হাসপাতালে তীব্র ওষুধ সংকট

0

বিএম আসাদ॥ যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ওষুধের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ওষুধ না পেয়ে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা ফিরে যাচ্ছেন। এতে সবচেয়ে বিপাকে পড়ছেন গরিব ও দুস্থ রোগীরা। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছেন, চাহিদামতো ওষুধ পাওয়া যাচ্ছে না। যা পাওয়া যাচ্ছে তাই দিয়ে হাসপাতাল চলছে। টেন্ডারের কাজ সম্পন্ন হলে সংকট কিছুটা লাঘব হবে।
গতকাল হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগে খায়রোল (৬০) নামে এক রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। বহিঃর্বিভাগে তার রেজিঃ নং- ছিল ১৮৫৫/৫৫। বহিঃর্বিভাগের মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মো. তছদিকুর রহমান খান কাফি তাকে চিকিৎসা দেন। টিকিট ইন্ডোমেট ব্যাথা নাশক ক্যাপসুল ও ম্যাক্সপেমো নামক গ্যাসনাশক ক্যাপসুল লেখা হয়। দুপুর দেড়টার দিকে হাসপাতালের বহিঃর্বিভাগের ফার্মেসিতে ওষুধ নিতে গেলে ওই রোগী ওষুধ পাননি। ফার্মেসিতে এ সময় ওষুধ দেয়ার কাজ করছিলেন মো. আনিছুর রহমান। তিনি তাকে ফিরিয়ে দেন। বলেন, এ ওষুধ নেই। পরে তিনি ওষুধ না পেয়ে ফিরে যান হাসপাতাল থেকে। ফার্মাসিস্ট মো. আনিছুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি দৈনিক লোকসমাজকে বলেন, গত তিন দিন ধরে হাসপাতালে গ্যাসের কোন ওষুধ নেই। শুধু খায়রোন নয়, হাসপাতালের বর্হিঃবিভাগে যত রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন কেউ পাচ্ছেন না গ্যাসের ট্যাবলেট, ক্যাপসুল, সাথে অন্যান্য ওষুধেরও ব্যাপক সংকট দেখা দিয়েছে। মোনাম, ফেক্স্রো, জিঙ্কসহ অন্যান্য মূল্যবান ওষুধ তালিকায় থাকলেও সরবরাহ নেই। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, এসব ওষুধ না থাকার কারণে সংকট দেখা দিয়েছে। জানা গেছে, গত অর্থবছরের এমএসআর টেন্ডারে ঠিকাদার নিয়োগ করা হয় অর্থবছর শেষ হওয়ার পর। প্রতিবছর আট কোটি থেকে ৯ কোটি টাকার এমএসআর দ্রব্য ক্রয়ের টেন্ডার আহ্বান করা হয়ে থাকে। শতকরা ৭৫ ভাগ ওষুধ সরকারি প্রতিষ্ঠান ইডিসি এল লিঃ সরবরাহ করে। ঠিকাদারের মাধ্যমে ওষুধ সংগ্রহ করা হয় ২৫ ভাগ। যেগুলো ইডিসিএল প্রস্তুত করে না। বিভিন্ন কোম্পানি থেকে ক্রয় করে ওইসব মূল্যবান ওষুধ সরবরাহ করেন ঠিকাদাররা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতাল সংশ্লিষ্টরা দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঠিকাদার সংগ্রহ করে তাদের নামে কাজ বাগিয়ে দেন। সূত্র জানিয়েছেন, কয়েক মাস আগে ২০২১-২০২২ সালের এমএসআর দ্রব্যাদি ক্রয়ের টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। ঠিকাদার নিয়োগ প্রক্রিয়া এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। ওষুধ সংকট সম্পর্কে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. আক্তারুজ্জামানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গ্যাসের ওষুধের সংটক রয়েছে। বছরে এ হাসপাতালে গ্যাসের ওষুধের চাহিদা ৬০ লাখ। প্রতিদিন ৬০ হাজার ওষুধের দরকার হয়। সেখানে ইডিসিএল প্রতিমাসে সরবরাহ করছে ১ লাখ গ্যাসের ওষুধ। ঠিকাদার কর্তৃক সরবরাহকৃত ওষুধ সংকটের কথা জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এ মুহূর্তে বলতে পারছি না। খোঁজ নিয়ে জানাতে পারবো।