ঝিকরগাছায় বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর গর্ভপাতের অভিযোগ: ধর্ষণ, অর্থ লেনদেন ও চিকিৎসা অনিয়মের অভিযোগে চাঞ্চল্য

0
যশোরের ঝিকরগাছায় বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর ১ লাখ ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে গর্ভপাত ঘটানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনায় জড়িত দুই স্বাস্থ্যকর্মী একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপাচ্ছেন।

তরিকুল ইসলাম, ঝিকরগাছা (যশোর): যশোরের ঝিকরগাছা উপজেলার বাঁকড়া ইউনিয়নের দিগদানা গ্রামের এক বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীকে ধর্ষণের পর গর্ভপাত ঘটানো এবং এ ঘটনায় অর্থ লেনদেনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, এক লাখ ২০ হাজার টাকার চুক্তিতে গর্ভপাতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে এ ঘটনায় জড়িত বলে অভিযুক্ত দুই স্বাস্থ্যকর্মী একে অপরের বিরুদ্ধে দায় চাপাচ্ছেন।

স্থানীয় কয়েকজনের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার (২২ আগস্ট) ঝিকরগাছা প্রেসক্লাবের কয়েকজন সাংবাদিক ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলে অভিযোগের বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য ও বক্তব্য পাওয়া যায়।

স্থানীয় বাসিন্দা নজরুল ইসলামসহ একাধিক গ্রামবাসীর অভিযোগ, অভিযুক্ত হায়দার আলী সম্পর্কে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর মায়ের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় দুই পরিবারের মধ্যে অবাধ যাতায়াত ছিল। সেই সুযোগে তিনি কিশোরীকে যৌন নির্যাতন করেন। পরে কিশোরীর শারীরিক পরিবর্তন দেখা দিলে পরিবারের সদস্যরা গত ২৯ জুলাই তাকে বাঁকড়া একতা মেডিকেল সার্ভিসে নিয়ে যান। সেখানে গাইনি চিকিৎসক ডা. ফেরদৌস ফারহানার পরামর্শে আল্ট্রাসনোগ্রাম করলে জানা যায়, কিশোরী প্রায় ১৭ সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা।

অভিযোগ অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক গর্ভপাতে সম্মতি না দিলে প্রতিষ্ঠানের স্বাস্থ্যসেবিকা খাদিজা খাতুনের মাধ্যমে এক লাখ ২০ হাজার টাকার বিনিময়ে শার্শা উপজেলার সাতমাইল বাজারের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে গর্ভপাতের ব্যবস্থা করা হয়।

স্বাস্থ্যসেবিকা খাদিজা খাতুন দাবি করেন, সাতমাইল বাজারের মাতৃসেবা ক্লিনিকের মালিক ডাঃ নাসরিন হক (এস.এম.এফ.বি) গর্ভপাতের কাজটি সম্পন্ন করেছেন। তবে ওই চিকিৎসক নাসরিন হক এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, রোগীকে খাদিজা খাতুন তার কাছে নিয়ে এলেও তিনি গর্ভপাত করেননি; বরং খাদিজা খাতুন নিজেই এ কাজ করেছেন।

তিনি পাশকৃত ডাক্তার কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে নাসরিন হক বলেন, তিনি প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। প্রেসক্রিপশন প্যাড ডাক্তার লেখার বিষয় জানতে চাইলে ও প্রতিবন্ধী গর্ভপাত ঘটানোর বিষয় ভিডিও নিতে চাইলে তিনি কোন ডকুমেন্ট দিতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে বাঁকড়া একতা মেডিকেল সার্ভিসের পরিচালক মোহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ বলেন, “আমাদের প্রতিষ্ঠানে শুধুমাত্র আল্ট্রাসনোগ্রাম করা হয়েছে। গর্ভপাতের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”

বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর মা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, তার স্বামী নেই এবং তার ছেলে ও মেয়ে দুজনই বাকপ্রতিবন্ধী। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করে বলেন, “গ্রামের মানুষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটাই মেনে নেব।”
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, চুক্তি অনুযায়ী এক লাখ ২০ হাজার টাকা পরিশোধ না করা এবং বিষয়টি জানাজানি হওয়ার জেরে বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর খালু নজরুল ইসলামকে মারধর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাঁকড়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মো. শহিদুল ইসলাম বলেন, তিনি এ ঘটনার বিষয়ে অবগত নন।

স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং বাকপ্রতিবন্ধী কিশোরীর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।