শৈলকুপায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ, অতিবৃষ্টিতে ক্ষতির শংকা

0

মফিজুল ইসলাম, শৈলকুপা (ঝিনাইদহ)॥ চলতি আমন মৌসুমে শৈলকুপা উপজেলায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ধান আবাদ করেছেন কৃষক। ঘন ঘন বৃষ্টির কারণে কৃষকের পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় আবাদকৃত নিচু এলাকার ধান পানিতে ডুবে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে কৃষকরা জানান।

শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি আমন মৌসুমে ঝিনাইদহ জেলার শৈলকুপা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা মিলে ২৪ হাজার ৯শ ৪০ হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। যার উৎপাদন লক্ষ্যমাত্র ধরা হয়েছে ১ লাখ ৪৯ হাজার ৬শ ৪০ মেট্রিক টন। এ বছর ধানের অধিক ফলনের জন্যে কৃষকরা ধানি গোল্ড, ১৬১৯,বিনা – ৭, বিন- ৮৪, ভিত্তি-৭৫, ভিত্তি-১০৩, বিনা-৮৭, হাইব্রিড-১৭০৭, হাইব্রিড এজেড,৭০০৬-সহ বিভিন্ন জাতের ধান আবাদ করেছেন। সরকারিভাবে ১২শ কৃষকের মধ্যে পাঁচ কেজি করে বীজ ও ২০ কেজি করে সার বিতরণ করা হয়েছে। তবে পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় অধিক পরিমাণে বৃষ্টি হওয়ায় নিচু জমিতে আবাদ করা ধান ক্ষেতের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। ইতিমধ্যে উঁচু জমিতে আবাদ করা কিছু জমির ধান পাকতে শুরু করেছে।

ধলহরাচন্দ্র গ্রামের কৃষক শফিউল ইসলাম ও হাঁটুভাঙা গ্রামের বিপুল মন্ডল জানান, অধিক বৃষ্টির কারণে আমাদের নিচু জমিতে আবাদ করা ধান পানিতে ডুবে নষ্ট হয়ে গেছে। সমিতি থেকে লোন নিয়ে আবাদ করেছিলাম ২ শতক জমিতে। কিন্তু অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে প্রায় ৮০শতক জমির ধান নষ্ট হয়ে গেছে।
কুশবাড়িয়া গ্রামের কৃষক আতিয়ার রহমান খান জানান, অতিরিক্ত মাজরা পোকার কারণে ধানের উৎপাদন কম হবে। ৪/৫ বার ওষুধ দিয়েও মাজরা পোকার আক্রমণ ঠেকানো যায়নি।

এ বিষয়ে শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসার আকরামুজ্জামান জানান, অন্যান্য বছরের চেয়ে এ বছর ধানের উৎপাদন বেশি হবে শৈলকুপায়। মাজরা পোকা ও অতিবৃষ্টির কারণে চাষিদের আবাদ করা ধানের কিছু ক্ষতি হয়েছে । আমরা চাষিদের নিয়ে গ্রাম পর্যায়ে বিভিন্ন দিক নির্দেশনামূলক পরামর্শ দিচ্ছি।