শারদীয় দুর্গোৎসবে আজ মহাষষ্ঠী যশোরে সম্প্রীতি শোভাযাত্রা

0

স্টাফ রিপোর্টার || সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার আজ বুধবার মহাষষ্ঠী। মহাষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয় পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। আগামী রোববার (১৩ অক্টোবর) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে ৫ দিনব্যাপী এ উৎসব।

গতকাল মঙ্গলবার ছিলো বোধন। শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রাক্কালে এই বোধনের মাধ্যমে দক্ষিণায়নের নিদ্রিত দেবী দুর্গার নিদ্রা ভাঙ্গার জন্য বন্দনা পূজা করা হয়। মঙ্গলবার পঞ্চমীতে সায়ংকালে তথা সন্ধ্যায় মন্ডপে-মন্দিরে এই বন্দনা পূজা অনুষ্ঠিত হয়। আজ ষষ্ঠীপূজার মধ্যে দিয়ে আনুষ্ঠানিক রূপ পাবে পাঁচদিনব্যাপী বাঙালি হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সর্ববৃহৎ শারদীয় দুর্গোৎসব। এ উপলক্ষে গতকাল জেলা পূজা উদযাপন পরিষদেও সংবাদ সম্মেলন ছাড়াও যশোর শহরের সম্প্রীতি শোভাযাত্রা বের করে।

পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য মতে যশোর জেলায় ৬৫২টি মন্দির এবং মন্ডপে দুর্গাপূজার আয়োজন হয়েছে। এর মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১৫৭টি, শার্শা উপজেলায় ২৮ টি, ঝিকরগাছা উপজেলায় ৪৮ টি, চৌগাছায় ৩৬টি, কেশবপুরে ৯২টি, মনিরামপুরে ৯৩টি, অভয়নগরে ১১৫টি এবং বাঘারপাড়া উপজেলায় ৮৩টি মন্দিরে দুর্গা পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

গতকাল মঙ্গলবার সকাল ১১ টায় লাল দীঘিপাড়ে সংগঠনের নিজস্ব কার্যালয়ে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। এসময় বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক তপন কুমার ঘোষ। জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপংকর দাস রতনসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ এসময় উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, এবছর যথাযোগ্য মর্যাদায় সকলের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে নিশ্চিতে শারদীয় দুর্গোৎসব উদযাপনের জন্য বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ যশোর জেলা শাখা বেশ কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং রাজনৈতিক দলসমূহের সাথে কয়েক দফা বৈঠক সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গিও আমরা অবগত হয়েছি।

এসময় বলা হয়, স¤প্রতি রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর জনমানসে সৃষ্ট অস্থিরতা এবং মনিরামপুর, অভয়নগর, কেশবপুরের জলাবদ্ধতার কারণে গত বছর থেকে চলতি বছর বেশ কিছু মন্দিরে দুর্গাপূজা হচ্ছে না। দর্শনার্থীদের মনে পূজার আনন্দ এনে দেবার জন্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,  জেলা প্রশাসন, পুলিশ এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা নিয়ে অগ্রসর হয়েছে। ফলে এখন পর্যন্ত যশোর জেলার কোথাও কোন ভীতির সঞ্চার হয়নি বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়।

নেতৃবৃন্দ বলেন, ২৪ ঘন্টা পালাক্রমে পাহারা দেবার জন্য স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ এবং পূজার বেশ আগেই আনসার বাহিনী মোতায়েন স্বস্তির পরিবেশ তৈরি করেছে। প্রতিটি মন্দিরে সিসিটিভি স্থাপন, বিকল্প আলোর ব্যবস্থা, নারী-পুরুষের আলাদা আগমন প্রস্থান পথ তৈরি, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা এবং সংগঠকদের নিরলস পরিশ্রম পূজার আয়োজনকে সন্তোষজনক অবস্থানে নিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে বলে প্রেস ব্রিফিংয়ে বলা হয়।

অন্যদিকে, বিকেলে ‘শারদ সম্প্রীতি শোভাযাত্রা’ অনুষ্ঠিত হয়। ‘তোমার আমার একই দেশ বাংলাদেশ বাংলাদেশ’ স্লোগানকে সামনে রেখে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষেরা এতে অংশ নেন। শোভাযাত্রাটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে এসে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে সবাইকে শুভেচ্ছা জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য রাখেন পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি দীপঙ্কর দাস রতন। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক অশোক কুমার ঘোষ।

এতে উপস্থিত উল্লেখযোগ্যরা হলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রুহুল আমিন, জেলা বিএনপি’র সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সাবেরুল হক সাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক দেলোয়ার হোসেন খোকন, জেলা জামায়াতে ইসলামের আমির গোলাম রসূল, জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আবু মুর্তজা ছোট, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, সাবেক সভাপতি ও যশোর সংবাদপত্র পরিষদের সভাপতি একরাম উদ দ্দৌলা, লোকসমাজ পত্রিকার প্রকাশক শান্তনু ইসলাম সুমিত, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, সাংস্কৃতিক জন হারুন অর রশিদ, যশোর সাহিত্য পরিষদের সভাপতি অধ্যক্ষ শাহীন ইকবাল, বাঁচতে শেখার নির্বাহী পরিচালক অ্যাঞ্জেলা গোমেজ, জয়তী সোসাইটির নির্বাহী পরিচালক অর্চনা বিশ্বাস, বিপ্লবী কমিউনিস্ট পার্টির জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ভিটু, সিপিবি নেতা এলাহদাদ খান, পূজা উদযাপন পরিষদের সাবেক সভাপতি বাণী ব্রত ঘোষ মনা, অ্যাডভোকেট প্রশান্ত দেবনাথ, জয়ন্ত বিশ্বাস প্রমুখ।