শিক্ষকের ৫ লাখ টাকা খোয়া, সৌদি মুদ্রা প্রতারক আটক

0
প্রতারক মো. বিপুল পেয়াদা (৩৭)।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে একজন স্কুলশিক্ষকের কাছ থেকে প্রতারণার মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় সৌদি আরবের মুদ্রা রিয়াল প্রতারকচক্র। গত মঙ্গলবার ওই চক্রের এক সদস্যকে ধরে পুলিশে দিয়েছেন স্থানীয় লোকজন। শহরের বারান্দী পাড়া খালধার রোড আখপট্টি থেকে তাকে আটক করা হয়। বুধবার তাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে পুলিশ।

আটক প্রতারকের নাম মো. বিপুল পেয়াদা (৩৭)। তিনি গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার আইকদিয়া গ্রামের মো. ইউনুস পেয়াদার ছেলে। বর্তমানে যশোরে শহরের ঘোপের একটি বাড়িতে ভাড়া থাকেন।

পুলিশ জানায়, প্রতারণার মাধ্যমে ৫ লাখ টাকা নিয়ে চম্পট দেওয়ার ঘটনায় গত মঙ্গলবার রাতে কোতয়ালি থানায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী স্কুলশিক্ষক জাকারিয়া হোসাইন (৩৪)। তিনি বাঘারপাড়া উপজেলার মথুরাপুর গ্রামের আব্দুল হাইয়ের ছেলে এবং সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মামলায় তিনি বিপুল পেয়াদাসহ আরও দুই জনকে আসামি করেছেন।

অপর দুই আসামি হলেন, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার আইকদিয়া গ্রামের মৃত আফতাব ফকিরের ছেলে ওবাইদুল ফকির (৩৬) ও তুলসিরামপুর গ্রামের জুয়েল মিয়া ওরফে সুমন (২২)।

জাকারিয়া হোসাইনের অভিযোগ, তিনি যশোর সদর উপজেলার নরেন্দ্রপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। চলতি বছরের ১০ মে অজ্ঞাত ৩ ব্যক্তির সাথে তার পরিচয় হয়। এ সময় তারা তার কাছে জানতে চান, তিনি সৌদি আরবে যাবেন কি-না। তখন তিনি সরল বিশ্বাসে সৌদি আরবে যাওয়ার ইচ্ছে পোষণ করেন।

এরই এক পর্যায়ে তারা তাকে জানান, তাদের কাছে ১২শ সৌদি রিয়াল আছে। ওই ১২শ সৌদি রিয়াল পরিবর্তন করলে বাংলাদেশি ৫ লাখ টাকা পাওয়া যাবে। এরপর তারা তার মোবাইল ফোন নম্বর নিয়ে চলে যান। গত ১২ মে তারা তাকে মোবাইল ফোন করে শহরের খালধার রোডে যেতে বলেন। তাদের কথামত তিনি সকালে সেখানে গেলে তারা তাকে সৌদি রিয়াল দেখান।

ৎএ সময় তাকে বলা হয়, নগদ পাঁচ লাখ টাকা দিলে নগদ ৫ লাখ টাকা দিলে তারা ১০ হাজার সৌদি রিয়াল দিবেন। তখন তাদের কথায় বিশ্বাস করে তিনি ব্যাংক থেকে নগদ ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। পরে তিনি তাদেরকে ৫ লাখ টাকা দিলে তারা তার হাতে একটি ব্যাগ ধরিয়ে দিয়ে দ্রুত চম্পট দেন। তারা চলে যাওয়ার পর তিনি দেখতে পান, ব্যাগের ভেতর কোনো সৌদি রিয়াল নেই। ওই ঘটনার পর থেকে তিনি তাদেরকে খোঁজাখুঁজি করতে থাকেন।

গত ৩০ ডিসেম্বর মঙ্গলবার বেলা ১১ টার দিকে শহরের খালধার রোড আখপট্টি এলাকার একটি চায়ের দোকানের সামনে প্রতারকদের একজনকে (বিপুল পেয়াদা) দেখতে পান। সাথে সাথে তার চিৎকারে আশেপাশের লোকজন এসে তাকে আটক করেন। পরে তাকে পুলিশে দেওয়া হয়।