মহশেপুরে কালোমুখো হনুমান রক্ষায় অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবি

0
ছবি: লোকসমাজ।

জিয়াউর রহমান জিয়া,মহেশপুর (ঝিনাইদহ) ॥ ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলার ভবনগর গ্রামের বনাঞ্চলে বসবাস করেছ প্রায় ২০০টি বিরল প্রজাতির কালোমুখো হনুমান। কবে থেকে তাদের বসবাস জানা না থাকলেও, গ্রামের বাসিন্দাদের সঙ্গে এদের গড়ে উঠেছে দারুণ সখ্যতা। সময়ের সাথে সাথে এরা ছুটে বেড়ানো ও মানুষের ফসল নষ্ট করার কারণে অনেকে এদেও ক্ষতি করেন তবে বেশিরভাগ মানুষ এদের নিরাপদ আশ্রয়ে অভয়ারণ্য গড়ে তোলার দাবি জানান।

এলাকার প্রবীণরা মনে করেন বিট্রিশ আমল থেকেই এরা এই গ্রামে দলবদ্ধভাবে বসবাস করে আসছে। এদের মধ্যে বয়োবৃদ্ধ, শিশু ও মধ্যবয়সী হনুমান রয়েছে। যদিও এর আগে হনুমানের সংখ্যা কম ছিলো। সময়ের সাথে সাথে হনুমানের সংখ্যাও বেড়েছে।

এরা দিনের বেলায় একই সাথে কিংবা একাধিক দলে বিভক্ত হয়ে শামকুড় মাঠপাড়া, স্বরুপপুর ও শ্রীনাথপুর গ্রামের মাঠে ঘাটে খাবারের সন্ধানে ঘুরে বেড়ালেও রাত হলে আবারও ফিরে আসে ভবনগর গ্রামে। তবে খাবারের সন্ধানে ফসলের ক্ষতিও করে এসব হনুমান। কেউ কেউ বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে দেখেন, আবার কেউ কেউ ফসল নষ্ট করায় পিটিয়ে আহত করে।

যদিও ২০২০ সাল থেকে বন অধিদপ্তরের প্রচেষ্টায় সরকারিভাবে প্রতিদিন এসব হনুমানদের খাবারের জন্য ১৬ কেজি কলা, দুই কেজি বাদাম, দুই কেজি পাউরুটি (৫০পিচ) ও সবজি দুই কেজি বরাদ্দ করা হয়েছে। আর এসব খাবার হনুমানদের খুঁজে খুঁজে খাইয়ে বেড়ান ভবনগর গ্রামের নাজমুল হাসান। নাজমুলের ডাক শুনতেই হনুমানগুলো ছুটে আসে তার কাছে। নামজুলের হাত থেকে খাবারও খায় তারা নির্ভয়ে।

তবে বন অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে যে খাবার দেওয়া হয় তা দিয়ে ক্ষুধা মেটে না বলে অনেকের দাবি। আগের তুলনায় হনুমান বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য সংকট আরো দেখা দিয়েছে বলে অনেকে মনে করেন। তাই এদের রক্ষায় ও অভয়ারণ্য তৈরির ব্যাপারে সরকারিভাবে উদ্যোগ নেওয়ার দাবি তাদের।

হনুমান দেখভালকারী নাজমুল হাসান বলেন, বন অধদিপ্তর থেকে যে পরিমাণ খাবার দেওয়া হয়, তা চাহিদার তুলনায় খুবই কম। যে কারণে খাবারের সন্ধানে এরা এদিক-সেদিক ছোটা-ছুটি করে’ মানুষের ফসল নষ্ট করছে। এছাড়াও এলাকার বনজঙ্গল কমে যাওয়ায় এরা লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়ছে। বর্তমানে এদের নিরাপদ থাকার জায়গা ও পরিমাণ মত খাবার দরকার।

ভবনগর গ্রামের মিকাইল হোসেন বলেন, দিন দিন এলাকায় গাছ গাছালি কমে বসতভিটা বেড়ে যাওয়ায় হনুমানদের অবাধ বিচরণ বাঁধাগ্রস্ত হচ্ছে। খাবার কম হওয়ায এরা ফসলের ক্ষতি করছে।স্থানীয় মেম্বার জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পরিবেশের ভারসাম্যের জন্যে এখানকার হনুমানগুলো রক্ষা করার জন্য গাছপালা বা বন সৃষ্টি করা একান্ত জরুরি।

বন বিভাগের কর্মকর্তা শফিকুল রহমান বলেন, এসব হনুমানের উপর প্রতিবেদনের ভিত্তিতে খাবার বরাদ্দ করা হয়েছিলো। এরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকে। কিছু সময় সংখ্যায় বেশি হয় ও কিছু সময় কম। তবে যদি এসব হনুমানের রক্ষণাবেক্ষণে অভয়ারণ্য তৈরি করা যায় তাহলে সব থেকে ভালো হবে।