দ্বিগুণ দামে সবজি বিক্রি, স্বস্তি ফেরেনি মাছ-মাংসে

0
ছবি: সংগৃহীত।

শেখ আব্দুল্লাহ হুসাইন ॥ আড়ত থেকে কাঁচামাল কিনে বিক্রেতাদের বিরুদ্ধে দ্বিগুণ দামে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। ভোক্তাদের অভিযোগ খুচরা সবজি বিক্রেতারা ইচ্ছেমত দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। ফলে পাইকারি বাজার স্থিতিশীল থাকলেও ক্রেতাদের গুণতে হচ্ছে কাড়ি কাড়ি টাকা।

এদিকে, কুরবানি ঈদের পরেও বাজারে খামারের মুরগির দামে স্বস্তি ফেরেনি। বিভিন্ন ধরনের মাছের দামও বেশি। মাংসের দামও রয়েছে অপরিবর্তিত। তবে এ সপ্তাহে কমেছে ডিমের দাম। রোববার যশোর শহরের বড় বাজার ঘুরে এমন চিত্র দেখা যায়।

বড় বাজারে ‘মনিরামপুর ভাণ্ডার’-এর আড়তদার মো. আলাউদ্দিন লোকসমাজকে জানান,তিনি রোববার ঢ্যাঁড়স পাইকারি দরে প্রতি কেজি ১৫ থেকে ১৮ টাকা, পেঁপে ১৬ থেকে ২০ টাকা, বরবটি ৪০ টাকা, লাউ প্রতিটি ২৫ থেকে ৩৫ টাকা, উচ্ছে প্রতি কেজি ৫০ টাকা,কুশি ২৫ টাকায় বিক্রি করেছেন।

কিন্তু খুচরা বাজারে চিত্র দেখা গেছে ভিন্ন। ঢ্যাঁড়স বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ২০ থেকে ৩০ টাকা, পেঁপে ৩০ থেকে ৪০ টাকা, বরবটি ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ প্রতিটি ৫০ টাকা, উচ্ছে প্রতি কেজি ৬০ থেকে ৮০ টাকা, কুশি ৩০ থেকে ৪০ টাকা। এছাড়া কাঁটা বেগুন প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১২০ টাকা, টমেটো ১২০ থেকে ১৪০ টাকা, গাজর ১০০ থেকে ১২০ টাকা, মুখিকচু ৫০ থেকে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৪০ থেকে ৫০ টাকা,শসা ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাগজিলেবু প্রতি হালি ৮ থেকে ১০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

বড় বাজার এইচএমএম রোডের ‘নিতাই গৌর ভাণ্ডার’-এর আড়তদার নিতাই সাহা জানান, তিনি রোববার দেশি পেঁয়াজ মানভেদে প্রতি কেজি ২৪ থেকে ২৬ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। অথচ বাজারে খুচরা বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৩৫ টাকা।

নিতাই সাহা আরও জানান, বর্তমানে দেশে টানা তাপপ্রবাহ চলার কারণে নষ্ট হওয়ার আশঙ্কায় চাষি ও মজুতদাররা তাদের মজুদ করা পেঁয়াজ বিক্রি করে দিচ্ছেন। এজন্য বর্তমানে বাজারে দাম কমেছে।

এদিন সকালে বাজার করতে আসা ক্রেতা শহরের বারান্দিপাড়ার বাসিন্দা বেসরকারি চাকরিজীবী মহসিন আলী জানান, সাম্প্রতিককালে প্রাকৃতিক কোনো বড় ধরনের দুর্যোগ না ঘটলেও খুচরা সবজি বিক্রেতারা তাদের স্বস্তিতে থাকতে দিচ্ছে না। তিনি এর জন্য সরকারের বাজার তদারকি ব্যবস্থার ঘাটতির কথা উল্লেখ করেন।

এদিকে, বড় বাজারে খামারের মুরগির দামেও মিলছে না স্বস্তি। রোববার লেয়ার মুরগির কেজি ৩৫০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩০০ টাকা ও ব্রয়লার মুরগি ১৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মাংসের দামও রয়েছে অপরিবর্তিত।

বড় বাজার কাঠেরপুলে গরুর মাংস প্রতি কেজি মানভেদে ৭৫০ থেকে ৭৮০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছে। মাংস বিক্রেতা শওকত আলী বাবু জানান, কুরবানি ঈদের পর থেকে ক্রেতাদের অভাবে তাদের এখানে অনেক মাংসের দোকান এখনও বন্ধ রয়েছে। বেচাকেনায় মন্দাভাব।

বড় বাজার মাছের বাজারেও অস্বস্তি বিরাজ করছে। রোববার খুচরা মাছ বিক্রেতা আনিসুর রহমান আনিস জানান, দেশি ট্যাংরা ৭০০ টাকা, চাষের ট্যাংরা ৪৫০ টাকা, বাগদা চিংড়ি ৮৫০ থেকে ১০০০ টাকা, গলদা চিংড়ি ১২০০ থেকে ১৪০০ টাকা, দেশি শিং ১০০০ থেকে ১২০০ টাকা, চাষের শিং ৪০০ টাকা, তিন কেজি ওজনের রুই মাছের কেজি ৪০০ থেকে ৪৫০ টাকা, ৪/৫ কেজি ওজনের কাতল মাছের কেজি ৪৫০ থেকে ৫০০ টাকা, তেলাপিয়া ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

অপরদিকে বড় বাজারে খাসির মাংসের কেজি বিক্রি হচ্ছে ১২শ টাকা। তবে মাদি ছাগলের মাংস (কথিত খাসির মাংস) বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার থেকে ১১শ টাকা কেজি।

তবে শুধুমাত্র মুরগির ডিমে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। রোববার বড় বাজারের ‘শুভ স্টোর’-এর স্বত্বাধিকারী শুভ দেবনাথ ও অপর ব্যবসায়ী আবু কালাম জানান, খামারের মুরগির ডিমের হালি ৩৮ থেকে ৪০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।