জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় প্রতিমন্ত্রী অমিত: ধর্মের কারণে কেউ যেন বঞ্চিত বা অতিরিক্ত সুবিধাপ্রাপ্ত না হয়

0
জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় প্রতিমন্ত্রী অমিত
যশোরে শুক্রবার বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন- লোকসমাজ

স্টাফ রিপোর্টার, লোকসমাজ: বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেছেন, সরকার এমন একটি সমাজ গড়ে তোলার চেষ্টা করছে যেখানে ধর্মবিশ্বাসের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষ পিছিয়ে পড়বে না, আবার কেউ অতিরিক্ত সুবিধাও ভোগ করবে না।

শুক্রবার যশোরে শ্রীকৃষ্ণের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে জেলা, সদর উপজেলা ও পৌর পূজা উদযাপন পরিষদ আয়োজিত শোভাযাত্রার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মুন্সী মেহেরুল্লাহ ময়দানে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে তিনি শোভাযাত্রা এবং গৃহীত কর্মসূচির উদ্বোধন করেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “যারা ধর্মকে পুঁজি করে সস্তা রাজনীতির নামে দেশে বিভক্তির রেখা টানতে বা সমাজে অশান্তি সৃষ্টি করতে চাইবে, তারা যে ধর্মবিশ্বাস বা রাজনৈতিক মতাদর্শেরই হোক না কেন, রাষ্ট্র ও সরকারের পাশাপাশি আমরা সামাজিকভাবেও তাদের প্রতিহত করব।”

তিনি আরও বলেন, ধর্ম বিশ্বাস ও চেতনার বিষয়; এটি কখনোই রাজনীতির মাঠে অনৈতিক সুবিধা লাভের হাতিয়ার হতে পারে না।

জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রায় প্রতিমন্ত্রী অমিত
যশোরে প্রদীপ প্রজ্বালন করে জন্মাষ্টমীর শোভাযাত্রার উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিতসহ অতিথিরা- লোকসমাজ

শ্রীকৃষ্ণের জন্মের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, “দ্বাপর যুগের অন্ধকারাচ্ছন্ন ও পাপাচারময় সময়ে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব হয়েছিল। মথুরার কংসের কারাগারে বন্দিদশার সেই কঠিন সময়ে তাঁর জন্ম আমাদের এই বার্তা দেয়—রাতের অন্ধকার যত গভীরই হোক না কেন, ন্যায়ের পথ ধরে মুক্তির আলো আসবেই। এটাই পরম সত্য।”

তিনি বলেন, “সমাজ থেকে সত্য ও বিশ্বাস হারিয়ে গেলেও আশা বেঁচে থাকে। আমরা যদি সেই বিশ্বাসটুকু ধরে রাখতে পারি, তাহলে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর যে প্রত্যাশা নিয়ে আমরা এগিয়ে চলেছি, তা কখনোই দুরাশায় পরিণত হবে না।”

যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য অমিত বলেন, “সরকারের একজন প্রতিনিধি হিসেবে এই যশোরের মাটিতে আমার যতখানি অধিকার রয়েছে, আপনাদের এবং আপনাদের সন্তানদেরও ঠিক ততখানি অধিকার রয়েছে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম এবং যশোর পৌর প্রশাসক রফিকুল হাসান।

সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু ও সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খান খোকন।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভা পরিচালনা করেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ।

এ সময় আরও বক্তব্য দেন জেলা বিএনপির সাবেক সহসভাপতি গোলাম রেজা দুলু, যশোর পৌরসভার সাবেক মেয়র মারুফুল ইসলাম, বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান কল্যাণ ফ্রন্ট যশোর জেলা শাখার আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট দেবাশীষ দাস, রামকৃষ্ণ আশ্রম ও মিশন যশোরের অধ্যক্ষ স্বামী জ্ঞানপ্রকাশানন্দজী মহারাজ, সদর উপজেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি রবিন পাল, সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সরকার এবং পৌর পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উৎপল ঘোষসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।