১০০ টাকা বকশিশ না পেয়ে অক্সিজেন খুলে দেওয়ার অভিযোগ, যশোর হাসপাতালে শিশুর মৃত্যু

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

0

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ : যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ১০ মাস বয়সী এক শিশুর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিশুটির স্বজনদের অভিযোগ, মাত্র ১০০ টাকা বকশিশ না পেয়ে হাসপাতালের এক আয়া চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়াই শিশুর নাকে থাকা বিশেষ অক্সিজেন লাইন খুলে দেন। এর কিছু সময় পরই শিশুটি মারা যায়।

মৃত শিশু নাজমা খাতুন যশোর শহরের শংকরপুর এলাকার নূর ইসলামের কন্যা।

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, ঠান্ডা ও জ্বরজনিত সমস্যায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৭ মে নাজমা খাতুন যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। রোববার তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুলনায় রেফার করা হয়।

স্বজনদের অভিযোগ, রোববার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে শিশুটিকে অ্যাম্বুলেন্সে করে খুলনায় নেওয়ার প্রস্তুতি চলছিল। এ সময় হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের পরিচ্ছন্নতাকর্মী (আয়া) মোছা. নাজমা বেগম ট্রলিতে করে রোগী নিচে নামানোর জন্য ১০০ টাকা দাবি করেন। স্বজনরা তাৎক্ষণিকভাবে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি ক্ষুব্ধ হন।

অভিযোগ রয়েছে, পরে চিকিৎসকের কোনো পরামর্শ ছাড়াই শিশুটির নাকে থাকা বিশেষ অক্সিজেন লাইন খুলে দিয়ে বড়দের ব্যবহারের একটি সাধারণ অক্সিজেন মাস্ক ব্যবহার করেন। এর কিছু সময় পর শিশুটির অবস্থার অবনতি ঘটে।

শিশুটিকে দ্রুত নিচে নামিয়ে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পর স্বজনরা বুঝতে পারেন তার কোনো সাড়া নেই। পরে তাকে জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ঘটনার পর হাসপাতাল চত্বরে স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। তারা আয়ার বিরুদ্ধে অবহেলা ও দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণের অভিযোগ এনে বিক্ষোভ করেন।

যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. হুসাইন শাফায়াত বলেন, রোগীর স্বজনরা লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, বহন খরচ বাবদ ১০০ টাকা চাওয়া হয়েছিল এবং তা না পেয়ে চিকিৎসকের অনুমতি ছাড়াই অক্সিজেনের ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়। বিষয়টি তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে।

তিনি আরও জানান, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করবে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিভাগীয় ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত চলছে।