শ্যামনগরে ভুয়া ওয়ারেন্টে হয়রানি আটকের ৩৬ ঘণ্টা পর মুক্ত ২ জন

0

শ্যামনগর (সাতক্ষীরা) সংবাদদাতা॥ সাতক্ষীরার শ্যামমগরে ভুয়া ৬টি ওয়ারেন্টে দুই জনকে আটকের ৩৬ ঘণ্টা পর মুক্তি দেয় পুলিশ। এদিকে ভুয়া ওয়ারেন্টের সাথে জড়িত এক জনকে আটকের পর ছেড়ে দেয়ায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। গত ১০ জানুয়ারি সকাল ১১টায় শ্যামনগর থানার এএসআই নেহার শ্যামনগর সদর ইউনিয়নের সোয়ালিয়া গ্রাম থেকে ওয়ারেন্ট দেখিয়ে দুই জনকে আটক করে থানায় নেয়। ৩৬ ঘন্টা থানায় আটক রেখে যাচাই-বাছাইয়ে ওয়ারেন্ট ৬ টি ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। আটক এ দুই জন হলেন উপজেলার সোয়ালিয়া গ্রামের মোঃ আবুল হোসেনের ছেলে মোঃ ইয়াছিন মোড়ল ও কুদ্দুস গাইনের ছেলে মেহদী হাসান। স্থানীয় আনছার আলী জানান, মোটরসাইকেলে সাদা পোশাকে শ্যামনগর থানার এএসআই নেহার মোবাইল ফোনে সংরক্ষিত ছবি বরিশাল আদালতের ওয়ারেন্ট দেখিয়ে ইয়াছিন মোড়ল ও মেহদী হাসানকে হাতকড়া পরিয়ে টেনে হিচড়ে থানায় নিয়ে যান। এএসআই নেহার জানান, ইয়াছিন মোল্লা ও মেহদী হাসানকে নারী শিশু ৪১৩/২০ দন্ডবিধি ১১(ক)/১ যুগ্ম দায়রা জজ আদালত(১) বরিশাল, জি আর ৬৯৭/২০ দায়রা জজ ২য় আদালত দন্ডবিধি ৪২০/৫০৬ বরিশাল । জি আর ৪৫/২০ মাদকদ্রব্য -১০/(ক) ২য় আদালত বরিশাল এই ৬ টি মামলায় গ্রেফতার করা হয়েছিল। পরে ওয়ারেন্ট ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় তাদের ছেড়ে দেয়া হয়। ইয়াছিন ও মেহেদী জানান, আমরা কখনো বরিশাল জেলায় যাইনি এবং এসব মামলার সাথে আমরা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কোন ভাবেই জড়িত না । এই গ্রেফতারি পরোয়ানা জাল হতে পারে। এমন জাল ওয়ারেন্ট, ভিন্ন জেলার জাল মামলার শিকার সোয়ালিয়া গ্রামের অনেকেই।  ইয়াছিন জানান, সোয়ালিয়া গ্রামের মৃত মোকছেদ গাজীর ছেলে আব্দুর রাজ্জাক, মৃত কালু গাজীর ছেলে মোকছেদ, মৃত আত্তাব গাজীর ছেলে তরিকুল ও দেবিপুর গ্রামের মনিন্দ্র নাথ মন্ডলের ছেলে সুব্রত এই জাল চক্রের সাথে দীর্ঘ দিন ধরে জড়িত বলে গ্রামবাসী জানে। এঘটনায় এএসআই নেহার জাল চক্রের সদস্য আব্দুর রাজ্জাককে আটক করে থানা নিয়ে আসলেও তাকে আবার ছেড়ে দেয়া হয়। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শ্যামনগর থানার ওসি নূর ইসলাম বাদল বলেন, ভুয়া ওয়ারেন্ট বানানোর চক্রদের আটক পূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।