শালিখায় অবৈধ ভাবে আড়বাঁধ দিয়ে দেশী জাতীয় মাছ শিকার করছে প্রভাবশালীরা- প্রশাসন নির্বিকার

0

শহিদুজ্জামান চাঁদ,শালিখা (মাগুরা) সংবাদদাতা ।। মাগুরার শালিখা উপজেলার সিমান্ত এলাকা বরইচারা ভেড়ী বাঁধের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া ফটকী নদীতে আড় বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে পানির প্রবাহ বন্ধ করে অবাধে দেশী জাতীয় মাছ শিকার করছেন মাগুরার সদর উপজেলার কুল্লিয়া গ্রামের,নিত্য,দেবেন,তপন,সুজন,সুকান্ত সহ প্রায় ১০০ জন প্রভাবশালী ব্যাক্তি৷ আওয়ামীলীগ সরকার ক্ষমতায় থাকাকালিন সময়ে ক্ষমতার সীমাহীন দাপটে বরইচারা ও কুল্লিয়া এলাকার ফটকী নদীর প্রায় ১০ একর যায়গা দখল করে এই অবৈধ আড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে আসছে দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে৷ আওয়ামীলীগের ভয়ে কেউ কিছু বলতে সাহস পাইনি বলে স্থানীয় জেলেরা সাংবাদিকদের অভিযোগ করে বলেন৷ এরই ধারাবাহিকতায় এবছরও একই স্থানে বাঁশ,খুটি ও চান দিয়ে ঘিরে দেশীয় জাতীয় মাছ ধরছে৷

স্থানীয় একাধিক বাসিন্দার অভিযোগ করে বলেন, ফটকী নদীতে অবৈধভাবে বাঁশ, কাঠ ও চান দিয়ে বাঁধ নির্মাণ করে মাছ শিকার করছেন। আমরা ক্ষ্যাপলা জাল বা বর্ষি দিয়ে মাছ ধরতে গেলে আমাদেরকে মারধোর করে নানা ভয় ভীতু দেখাই৷

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অবৈধ বাঁধের কারণে নদীর স্বাভাবিক পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বাঁধের পাশে নদীর পাড়ে খুপরি ঘর বানিয়েছেন প্রভাবশালীরা। এছাড়া নদীর বেশ কয়েকটি জায়গায় নেট দিয়ে আটকে দেয়া রয়েছে।

প্রশাসনের দেয়া তথ্যানুযায়ী, প্রবাহমান কোনো জলাশয়ে কোনো ধরনের বাঁধ, স্থায়ী অবকাঠামো বা অন্য কোনোভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা যাবে না।

তবে জলাশয়ে পানির প্রবাহ ও মাছের চলাচল বাঁধ দিয়ে বা অন্য কোনোভাবে বাধাগ্রস্ত করলে শাস্তির বিধান থাকলেও আওয়ামীলীগের দাপটের কারনে এতোদিন প্রশাসন কোনো পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা।

তাদের অভিযোগ, জনসাধারণের নৌ চলাচল বন্ধ করে অবৈধ ভাবে আড়বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন নদী পথে কৃষিপণ্য পরিবহনে সমস্যা হচ্ছে, অন্যদিকে আড়বাঁধ দিয়ে মাছ ধরাই মাছের প্রজনন ব্যবস্থা ধ্বংস হচ্ছে।

আমির আলী নামের স্থানীয় এক বাসিন্দা জানান, প্রতি বছর এভাবে তারা নদীতে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করে৷ আওয়ামীলীগের প্রভাবশালীরা নদীতে বাঁধ দেয়ার ফলে অন্য কেউ নদীতে নামতে পারে না।

একই ভাবে জাহাঙ্গীর,কিতাবুল ও ইমরান সহ আরও অনেকেই জানান, নদী আড়বাঁধ দেওয়ার ফলে আমাদেরকে জাল ও বর্ষি ফেলে মাছ ধরতে দেয়না এসব প্রভাবশালী ব্যাক্তিরা৷ আমরা কিছু বললেই জাল কেড়ে নেয়৷ সাবেক এমপি বীরেন শিকদারের ভয় দেখায়৷ পাশাপাশি বলে নদীতে বাঁধ দিয়েছি অফিস থেকে আমাদের ইজারা দিয়েছে৷ অভিযোগ করে কোন লাভ হবে না৷

অভিযুক্ত ব্যক্তিদের সাথে কথা বললে তারা বলেন, মাগুরা ডিসি অফিসে টাকা দিয়ে এই আড়বাঁধ আমরা প্রতি বছরই দিয়ে থাকি৷

এবছরও দিয়েছি৷ উপজেলামৎস্য কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ও ক্ষেত্রসাহকারি দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, ফটকী নদীতে আড়বাঁধের মাধ্যমে বাঁধ দিয়ে মাছ ধরার খবরটি শুনেছি। তবে বিষয়টি নিয়ে ইউএনও মহোদয়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসিনা মমতাজ জানান, ফটকী নদীর বরইচারা এলাকায় আড়বাঁধ দিয়ে দেশী জাতীয় ছোট ছোট মাছ ধরছে শুনেছি৷ বিষয়টি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।