবং আগামী ১৫ দিনের মধ্যে সামগ্রিক বিদ্যুৎ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বিরোধী দলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য মো. নুরুল ইসলামের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অধিবেশনটি অনুষ্ঠিত হয়।

জাতীয় সংসদে প্রতিমন্ত্রী অকপটে স্বীকার করেন যে, বর্তমানে দেশের মানুষ বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বেশ কষ্টের মধ্যে আছে। তিনি বলেন, এই বাস্তবতায় সরকার কথার আড়ালে প্রকৃত সত্য লুকাতে চায় না। মূলত গত দেড় যুগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ভুল নীতি গ্রহণ, সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থায় পর্যাপ্ত বিনিয়োগ না করা এবং সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটের প্রভাবে বর্তমান পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন করা হলেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি বলে তিনি জানান।

দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এ পরিমাণ বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। অথচ দেশীয় উৎপাদন ও আমদানিকৃত এলএনজি মিলিয়ে বর্তমানে ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ সম্ভব। সব গ্যাস বিদ্যুতে দিলে শিল্প ও গৃহস্থালিতে হাহাকার পড়ে যাবে। তাই তিন খাতের মধ্যে ভারসাম্য রেখে গ্যাস দিতে হচ্ছে।”

জ্বালানি আমদানির অবকাঠামো প্রসঙ্গে তিনি জানান, দেশে থাকা দুটি এফএসআরইউ-এর একটি গত ২১ জুলাই ত্রুটিগ্রস্ত হওয়ায় তা মেরামতে ২১-২২ দিন সময় লাগে, যা উৎপাদনে বড় আঘাত হানে। তবে বর্তমানে ৮৮ শতাংশ সরবরাহ স্বাভাবিক হয়েছে এবং আগামী মাসের শুরুতেই তা পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়া আদানির চুক্তি অনুযায়ী ১,৬০০ মেগাওয়াটের বিপরীতে দিনে ৯০০ ও সন্ধ্যায় ১,১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ মিলছে। অন্যদিকে, কারিগরি ত্রুটিতে থাকা পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াটের একটি ইউনিট এবং রক্ষণাবেক্ষণে থাকা মাতারবাড়ির একটি ইউনিট দ্রুত পূর্ণ ক্ষমতায় চালু করতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।

ফার্নেস অয়েলভিত্তিক কেন্দ্রগুলো প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী জানান, বকেয়া পাওনার কারণে ফার্নেস অয়েল কেন্দ্রগুলো থেকে পূর্ণ ক্ষমতা পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় ৬ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এ অর্থ পরিশোধ করা হলে ফার্নেস অয়েল থেকে সর্বোচ্চ ৪ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে।

বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে রাত ৮টার মধ্যে বিপণি বিতান ও দোকানপাট বন্ধের সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে বাস্তবায়নে সংসদ সদস্যদের সহযোগিতা চান প্রতিমন্ত্রী। পাশাপাশি মধ্যমেয়াদি সমাধান হিসেবে রুফটপ সোলারে বড় সুযোগের ঘোষণা দেন তিনি। আগামী ৬ মাসের মধ্যে সরকারি-বেসরকারি ভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসালে উৎপাদিত উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ প্রতি ইউনিট ১০ টাকা ৫০ পয়সা দরে সরকার কিনে নেবে। এছাড়া সোলার প্যানেল আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ও ভ্যাটে বিশেষ সুবিধা দিতে এসআরও জারির প্রক্রিয়া চলছে।

এর আগে সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, তাঁর এলাকাসহ সারাদেশে প্রতিদিন ৮ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং হচ্ছে। গত ৯ আগস্ট দেশে বিদ্যুৎ ঘাটতি ৩ হাজার ৭০০ মেগাওয়াটে পৌঁছেছিল, যা তাঁর মতে গত ৫৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর জবাবে প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগস্টে জনগণকে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, সেপ্টেম্বর থেকে তা যাতে না হয় সে লক্ষ্যে সরকার সর্বাত্মক কাজ করছে।