শিক্ষার্থীদের ঢাল বানিয়ে একটি মহল ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টায় রয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

0
সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এইচএসসি পরীক্ষা ও চলমান আন্দোলন নিয়ে সরকারের অবস্থান ব্যাখ্যা করছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।। ছবি: সংগৃহীত

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার মধ্যে গত সোমবার এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা নেওয়ার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলনকে সামনে রেখে কেউ কেউ ‘ঘোলা পানিতে মাছ শিকার’ করতে চায় বলে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারকে বিব্রত করতে একটি মহল যে সক্রিয় রয়েছে, তা এখন স্পষ্ট ও দৃশ্যমান। এই মহলটি নিজেদের পরিচয় গোপন রেখে শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে দিয়ে এ আন্দোলন পরিচালনা করছে।

আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এসব কথা বলেন।

শিক্ষার্থীদের চলমান আন্দোলন সম্পর্কে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাঁরা বর্তমানে রাজপথে আন্দোলন করছেন, তাঁদের মধ্যে একটা বড় অংশই প্রকৃত পরীক্ষার্থী নন। পরীক্ষা নেওয়ার যৌক্তিকতা ও সার্বিক বিষয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে তাদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে। আর যাঁরা প্রকৃত পরীক্ষার্থী, তাঁরা সরকারের এই ব্যাখ্যায় সম্পূর্ণ সন্তুষ্ট আছেন এবং এর ফলে উদ্ভূত সমস্যার সমাধান হয়ে গেছে। আন্দোলনকারীদের সংখ্যা খুব বেশি না হওয়ায় এই তৎপরতাকে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে পূর্ববর্তী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, সেই সময়ে সচিবালয়ে জোরপূর্বক ঢুকে দাবি আদায়, পরীক্ষা স্থগিত করা কিংবা বিনা পরীক্ষায় পাসের মতো একটি ‘অপসংস্কৃতি’ তৈরি হয়েছিল। বর্তমান সময়েও সেই নেতিবাচক প্রবণতার ধারাবাহিকতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার কোনো অবস্থাতেই দেশের শিক্ষার মান ক্ষুণ্ন হতে দেবে না এবং সম্পূর্ণ নকলমুক্ত পরিবেশে পরীক্ষা সম্পন্ন করবে। বাংলাদেশের শিক্ষার মান পুনরুদ্ধার করে একটি জ্ঞানসমৃদ্ধ, প্রযুক্তিনির্ভর ও বিশ্বমানে প্রতিযোগিতামূলক জাতি গড়ে তোলাই এই সরকারের মূল লক্ষ্য।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানে পতন হওয়া এবং বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ দল আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের শিক্ষানীতির সমালোচনা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সেই সময় অটো পাস, অতিরিক্ত নম্বর দেওয়া এবং ঢালাওভাবে জিপিএ-৫ দেওয়ার এক ক্ষতিকর সংস্কৃতি তৈরি করা হয়েছিল। এসব রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশের শিক্ষার মান মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। বর্তমান সরকার এখন সেই বিপর্যস্ত পরিস্থিতি থেকে শিক্ষাব্যবস্থাকে বের করে আনতে কাজ করছে।