সঙ্গীরাই গুলি করে ভাইপো রাকিবকে, আটক হয়নি কেউ

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ২৫ মামলার আসামি ভাইপো রাকিবকে গুলি করা নিয়ে শংকরপুর এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। হাসপাতালের বেডে কাতরাতে কাতরাতে হামলাকারী হিসেবে যাদের নাম বলেছেন সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিব তারা সবাই তারই সহযোগী। হামলাকারীরা দিনরাত তার সাথে ছায়ার মত লেগে থাকতো। হামলার দিন গত রোববার সকাল থেকেই তার সাথেই ছিলো। কিন্তু কী কারণে তাকে গুলি করা হয় তা এখনো জানা যায়নি। তবে মাদক ও জুয়ার টাকা নিয়ে সহযোগীদের সাথে দ্বন্দ্বে তাকে গুলি করা হয় বলে এলাকায় প্রচার রয়েছে।

এদিকে শহরের শংকরপুর বেহারা পাড়ায় আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দ্বন্দ্বে দুই দল সন্ত্রাসীর বোমাবাজির রেশ কাটতে না কাটতেই সার গোডাউন এলাকায় আলোচিত সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবকে গুলি করায় চরম আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। তবে পুলিশ দুটি ঘটনার সাথে জড়িত কোনো সন্ত্রাসীকে এখনো আটক করতে পারেনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক সূত্রে জানা যায়, সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবকে গুলি করে হত্যার সাথে জড়িত এক সময়ের আলোচিত মাদক ব্যবসায়ী কাজী তারেকের ছেলে তানভীর, কাজী খালিদের ছেলে ইমন, আতিয়ার রহমান আলতুর ছেলে অনি ও তৈয়বের ছেলে সাব্বির। গুলিবিদ্ধ ভাইপো রাকিবও তাকে হত্যার চেষ্টার সাথে উল্লিখিতরা জড়িত বলে গত রোববার রাতে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন। এদের মধ্যে ইমন তাকে গুলি করেছিলেন।

সূত্র জানায়, তানভীর, ইমন, অনি, সাব্বির এবং ভাইপো রাকিবসহ আরো কয়েকজন সন্ত্রাসী একসাথে চলাফেরা করে থাকেন। তারা মাদক ব্যবসার পাশাপাশি জুয়া খেলা করে থাকেন। ঘটনার দিন গত রোববার সকালে ভাইপো রাকিবের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে আড্ডা দেন তানভীর, ইমন, অনি ও সাব্বির। পরে ভাইপো রাকিবের সাথে তারা ওই বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসেন। এরপর রাত সাড়ে ৯টার দিকে শংকরপুর সার গোডাউন এলাকায় ভাইপো রাকিবের বুকে গুলি করেন সহযোগী ইমন। এ সময় ইমনের সাথে তানভীর, অনি, সাব্বিরসহ আরও কয়েকজন সন্ত্রাসী ছিলেন। ভাইপো রাকিবের বুকের দুই পাশে ২টি এবং একটি গুলি হাতে করা হয়।

এলাকার একটি সূত্র জানায়, সন্ত্রাসী ইমন, তানভীর, সাব্বির ও অনি সদর উপজেলার কৃষ্ণবাটি গ্রামের হৃদয় নামে এক সন্ত্রাসীর কাছে ইয়াবা ট্যাবলেট বিক্রির কয়েক লাখ টাকা পাবেন। কিন্তু তার কাছ থেকে টাকা আদায়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় ভাইপো রাকিব। তাদেরকে টাকা আদায়ে বাধা দিচ্ছেন তিনি। এ কারণে তারা হত্যার উদ্দেশ্যে ভাইপো রাকিবকে গুলি করেন।

অপর একটি সূত্র জানায়, মাদক ব্যবসায়ী কাজী তারেক দীর্ঘদিন ধরে পলাতক থাকার পর নিজ এলাকায় ফিরে এসেছেন। এলাকায় ফিরে তিনি ইয়াবা ট্যাবলেটের ব্যবসা করছেন। ভাইপো রাকিব এবং তার সহযোগী হৃদয়ের কাছে মাদক বিক্রি সংক্রান্ত টাকা পাবেন কাজী তারেক। এ নিয়ে দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হওয়ায় কাজী তারেকের ভাইপো ইমন ও ছেলে তানভীরসহ অন্যরা গত রোববার রাতে আচমকা চড়াও হন ভাইপো রাকিবের ওপর। এ সময় ইমন তাকে গুলি করেন। সূত্র জানায়, গুলিবিদ্ধ ভাইপো রাকিব বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তার শরীর থেকে চিকিৎসকেরা গুলি বের করেছেন।

যোগাযোগ করা হলে কোতয়ালি থানা পুলিশের ইনসপেক্টর (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, গুলিবিদ্ধ সন্ত্রাসী ভাইপো রাকিবের বিরুদ্ধে ২৫টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে বেশি হত্যা মামলা। তিনি বলেন, ভাইপো রাকিবকে গুলি করার ঘটনায় তার পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় এখনো কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি। তবে পুলিশ জড়িত সন্ত্রাসীদের আটকের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

উল্লেখ্য, ওই ঘটনার আগে গত ১৫ জানুয়ারি গভীর রাতে শংকরপুর বেহারা পাড়ায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দ্বন্দ্বে সন্ত্রাসী অনি গ্রুপ এবং সন্ত্রাসী মুসা ও গোল্ডেন সাব্বির গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও বোমাবাজির ঘটনা ঘটে। কিন্তু পুলিশ এখনো পর্যন্ত এ ঘটনার সাথে জড়িত কাউকে আটক করতে পারেনি।