চৌগাছায় ৫০ বছরেও হয়নি রাস্তার পাকাকরণ দুর্ভোগে ১০ গ্রামের হাজারও মানুষ

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু,চৌগাছা (যশোর) ॥ চৌগাছায় মাত্র দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা গত ৫০ বছরেও পাকাকরণ না হওয়ায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন ১০ গ্রামের হাজারও মানুষ। এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত রাস্তাটি যেন পাকাকরণ করা হয়।

উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের বড়দিঘড়ী দাখিল মাদ্রসা মুক্তিসড়ক হতে জলকামাধবপুর পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার কাঁচা রাস্তায় স্বাধীনতার পঞ্চাশ বছরেও পড়েনি একটিও ইট। গ্রামীণ কাঁচা রাস্তাটি এ অঞ্চলের অন্তত ১০ গ্রামের হাজারও মানুষের চলাচলের মাধ্যম। শুধু চলাচল না, কৃষক তার উৎপাদিত ফসল মাঠ হতে বাড়িতে এবং বাড়ি হতে বাজারজাতকরণে রাস্তাটি ব্যবহার করেন। কিন্তু বছরের বার মাসই রাস্তাটি থাকে চলাচলের অনুপযোগী। আর বর্ষা মোৗসুম শুরু হলে এটি জনগণের গলার কাঁটায় রুপ নেয়।

শনিবার সরেজমিনে দেখা গেছে, গত কয়েক দিনের বৃষ্টিতে রাস্তাটির গর্ত হয়ে বেশ কিছু স্থানে ২ থেকে ৩ ফুট গভীর হয়ে গেছে। সব থেকে বেশি কষ্ট হচ্ছে স্কুলগামী কোমলমতি শিক্ষার্থীদের। তারা এই সড়ক দিয়ে যায় বিদ্যালয়ে, এ সময় কেউ পা পিছলে কাদায় পড়ে যায়। ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে অভিভাবকরা বৃষ্টি হলে শিশুদের স্কুলে পাঠানো বন্ধ করে দেন।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫০ বছরেও ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটিতে সরকার একটি ইটও ফেলেনি। এ রাস্তা দিয়ে স্থানীয় দিঘড়ী, মাশিলা, লক্ষ্মীপুর, কাঁকুড়িয়া, মাকাপুর, সাঞ্চাডাঙ্গা, বল্লভপুর, হিজলী, মাঠপাড়া, দেবুলা গ্রামের হাজারও মানুষের চলাচল। এখানে আছে একটি মাদ্রাসা, একটি সরকারি চিকিৎসা কেন্দ্র।

এ সকল প্রতিষ্ঠানে মানুষের যাতায়াতে অভাবনীয় কষ্ট ভোগ করতে হয়। দিঘড়ী দাখিল মাদ্রাসা পরিচালনা পরিষদের সদস্য নজরুল ইসলাম বলেন, রাস্তাটি আমাদের জন্য মনে হচ্ছে গলার কাঁটায় পরিণত হয়েছে। সব বয়সের মানুষের কষ্টের কোনো শেষ নেই, বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীরা বেজায় কষ্টে আছে।

সংশ্লিষ্ঠ মাদ্রাসার শিশু শিক্ষার্থী লিখন হোসেন, আরাফাত হোসেন, ফারজানা মিম, সুমাইয়া খাতুন বলে, রাস্তাটিতে গর্ত তৈরি হয়ে গেছে, আমরা বৃষ্টি হলে মাদ্রসায় যেতে পারি না। যারা কষ্ট করে যাতায়াত করছে তারা প্রায় দিনই এই কাদার মধ্যে পড়ে যাচ্ছে, তাই আমরা রাস্তাটি পাকাকরণের দাবি জানাচ্ছি।

গৃহবধূ রিনা খাতুন বলেন, প্রয়োজন ছাড়া মানুষ এখন রাস্তাটি ব্যবহার করা প্রায় বন্ধ করে দিয়েছে। যারাই চলাচল করছে তারাই পড়ছে বিপদে। তাই আমার দাবি গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি দ্রুতই পাকাকরণ করা হোক।

গ্রামের পশু চিকিৎসক সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিক বলেন, রাস্তার এই বেহালদশা অনেকেই জানেন, কিন্তু আমাদের কষ্টের কথা বিবেচনা করে কেউ এগিয়ে আসেনি। আমরা ভিষণ কষ্টে আছি একটি রাস্তার কারণে। তাই সরকারের কাছে আকুল আবেদন গুরুত্বপূর্ণ রাস্তাটি দ্রুতই যেন পাকা করা হয়।

ইজিবাইক চালক রায়হান উদ্দিন, ভ্যানচালক শাহ আলম সড়কের ভয়াবহের চিত্র তুলে ধরে বলেন, আমরা গরিব মানুষ গাড়ির চাকা ঘুরলে সংসারের চাকা সচল থাকে, আর না ঘুরলে অচল। তাই কাদামাটি গর্ত সব কিছুকে উপেক্ষা করেই নেমে পড়ি সড়কে, নিদারুণ কষ্টে চলাচল করি।

স্বরুপদাহ ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান নুরুল কদর বলেন, গোটা ইউনিয়নের বেশ কিছু সড়কের বেহালদশা। বারবার উপজেলাকে অবহিত করেছি, মাপামাপিও হয় কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না। ইউনিয়নের কাঁচা রাস্তাগুলো দ্রুতই পাকাকরণের দরকার বলে তিনি মনে করেন।