স্থানীয় নির্বাচনে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার সিদ্ধান্ত জাতীয় নাগরিক পার্টির

0
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এককভাবে লড়ার প্রস্তুতি হিসেবে ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন এনসিপির আসিফ মাহমুদ ও নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।। ফাইল ছবি: সংগৃহীত

স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ না হয়ে এককভাবে প্রার্থী দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। ১১-দলীয় ঐক্যের অন্যান্য শরিকদের সঙ্গে আলোচনা ও রাজনৈতিক পরিষদের বৈঠকের পর এই নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণসহ পাঁচটি সিটি করপোরেশনে দলের মেয়র প্রার্থী চূড়ান্ত করা হয়েছে।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) এনসিপির প্রার্থী হচ্ছেন দলের মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। অন্যদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) দলের মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীকে প্রার্থী করা হচ্ছে। এর আগে গত ৩০ মার্চ ঢাকা দক্ষিণে আসিফ মাহমুদ এবং ঢাকা উত্তরে আরিফুল ইসলাম আদীবকে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে দলীয় সমীক্ষা ও মাঠপর্যায়ের হিসাব বিবেচনায় এনে প্রার্থী তালিকায় এই পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আইনি বাধ্যবাধকতা পূরণে ইতোমধ্যে দুই প্রার্থীই ভোটার এলাকা পরিবর্তন করেছেন। আসিফ মাহমুদ ঢাকা উত্তরের আফতাবনগর এলাকায় এবং নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ঢাকা দক্ষিণের ঢাকা-৮ সংসদীয় এলাকার ভোটার হয়েছেন। এছাড়া কুমিল্লা সিটিতে তারিকুল ইসলাম, রাজশাহীতে মো. মোবাশ্বের আলী এবং সিলেটে আবদুর রহমান আফজালকে এনসিপির মেয়র প্রার্থী হিসেবে অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

এনসিপি সূত্র জানায়, গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কারণে ওই অঞ্চলে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর একটি শক্ত রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি হয়েছে। সমীক্ষার তথ্য বিবেচনা করে তাকে দক্ষিণে এবং আসিফ মাহমুদকে উত্তরে প্রার্থী হিসেবে অধিক প্রভাবশালী মনে করছে দলটি। এনসিপির শীর্ষ নেতারাও এই পরিবর্তনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে জামায়াতে ইসলামী এখনো সিটি নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি। তবে আলোচনা রয়েছে—ঢাকা দক্ষিণে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম এবং ঢাকা উত্তরে মহানগর আমীর সেলিম উদ্দিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন। জামায়াতসহ ১১-দলীয় ঐক্যের অন্য শরিকদের মতামত হলো, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে জোটগতভাবে প্রার্থী দেওয়া বাস্তবতা নিরিখে কঠিন। ফলে নির্বাচনে আলাদা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও তাদের রাজনৈতিক ঐক্য অটুট থাকবে এবং জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট ইস্যুতে সম্মিলিত কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।