ধর্ষণ মামলায় হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের তাগিদ, যশোরে সেমিনার

0
ছবি: লোকসমাজ।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তিদের ন্যায়বিচার ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন আইনজীবী, চিকিৎসক, পুলিশ, সরকারি কর্মকর্তা, মানবাধিকারকর্মী ও উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা। একই সঙ্গে ভুক্তভোগীর মর্যাদা, গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশ, চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান, আইনজীবী, আদালত এবং সহায়তা কেন্দ্রগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের আহ্বান জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার যশোরের ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে ‘ধর্ষণে ভুক্তভোগী ব্যক্তির আইনগত সুরক্ষায় হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে করণীয়’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ব্র্যাকের সামাজিক ক্ষমতায়ন ও আইনগত সুরক্ষা কর্মসূচির উদ্যোগে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন ব্র্যাকের যশোর জোনের জোনাল ম্যানেজার মো. আকরামুল ইসলাম। সভার উদ্দেশ্য তুলে ধরেন ব্র্যাকের আইনগত সুরক্ষা কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিতালী জাহান। ধর্ষণ আইন সংস্কার জোটের প্রেক্ষাপট তুলে ধরেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের পরিচালক (অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন) মাহবুবা আক্তার।

নারী ও শিশুর প্রতি যৌন সহিংসতা নিরসনে হাইকোর্টের নির্দেশনাগুলো নিয়ে উপস্থাপনা করেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের লিগ্যাল স্পেশালিস্ট অ্যাডভোকেট মনিষা বিশ্বাস।

মুক্ত আলোচনায় ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার, ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ, নারী ও শিশু সহায়তা সেল, নারী ও শিশু হেল্পডেস্ক, মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর, সিভিল সার্জন কার্যালয়, মেডিকেল কলেজ, বার অ্যাসোসিয়েশন, আইনজীবী এবং ধর্ষণ আইন সংস্কার জোট ও সিএসও ফোরামের প্রতিনিধিরা মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা ও বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। আলোচনা পরিচালনা করেন বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের যশোরের অ্যাডভোকেট মোস্তফা হুমায়ুন কবির।

আলোচনায় ধর্ষণ ও যৌন সহিংসতার ঘটনায় মামলা গ্রহণে বিলম্ব, যেকোনো থানায় মামলা গ্রহণ, দ্রুত চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার ব্যবস্থা এবং তথাকথিত ‘টু-ফিঙ্গার টেস্ট’ নিষিদ্ধকরণসহ হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

বক্তারা বলেন, যৌন সহিংসতার শিকার ব্যক্তির প্রতি আইনগত ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের ক্ষেত্রে মানবিক এবং মর্যাদাপূর্ণ আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। ভুক্তভোগীর পরিচয় ও ব্যক্তিগত তথ্যের গোপনীয়তা রক্ষার পাশাপাশি তার নিরাপত্তাও নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে পুলিশ, হাসপাতাল, আইনজীবী, আদালত, ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার এবং ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় ও দ্রুত রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন যশোরের জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার নিশাত সুলতানা। তিনি বলেন, হাইকোর্টের নির্দেশনা বাস্তবায়নে জনসচেতনতা ও প্রচারণা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রশিক্ষিত চিকিৎসক ও নার্স নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে। নির্দেশনা বাস্তবায়নে কোনো ধরনের ব্যত্যয় ঘটলে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

সভায় হাইকোর্টের নির্দেশনাগুলো মাঠপর্যায়ে কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন, ভুক্তভোগীবান্ধব সেবা নিশ্চিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদারের বিষয়ে বিভিন্ন সুপারিশ তুলে ধরা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন ব্র্যাকের যশোর জেলা সমন্বয়কারী মো. আল-আমিন। সমাপনী বক্তব্য দেন ব্র্যাকের আইনগত সুরক্ষা কর্মসূচির প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিতালী জাহান। তিনি অংশগ্রহণকারীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার ও আইনগত সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ অব্যাহত রাখার আহ্বান জানান।