শিরোমণি ক্যাবল শিল্পের ইউনিয়ন নেতাদের বিরুদ্ধে কল্যাণ তহবিলের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ

0

ফুলবাড়ীগেট (খুলনা) সংবাদদাতা ॥ খুলনার শিরোমণি শিল্পাঞ্চলের বাংলাদেশ কেবল শিল্প (বাকেশি) লিমিটেডের বর্তমান ক্ষমতাসীন কর্মচারী ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দের বিরুদ্ধে কর্মচারীদের কল্যাণ ফান্ডের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে ইউনিয়নের একজন সাধারণ সদস্য খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালকের দফতরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানের কর্মচারীগণ প্রায় ৩৫ বছর আগে বাকেশি শ্রম কল্যাণ ট্রাস্ট ফান্ড নামের একটি কল্যাণ তহবিল গঠন করে সোনালী ব্যাংকে একটি হিসাব খোলেন। প্রতি কর্মচারীর কাছ থেকে ৬০টাকা করে কর্তন করে ব্যাংকে জমা করা হয়। ২০১৮ সালের ২৯ নভেম্বর নির্বাচনে বর্তমান সিবিএ নেতৃবৃন্দকে ওই ফান্ডে ৯৬ হাজার ৮৬৯ টাকা বুঝিয়ে দেন। বর্তমান সিবিএ’র সভাপতি আব্দুল কাদের ও সাধারণ সম্পাদক বেগ কামরুজ্জামানের স্বাক্ষরে ২০১৯ সালের ২ জুলাই ১০ হাজার টাকা, ৭ জুলাই ৫০ হাজার টাকা এবং ৭ অক্টোবর ৯ হাজার টাকা তিন কিস্তিতে ব্যাংক থেকে মোট ৬৯ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিজেরা আত্মসাৎ করেছেন বলে মোড়ল মুজিবর নামের এক সদস্য অভিযোগ করেছেন । এছাড়া ইউনিয়নের নেতৃবৃন্দ প্রতি বছর একটি বার্ষিক সাধারণ সভার মাধ্যমে সংগঠনের সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপনের কথা থাকলেও বর্তমান সিবিএ ২০১৮ সালে ক্ষমতায় আসার পর থেকে আজ পর্যন্ত এজিএম বা একটিও সাধারণ সভা করেননি। এমনকি আয়-ব্যয়ের কোনো হিসাবও এ পর্যন্ত দাখিল করেননি। সংগঠনের পরিপন্থি কার্যকলাপ ও দুর্নীতির বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য খুলনা বিভাগীয় শ্রম পরিচালকের দপ্তরে গত ২০ সেপ্টেম্বর লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে সিবিএ’র সভাপতি আব্দুল কাদের খান তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ এড়িয়ে গিয়ে বলেন, ফ্যাক্টরির মাননিয়ন্ত্রণ বিভাগের জহির ও উৎপাদন বিভাগের মির্জা শাহজাহানের টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করে সেক্রেটারি বেগ কামরুলের ড্রয়ারে রাখা আছে। যাদের টাকা তারা আজ আসে কাল আসে করে না আসায় দেওয়া হয়নি। যাদের টাকা তাদের নামে চেক না দিয়ে নিজেরা কেন টাকা ব্যাংক থেকে উত্তোলন করেছেন এবং উত্তোলন করে এক বছর কেন ড্রয়ারে টাকা রেখে দিলেন না এর কোন উত্তর না দিয়ে তিনি বলেন, সব কিছু নিয়ন্ত্রণ করে সেক্রেটারি। দুই বছর যাবত সাধারণ সভা বা আয়-ব্যয়ের হিসাব না দেওয়ার বিষয়ে তিনি নিজের কিছু সমস্যা এবং করোনাভাইরাসের প্রার্দুভাবকে দায়ী করেন। তিনি বলেন, আসন্ন নির্বাচনের জন্য বিরোধী পার্টি তাদের বিরুদ্ধে সুযোগ খুঁজে মিথ্যা অভিযোগ করছে। এ ব্যাপারে শ্রম পরিচালক মিজানুর রহমান বলেন, একটি অভিযোগ আমার কাছে এসেছে। কিন্তু জরুরি কাজে আমি খুলনার বাইরে ব্যস্ত থাকায় এটি দেখতে পারিনি। আগামী মঙ্গলবার ঢাকা থেকে ফিরে এসে অভিযোগটি দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।