লালগালিচা-রঙিন ধোঁয়ায় রাজকীয় বিদায়: নারায়ণগঞ্জের ভাইরাল মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ এখন ক্রেতার ঘরে

0
এলভিনো মহিষটিকে লালগালিচায় বিদায় জানায় খামার কর্তৃপক্ষ। দেখতে ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।। ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া এলভিনো জাতের মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’–কে ব্যতিক্রমী আয়োজনে বিদায় জানিয়েছে নারায়ণগঞ্জের রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম। সোমবার বিকেলে পাইকপাড়ার এই খামারে লালগালিচা বিছিয়ে, রঙিন ধোঁয়া উড়িয়ে এবং রাজকীয় সাজসজ্জায় মহিষটিকে বিদায় দেওয়া হয়। অনুষ্ঠানে খামারকর্মী, স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের উল্লেখযোগ্য ভিড় ছিল।

দুপুর থেকেই শুরু হয় প্রস্তুতি। ৭০০ কেজি ওজনের মহিষটিকে গোসল করিয়ে মাথায় বিশেষ সাজসজ্জা ও গায়ে রাজকীয় পোশাক পরানো হয়। এরপর লালগালিচার ওপর দিয়ে হাঁটিয়ে গাড়িতে তোলা হয়।

খামার কর্তৃপক্ষ জানায়, এলভিনো জাতের এই মহিষটির চুলের ধরন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে মিলে যাওয়ায় আদর করে নামটি রাখা হয়। পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনা শুরু হয়। ভাইরাল হওয়ার পর প্রতিদিন শত শত মানুষ মহিষটি দেখতে খামারে ভিড় করেন। শুধু নারায়ণগঞ্জ বা ঢাকা নয়, বরিশাল ও কুমিল্লাসহ দূরদূরান্ত থেকেও দর্শনার্থীরা এসেছেন।

মহিষটি নিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও আগ্রহ তৈরি হয়। রয়টার্স, দ্য টেলিগ্রাফ ও নিউইয়র্ক পোস্টসহ একাধিক আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এটি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ এলাকার বাসিন্দা মিলন মিয়া বলেন, ‘আমাদের নারায়ণগঞ্জের মহিষ দেশি-আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় খবর হয়েছে, এটা আমাদের জন্য আনন্দের।’

রাজধানীর জিঞ্জিরা এলাকার বাসিন্দা মো. সামির ভাইরাল হওয়ার আগেই প্রতি কেজি ৫৫০ টাকা লাইভ ওয়েট দরে মহিষটি কিনেছিলেন। সোমবার বিকেলে তিনি সেটি নিতে এলে খামার কর্তৃপক্ষ বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। সামির বলেন, ‘পরে এটি ভাইরাল হওয়ার খবর পাই। এর অনুভূতি অন্য রকমের। আমাদের এলাকার সবাই মহিষটিকে দেখার জন্য অপেক্ষা করছে।’ অনেকে মহিষটি কিনতে না পেরে হতাশাও প্রকাশ করেন।

রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্মের স্বত্বাধিকারী জিয়াউদ্দিন মৃধা বলেন, ‘মহিষটিকে আমরা লালন-পালন করেছি। এটি ভাইরাল হওয়ায় রাবেয়া অ্যাগ্রো ফার্ম সারা বিশ্বে প্রচার পেয়েছে। ওকে বিদায় দিতে কষ্ট লাগছে। তবে কোরবানির পশু তো ত্যাগের জন্যই। ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আমরা আজীবন মনে রাখব।’ খামারকর্মী কাউসারও জানান, বাংলাদেশে এর আগে কোনো কোরবানির পশু এভাবে ভাইরাল হয়েছে কি না তাঁর জানা নেই।