সুদ ব্যবসায়ীর পক্ষে নরেন্দ্রপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর ফাঁড়ি ইনচার্জ সুপ্রভাত ম-ল এক সুদ ব্যবসায়ীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে অপর এক ব্যক্তিকে টাকা পরিশোধের জন্য সাত দিনের সময় বেধে দিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে উপ পরিদর্শক (এসআই) পদমর্যাদার পুলিশের এই কর্মকর্তা দুই রকমের বক্তব্য দেন।
যশোর সদর উপজেলার মুনসেফপুর গ্রামের হাজীপাড়ার ইউসুফ আলী অভিযোগ করেন, তিনি ২০১৮ সালে তার গ্রামের খানপাড়ার রবিউল ইসলাম ও রবি খানের কাছ থেকে জমি বন্ধক বাবদ একাধিক সময়ে পাঁচ লাখ টাকা নেন। এর বিনিময়ে প্রতি মৌসুমে প্রতি ১ লাখ টাকায় ১২ মন ধান দেয়ার মৌখিক চুক্তি হয়। ২০১৮ সালেই তিনি দুই মৌসুমে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা লাভ দেন। ২০১৯ সালে ও ২০২০ সালে চার মৌসুমে ২ লাখ ৪০ হাজার টাকা লাভ দেয়া হয়। এবং নগদ দেন ৮৫ হাজার টাকা। এভাবে তিনি মোট ৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা দেন রবিউল ইসলাম রবিকে। এরপর আসল ৫ লাখ টাকার জন্য তাকে চাপ দিতে থাকেন রবি। এমন চাপের মধ্যে তিনি তার ২৭ শতক জমি লিখে দেন রবির নামে। এরপর সে আরও ২ লাখ ৩০ হাজার টাকা দাবি করে আসছে। কিন্তু এর মধ্যে তিনি ওই টাকা পরিশোধ করতে গিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। রবির দাবি করা টাকা দিতে ব্যর্থ হচ্ছেন। এ অবস্থায় শুক্রবার (১৪ জানুয়ারি) দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নরেন্দ্রপুর ফাঁড়ি থেকে কয়েক জন পুলিশ বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজ করেন। না পেয়ে তার ছেলেকে বলে আসেন বিকেলে ফাঁড়িতে গিয়ে দেখা করার জন্য। গতকাল শনিবার সকালে বিষয়টি তিনি তার কচুয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান লুৎফর রহমান ধাবককে জানান। চেয়ারম্যান ফাঁড়ির ইনচার্জের সাথে কথা বলে তাকে বলেন, ফাঁড়ি ইনচার্জ বলেছেন দুই পক্ষের সাথে কথা বলবেন। তিনি (ইউসুফ) যেন কাগজপত্র নিয়ে ফাঁড়িতে যান। সে অনুযায়ী তিনি শনিবার বিকালে ফাঁড়িতে গেলে ফাঁড়ি ইনচার্জ রবিকে ফোন দেন। রবি আসলে তাকে তার বক্তব্য বলতে বলেন ওই কর্মকর্তা। রবির বক্তব্যে পর তিনি কথা বলতে গেলে ইনচার্জ সুপ্রভাত ম-ল তাকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, মওলানা হয়ে সুদ কেন নিয়েছেন? সাত দিনে মধ্যে আপনাকে টাকা দিতে হবে। এবং তিনি লিখিত নেয়ার কথা বলেন। এসময় ইউসুফ কৌশলে ফাঁড়ি থেকে চলে আসেন।
এ বিষয়ে এসআই সুপ্রভাতের কাছে জানতে চাইলে তিনি লোকসমাজকে প্রথমে বলেন, থানায় মামলা হয়েছে তাই তিনি দুই পক্ষকে নিয়ে বসেছেন। তবে কেন এক পক্ষের হয়ে সাত দিনের মধ্যে টাকা পরিশোধের জন্য অপরপক্ষকে চাপ দিচ্ছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, এমন কোন চাপ দেয়া হয়নি। এর কিছু সময় পর মামলার নম্বর জানতে চাইলে পুলিশের ওই কর্মকর্তা বলেন, ,মামলা হয়নি, অভিযোগ হয়েছে। তিনি তার খোঁজ নিচ্ছেন। তার দুই ধরনের কথায় সংশয়ের সৃষ্টি হয়েছে। অপরদিকে টাকা প্রদানকারী রবিউল ইসলাম রবিও মোবাইল ফোনে লোকসমাজকে দুই রকমের কথা বলেছেন। তিনি প্রথম বলেন, কোন সুদের টাকা নয়, ৯ শতক জমির বায়না বাবদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা তিনি ইউসুফকে প্রথম দেন। এভাবে চারবার তাকে টাকা দিয়েছেন। কিন্তু সে জমি দিচ্ছে না। এক পর্যায়ে তিনি এ প্রতিবেদকের ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন। কিছু সময় পর নিজ থেকে ফোন করে বিপরীত কথা বলেন। দ্বিতীয় দফা ফোনে রবি বলেন,সাড়ে তিন-চার বছর আগে তার ঢাকার বাসায় গিয়ে ইউসুফ তার কাছে ১ লাখ টাকা চান। তিনি তাকে টাকা দিতে চাননি। পরে তার ভাইপো রাশেদকে সাথে নিয়ে তাকে দুই হাজার টাকা দেয়ার লোভ দেখিয়ে তার পক্ষে নিয়ে আবারো ইউসুফ তার কাছে টাকা চায়। এক পর্যায়ে তার কাছ থেকে ৫ থেকে ৬ লাখ টাকা নেয় ইউসুফ। এবং তার ভাইপো তাকে বলে ধেনো হিসেবে টাকা দেবে। রবির দাবি এর আগে তিনি টাকা বাবদ লাভ হিসেবে ধান নেয়ার বিষয়টি বুঝতেন না। ভাইপো রাশেদ ও ইউসুফ তাকে ওই পথে নিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ইউসুফ তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে নিজে সুদ ব্যবসা করেছেন। ইউসুফকে ৫লাখ টাকা, না ৬ লাখ টাকা দিয়েছেন, জানতে চাইলে রবি এ প্রতিবেদকের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং বলেন, ‘আপনি কিন্ত আমাকে ফোর্স করছেন’। এভাবে হুমকি দিলে আমি ওসিকে (যশোর কোতয়ালি থানার) জানাবো। আপনার কথা কিন্তু রেকর্ড হচ্ছে। এসময় তার (রবির) কথাও রেকর্ড হচ্ছে জানালে তিনি মোবাইল ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।