হত্যাচেষ্টার মামলায় যবিপ্রবি কর্মকর্তা আটক

0

যবিপ্রবি সংবাদদাতা॥ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) পাঁচ শিক্ষার্থীকে হত্যাচেষ্টার মামলায় যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (যবিপ্রবি) কর্মকর্তা সাইফুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের সেকশন অফিসার ও তৎকালীন ঢাবি শাখা ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক।
তাকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন যবিপ্রবির প্রক্টর ড. আমজাদ হোসেন ও যশোর কোতয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক।
গতকাল রোববার দুপুর ২ টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে থেকে তাকে আটক করে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের(ডিএমপি) শাহবাগ থানার একটি দল। ‘একতা অ্যাম্বুলেন্স’ নামের একটি মাইক্রোবাসে করে তাকে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ২০১৭ সালের ১৬ আগস্ট রাত ১১ টার দিকে ঢাবি ছাত্রলীগের সাবেক আইন বিষয়ক সম্পাদক সাইফুর রহমানের নেতৃত্বে তৎকালীন মুহসিন হল ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা শিবিরকর্মী সন্দেহে ৫ ঢাবি শিক্ষার্থীকে রাতভর শারীরিক নির্যাতন চালান। তাদের শরীরের বিভিন্ন জায়গায় জখম ও জিহ্বায় ছুরি চালান তারা। একপর্যায়ে ওই পাঁচ শিক্ষার্থীকে পুলিশের হাতে তুলে দেন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীরা। এ বিষয়ে গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের শাহবাগ থানায় ভুক্তভোগী ঢাবির আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল মাসরুর, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের বাপ্পি মিয়া, মনোবিজ্ঞান বিভাগের ইবরাহীম হোসেন, মেহেদী হাসান ও আবদুল গাফফারের পক্ষে মাসরুর ১৩ জন ছাত্রলীগ নেতার নামে হত্যাচেষ্টার মামলা করেন।
মামলার তিন নং আসামি সাইফুর রহমানকে গ্রেফতারে সহযোগিতা চেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে লিখিত পত্র দেয় ডিএমপির শাহবাগ থানা পুলিশ। পরবর্তীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অভিযুক্ত সাইফুর রহমানকে পুলিশে সোপর্দ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. মো. আমজাদ হোসেন।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আমজাদ হোসেন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুহসিন হলের শিক্ষার্থীকে মারধরের অপরাধে শাহবাগ থানায় একটি মামলা হয়। মামলার আসামি ঢাবি ছাত্রলীগের তৎকালীন আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বর্তমান যবিপ্রবির সেকশন অফিসার সাইফুর রহমান। তাকে আটকের জন্যে শাহবাগ থানা পুলিশ আমাদের কাছে সহায়তা চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ে যেকোনো অনাকাঙ্খিত ঘটনা এড়াতে ও সাইফুর রহমানের নিরাপত্তার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের গাড়িতে করে প্রধান ফটকের সামনে নিয়ে পুলিশের কাছে সোপর্দ করি।
এ বিষয়ে যশোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার জুয়েল ইমরান বলেন, ঢাকা থেকে ডিএমপির একটি টিম এসেছিলো। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে এ বিষয়ে অবহিত করেছিলাম আমরা। আসামি আটকের পর তারা ঢাকার উদ্দেশ্যে চলে যায়।