রাজগঞ্জে হলুদ প্রকৃতি জানান দিচ্ছে সরিষার বাম্পার ফলনের সম্ভবনা

0

ওসমান গণি, রাজগঞ্জ (যশোর) ॥ যশোরের মনিরামপুর উপজেলার পশ্চিমাঞ্চলের রাজগঞ্জের বিস্তীর্ণ এলাকার ফসলি মাঠ সরিষা ফুলে ছেয়ে গেছে। ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে এ অঞ্চলে প্রকৃতির রূপও বদলে গেছে। সেই সাথে বদলেছে ফসলের ধরনও। সবুজ প্রকৃতি এখন যেন হলুদ রঙ ধারণ করেছে। দিগন্ত জুড়ে সরিষা ফুলের নয়নাভিরাম দৃশ্য শোভা পাচ্ছে।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলায় বিভিন্ন জাতের ২২শ ১০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের তুলনায় ৮শ ৯ হেক্টর বেশি। এবার সরিষার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিলো ২ হাজার হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে বিনা-১৪ জাতের সরিষা ১৮শ ১১ হেক্টর। বিনা-১৮ জাতের সরিষা ৫০ হেক্টর ও বিনা-৭ জাতের সরিষা ৩শ ৪৯ হেক্টর চাষ হয়েছে। তবে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে চলতি মৌসুমে আটশ নয় হেক্টর জমিতে উচ্চফলনশীল জাতের সরিষার চাষ বেশি হয়েছে। এদিকে আবহাওয়া অনুকুলে থাকলে এবার উচ্চ ফলনশীল জাতের এ সরিষার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছে উপজেলা কৃষি অফিস।
সরজমিনে দেখা গেছে, ফসলের মাঠে মাঠে এখন সরিষা ফুলের হলুদ রঙের সমারহ। চারিদিকে হলুদ গালিচা বিছিয়ে যেনো অপরূপ সাজে সেজেছে পল্লীর প্রকৃতি। সরিষা ফুলের মৌ- মৌ গন্ধ আর মৌমাছিদের গুঞ্জরণে মুখরিত হচ্ছে বিস্তীর্ণ ফসলি মাঠ।
ঝাঁপা ইউনিয়নের হানুয়ার গ্রামের কৃষক টগর হোসেন, লিটন হোসেন, আশিকুর রহমান, আজিম উদ্দিন, মিজানুর রহমান ও কোমলপুর গ্রামের মিলন কুমার, প্রভাষ কুমার, জীবন রতন জানান, তারা তিন একর জমিতে উচ্চ ফলনশীল সরিষার চাষ করেছেন। বিঘা প্রতি তাদের খরচ হয়েছে দেড় থেকে দুই হাজার টাকা। সরিষা ক্ষেতে কোন প্রকার রোগ -বালাই না থাকায় এবার বাম্পার ফলন হবে বলে আশা করছেন তারা।
মশ্মিমনগর ইউনিয়নের রাজবাড়ি গ্রামের স্বপন কুমার জানান, চলতি মৌসুমে তিনি এক বিঘা জমিতে উচ্চ ফলনশীল জাতের সরিষার চাষ করেছেন।
ঝাঁপা ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি অফিসার ভগিরাত কুমার চন্দ্র জানান, চলতি মৌসুমে এ এলাকার সরিষা চাষিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। সঠিক সময়ে পরামর্শ দেওয়ায় কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।