শাহজালালের মাজারের ডেগ ও দানবাক্স খুলে মিলল প্রায় অর্ধকোটি টাকা ও বৈদেশিক মুদ্রা

0
সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে ডেগ ও দানবাক্সের অর্থ গণনার দৃশ্য।। ছবি: সংগৃহীত
সিলেটের ঐতিহাসিক হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারে জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা তিনটি ডেগ এবং নতুন স্থাপিত দানবাক্স খুলে টানা সাত ঘণ্টা গণনা শেষে প্রায় অর্ধকোটি টাকা পাওয়া গেছে। এবারের গণনায় বাংলাদেশি নগদ টাকার পাশাপাশি মার্কিন ডলার, সৌদি রিয়াল, ভারতীয় রুপি, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দিরহামসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণ-রুপা মিলেছে।

গতকাল শনিবার বেলা সোয়া ১১টার দিকে জেলা প্রশাসনের সিলগালা করা ডেগ ও দানবাক্সগুলো উন্মুক্ত করে মাজার প্রাঙ্গণে অর্থ গণনার কাজ শুরু হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্ত অর্থের হিসাব প্রকাশ করা হয়। এবার নগদ অর্থ ছাড়াও দানের একটি গরু ও ৬৫টি ছাগল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে গরু এবং ৪০টি ছাগল রান্না করে মাজারের ঐতিহ্য অনুযায়ী বিতরণ করা হয়েছে এবং বাকি ২৫টি ছাগল বিক্রি করে ১ লাখ ১৫ হাজার ৪০৭ টাকা সরকারি তহবিলে যুক্ত করা হয়েছে।

গণনা শেষে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রাপ্ত অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব গণমাধ্যমকর্মীদের জানান সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনতে গঠিত বিশেষ কমিটির অন্যতম সদস্য। আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী জানান, এবারের গণনায় সর্বমোট ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা নগদ পাওয়া গেছে। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার মধ্যে ১৩৫ সৌদি রিয়াল, ২০ মার্কিন ডলার, ২ হাজার ৫৩২ ভারতীয় রুপি, ২২ কাতারি দিরহাম, ৬ মালয়েশীয় রিঙ্গিত, ২০ ইউরো, ওমানের ১ দশমিক ৪০ দিনার, সংযুক্ত আরব আমিরাতের ৫৪ দশমিক ২০ দিরহাম, ৪ হাজার ইন্দোনেশীয় রুপিয়া, ৬০ পাকিস্তানি রুপি এবং ১০ সিঙ্গাপুরি ডলার পাওয়া গেছে। এর বাইরে ৯ গ্রাম ওজনের স্বর্ণালংকার, স্বর্ণালংকারসদৃশ ১০ গ্রাম ওজনের একটি বস্তু এবং ৩৯ দশমিক ৪ গ্রাম ওজনের রুপা জমা পড়েছে।

আর্থিক উপাত্ত প্রকাশের সময় সিলেট নগর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেটের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক পিংকি সাহাসহ মাজার তদারকি কমিটির সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ২২ জুন মাজারের আটটি ডেগ ও দানবাক্স খুলে মাত্র চার দিনের দানে মোট ১৭ লাখ ৫৪৯ টাকা নগদ, ৭ আনা স্বর্ণালংকার এবং দুটি ৫ সৌদি রিয়ালের নোট পাওয়া গিয়েছিল। মাজারের ভক্ত ও অনুরাগীদের দেওয়া এসব অর্থ জেলা প্রশাসকের ব্যবস্থাপনায় নতুন খোলা একটি নির্দিষ্ট ব্যাংক হিসাবে জমা রাখা হয়েছিল। প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের প্রাপ্ত অর্থও একই সরকারি ব্যাংক হিসাবে জমা দেওয়া হবে।