শীতে বিপন্ন মানুষ উষ্ণতার খোঁজে

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ টানা শীতের দাপটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে যশোরের জনজীবন। দিনের পর দিন তাপমাত্রা দেশের সর্বনিম্ন পর্যায়ে অবস্থান করায় কনকনে ঠান্ডা আর হিমেল হাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠছে মানুষের। ঘন কুয়াশার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শীতবস্ত্রের তীব্র সংকট।

এই শীতে সবচেয়ে করুণ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন জেলার ছিন্নমূল ও প্রান্তিক মানুষ, যাদের জন্য রাত মানেই নতুন এক যুদ্ধ। এরপরেও সরকারিভাবে ১৫ হাজার কম্বল বিতরণ করা হয়েছে। বেসরকারি ও ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হলেও উষ্ণতার সন্ধান করে ফিরছেন হাজারো মানুষ।

আবহাওয়া অফিস সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে যশোরে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৭ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে ওঠানামা করছে। রোববার ছিল ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি। এর আগে কোনো কোনো দিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রাও রেকর্ড হয়েছে এই জেলায়। যদিও মাঝে মাঝে তাপমাত্রা সামান্য বেড়েছে, তাতে শীতের তীব্রতা কমেনি।

বিশেষ করে ভোর ও সন্ধ্যার পর থেকে ঠান্ডার প্রকোপ অসহনীয় হয়ে উঠছে।

শনিবার রাত থেকেই যশোর শহরজুড়ে ঘন কুয়াশার চাদর নেমে আসে। ভোরের দিকে দৃশ্যমানতা নেমে আসে কয়েক মিটারে। সকালে সূর্যের দেখা মিললেও তার আলো ছিল ক্ষীণ, যা শীতের তীব্রতা কাটাতে পারেনি। বেলা বাড়ার সঙ্গে কুয়াশা সরে গেলেও বাতাসে হিমেল ভাব রয়ে যায়। ফলে মানুষজন প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের হতে চাইছেন না।

তবে ঘরে থাকার সুযোগ নেই ছিন্নমূল মানুষের। শহরের রেলস্টেশন, বাস টার্মিনাল, ফুটপাত, বাজার এলাকা ও অফিস-আদালতের বারান্দায় রাত কাটানো মানুষগুলো এই শীতে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। অনেকের গায়ে গরম কাপড় তো দূরের কথা, একটি কম্বলও নেই। ঠান্ডা থেকে বাঁচতে তারা কাগজ, খড়কুটো কিংবা কাঠ জ্বালিয়ে আগুন পোহানোর চেষ্টা করছেন।

শীতের তীব্রতায় শিশু ও বৃদ্ধদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি। পর্যাপ্ত শীতবস্ত্রের অভাবে তারা সর্দি, কাশি ও জ্বরে আক্রান্ত হচ্ছেন। চিকিৎসা নেওয়ার সামর্থ্য না থাকায় অনেকেই অসুখ নিয়েই দিন কাটাচ্ছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করছেন, শীতবস্ত্র বিতরণ প্রয়োজনের তুলনায় খুবই অপ্রতুল। সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে কিছু কম্বল বিতরণ করা হলেও তা সব অসহায় মানুষের কাছে পৌঁছাচ্ছে না। অনেক এলাকায় এখনও কোনো সহায়তা পৌঁছেনি।

রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি যশোরের সাধারণ সম্পাদক জাহিদ হাসান টুকুন বলেন, প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে অন্যান্য বারের ন্যায় এ বছরও শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। তবে মানুষের চাহিদা অনুযায়ী বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

যশোরের জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৮টি উপজেলায় দুস্থ ও শীতার্ত মানুষের মাঝে মোট ১৪ হাজার ৬৬৯টি কম্বল বিতরণ কার্যক্রম চলছে। এর মধ্যে যশোর জেলা ত্রাণ তহবিল থেকে ৯ হাজার ৬৯৬টি এবং প্রধান উপদেষ্টার ত্রাণ তহবিল থেকে ৫ হাজার কম্বল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

প্রতিটি উপজেলায় শীতবস্ত্র ক্রয়ের জন্য ৬ লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, যা দিয়ে ১ হাজার ২১২টি করে কম্বল ক্রয় করা হয়েছে। এর সাথে প্রধান উপদেষ্টার তহবিলের ৫০০টি যোগ হয়ে প্রতিটি উপজেলায় মোট ১ হাজার ৭১২টি করে কম্বল বিতরণের কাজ চলমান রয়েছে। মূলত ভূমিহীন, দিনমজুর, রিকশাচালক, প্রতিবন্ধী, বিধবা এবং বয়স্ক ব্যক্তিদের এই কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা শেখ আবদুল কাদের বলেন, ‘শীতের তীব্রতা বাড়ার আগেই আমরা এই উদ্যোগ নিয়েছি। প্রান্তিক মানুষের কষ্ট লাঘবে সরকারি প্রচেষ্টার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদেরও এই সংকটময় সময়ে পাশে দাঁড়ানো উচিত।’