মোংলায় ইপিজেড শ্রমিকের হাত বিচ্ছিন্ন, ক্ষতিপূরণ ও চিকিৎসার দাবিতে মানববন্ধন

গোলাম রসুলের জন্য দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।

0
মোংলায় ইপিজেড শ্রমিক মানববন্ধন

মোংলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা : মোংলা রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল (ইপিজেড) এলাকার একটি কারখানায় কর্মরত অবস্থায় মেশিন দুর্ঘটনায় ডান হাত হারানো শ্রমিক মো. গোলাম রসুলের উন্নত চিকিৎসা, পুনর্বাসন এবং পরিবারের আজীবন ভরণপোষণের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার সকালে মোংলা উপজেলার উত্তর চাঁদপাই বাজার মোড়ে স্থানীয় গ্রামবাসী, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনৈতিক কর্মী, পরিবেশবাদী এবং আহত শ্রমিকের স্বজনদের অংশগ্রহণে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

মানববন্ধন থেকে গোলাম রসুলের জন্য দেশের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সুবিধা নিশ্চিত করা, পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।

বক্তারা জানান, মোংলা ইপিজেডের গুয়াংজু হুয়া ফাং সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিডি কোম্পানিতে কর্মরত অবস্থায় গত মঙ্গলবার রাতে ভয়াবহ দুর্ঘটনার শিকার হন গোলাম রসুল। দুর্ঘটনায় তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, দুর্ঘটনার পর আহত শ্রমিককে দ্রুত ও প্রয়োজনীয় উন্নত চিকিৎসা দেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, সময়মতো বিশেষায়িত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হলে শারীরিক ক্ষতির মাত্রা কিছুটা হলেও কমানো সম্ভব হতে পারত।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মোংলা নাগরিক সমাজের সভাপতি মো. নূর আলম শেখ। বক্তব্য দেন বিএনপি নেতা শেখ রুস্তম আলী, আবু হানিফ শেখ, নাগরিক নেতা নাজমুল হক, আসাদুজ্জামান টিটো, ছাত্রনেতা শেখ সিফাতুল্লাহ শুভ, আরাফাত হোসেন দূর্জয় এবং পরিবেশকর্মী মেহেদী হাসান।

বক্তারা বলেন, কারখানাটিতে শ্রমিক সংকটের কারণে অনেক শ্রমিককে অতিরিক্ত সময় দায়িত্ব পালন করতে হয়। অতিরিক্ত কাজের চাপ, শারীরিক ক্লান্তি এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। তারা কর্মক্ষেত্রে শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

গোলাম রসুলের পরিবারের সদস্যরা বলেন, তিনি পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। দুর্ঘটনায় একটি হাত হারানোর ফলে শুধু তার কর্মজীবন নয়, পুরো পরিবারের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে। বর্তমানে চিকিৎসা ব্যয়, পুনর্বাসন এবং সংসার পরিচালনা নিয়ে পরিবারটি চরম উদ্বেগে রয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, “একজন শ্রমিকের জীবন ও কর্মক্ষমতার মূল্য শুধু সাময়িক সহানুভূতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে না। তার উন্নত চিকিৎসা, কৃত্রিম হাত সংযোজন, পুনর্বাসন এবং পরিবারের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের নৈতিক ও সামাজিক দায়িত্ব।”

মানববন্ধন থেকে আহত শ্রমিকের চিকিৎসার জন্য বিশেষ মেডিকেল বোর্ড গঠন, উপযুক্ত আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরির ব্যবস্থা এবং দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানানো হয়।

মানববন্ধন শেষে অংশগ্রহণকারীরা গোলাম রসুলের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।