লোডশেডিংয়ে বৈষম্যের শিকার শরণখোলা-মোরেলগঞ্জ

0

 

শরণখোলা (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ সিডিউল মাফিক লোডশেডিংয়ের ক্ষেত্রে চরম বৈষম্যের শিকার হচ্ছে শরণখোলা ও মোরেলগঞ্জ উপজেলা। প্রতিদিন কয়েক দফায় বিদ্যুৎ যাচ্ছে। ১৬ থেকে ১৭ঘণ্টাই লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। দিনে ৪/৫ ঘণ্টা বিদ্যুৎ দেয়া হলেও রাতে দেয়া হয় মাত্র এক থেকে দুই ঘণ্টা। ফলে তীব্র গরমে জনজীবন অতিষ্ট হয়ে উঠছে। শিক্ষার্থীদের লেখা-পড়া চরমভাবে বিঘিœত হচ্ছে। অপরদিকে বরফকলগুলোতে বরফ জমতে না পারায় সাগরে যেতে পারছে না ফিশিং ট্রলার।
খোঁজনিয়ে জানাগেছে, বাগেরহাট জেলার ৯টি উপজেলার মধ্যে গড় হিসেবে বাগেরহাট সদরে দুই ঘণ্টা, মোংলায় এক ঘণ্টা, রামপালে দুই ঘণ্টা, ফকিরহাটে তিন ঘণ্টা, মোল্লাহাটে তিন ঘণ্টা, চিতলমারিতে দুই ঘণ্টা, কচুয়ায় তিন ঘণ্টা লোড শেডিং দেওয়া হয়। কিন্তু শরণখোলা ও মোরেলগজ্ঞ উপজেলায় গড়ে ১৭ ঘণ্টা লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। লোডশেডিংয়ের এমন চরম বৈষাম্যে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন সাধারণ মানুষ। সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী বিদ্যুতের লোডশেডিং দেওয়ার দাবি জানান তারা।
শরণখোলার সিনিয়র সাংবাদিক শেখ মোহাাম্মদ আলী বলেন, সরকারের সিদ্ধান্তকে শ্রদ্ধা জানাই, কিন্তু বৈষম্যমূলক লোডশেডিং গ্রহণযোগ্য নয়। বিদ্যুৎ বিভাগের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা এমন আচরণ করছে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করতে।
মোরেলগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতি মেহেদী হাসান লিপন জানান, জাতীয় গ্রিডের অযুহাত দিয়ে আমাদের এই দুই উপজেলায় সিডিউলের চেয়ে অতিরিক্ত লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে। রায়েন্দা হাট বাজার ব্যাবস্থাপনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান বাবুল বলেন, বিদ্যুৎ সাশ্্রয়ে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী রাত ৮টার মধ্যে আমরা দোকান বন্ধ করি। কিন্তু এরপর সারারাত বিদ্যুৎ না থাকায় গরমে কেউ ঘুমাতে পারে না। ফলে দিনেও ব্যাবসায়ীরা ঠিক মতো দোকান চালাতে পারছেন না। এদিকে মেঘা বরফ কলের মালিক মো. গোলাম মোস্তফা তালুকদার বলেন, দিনে কিছুটা বরফ জমা হলেও রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় তা আবার গলে যায়। শরণখোলা মৎস্য আড়ৎদার সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম হাওলাদার জানান, বরফের অভাবে জেলেরা সাগরে মাছ ধরতে যেতে পারছে না।
শরণখোলা উপজেলা চেয়ারম্যান রায়হান উদ্দিন শান্তা বলেন, এতো বেশি লোডশেডিং দেশের অন্য কোথাও দেওয়া হচ্ছে বলে আমার মনে হয় না। বিষয়টি জেলা সমন্বয় সভায় উপাস্থাপন করা হবে। এভাবে লোডশেডিং দেওয়া হলে সরকারের এতো উন্নয়ন সব ম্লান হয়ে যাবে।
এব্যাপারে শরণখোলা পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির সহকারী জেনারেল ম্যানেজার আশিক মাহামুদ সুমন জানান, তাদের এখানে দিনে ৭ মেঘাওয়াট ও রাতে ১০ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও বাগেরহাট গ্রিড থেকে দেওয়া হচ্ছে মাত্র তিন থেকে চার মেঘাওয়াট। তাই সেই হিসেবে লোডশেডিং দেওয়া হচ্ছে।