শার্শায় ভ্যানচালককে হত্যার অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রীসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা

0

 

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরের শার্শা উপজেলার নারায়ণপুর গ্রামের মনিরুজ্জামান নামে এক ভ্যানচালককে হত্যার অভিযোগে দ্বিতীয় স্ত্রী ফিরোজা খাতুন এবং স্ত্রীর প্রেমিক সেলিমসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে রবিবার আদালতে মামলা হয়েছে। নিহতের প্রথম স্ত্রীর ছেলে আলী হোসেন মামলাটি করেছেন। জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান আহম্মেদ এই অভিযোগের বিষয়ে থানায় কোনো মামলা হয়েছে কিনা সেই সংক্রান্তে আগামী ৭ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য শার্শা থানা পুলিশের ওসিকে আদেশ দিয়েছেন।
ফিরোজা বেগম ছাড়া অভিযুক্ত অপর দুজন হলেন নারায়ণপুর গ্রামের আব্দুল লতিফের ছেলে সেলিম ও সেলিমের মা রওশনারা বেগম। মামলার বিবরণে জানা গেছে, মনিরুজ্জামান ভ্যানচালক ছিলেন। আসামি ফিরোজা বেগম তার দ্বিতীয় স্ত্রী। অভাবের সংসার চালাতে মনিরুজ্জামান প্রতিদিন ভ্যান চালাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যেতেন। এই সুযোগে আসামি সেলিম তার বাড়িতে গিয়ে ফিরোজার সাথে প্রেমজ সম্পর্ক গড়ে তোলেন। বিভিন্ন সময় এলাকাবাসী তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড দেখে ফেলায় এ নিয়ে একাধিকবার সালিশ বৈঠকও হয়।। সালিশে সেলিম ও ফিরোজা এ ধরনের কাজ আর করবেন না বলে অঙ্গীকার করেন। কিন্তু তারপরও তাদের অনৈতিক কর্মকাণ্ড বন্ধ হয়নি। মনিরুজ্জামান হত্যাকাণ্ডের ১৭দিন আগে সেলিমের হাত ধরে বাড়ি থেকে পালিয়ে যান ফিরোজা। পরে খুঁজে তাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনেন মনিরুজ্জামান। ফিরোজাকে ফিরিয়ে আনার পর সেলিমের সাথে মনিরুজ্জামানের বাকবিতণ্ডা হয়। এ সময় স্বামীর সাথে চরম দুর্ব্যবহার করেন ফিরোজা। এরপর সেলিম ও তার মা রওশনারা এবং ফিরোজা তিনজনে মিলে মনিরুজ্জামানকে হত্যার পরিকল্পনা করেন মনিরুজ্জামানকে। ১০দিন আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে মনিরুজ্জামান নারায়ণপুর বাজার থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে বেতনা নদীর পাড় সংলগ্ন আমবাগানের কাছে পৌঁছালে উল্লিখিত আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে তাকে ধরে এলোপাতাড়ি মারধর এবং কাছে থাকা গামছা দিয়ে গলায় পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যার করেন। পরে তার লাশ আমগাছের একটি ডালের সাথে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরদিন স্থানীয় এক পথচারী প্রথমে লাশটি দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ সেখান থেকে লাশটি উদ্ধার করে।