রাষ্ট্রপতির পদে থাকার আগে-পরে অভিযোগ থাকলে নেওয়া যাবে আইনি ব্যবস্থা: প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা

0
আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান ।। ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রপতি পদে বহাল থাকার সময় ব্যক্তি বিশেষ আইনি সুরক্ষা পেলেও, দায়িত্ব গ্রহণের পূর্বে বা অবসরের পর কোনো অপরাধ কিংবা অনিয়মের অভিযোগ থাকলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।

আজ মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড ও সাময়িক নানা বিষয়ে আয়োজিত নিয়মিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এই মন্তব্য করেন।

সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কোনো দায়মুক্তি পেয়েছেন কি না—এমন প্রশ্নের স্পষ্টীকরণে তিনি এ ব্যাখ্যা তুলে ধরেন।
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বক্তব্য সুনির্দিষ্টভাবে মো. সাহাবুদ্দিনের একার জন্য নয়; দেশের যেকোনো রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে এই আইনি নীতি প্রযোজ্য।

দায়মুক্তির বিভ্রান্তি নিরসন করে জাহেদ উর রহমান বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী একজন রাষ্ট্রপতি তাঁর পদে থাকা অবস্থায় কোনো আইনি ব্যবস্থার মুখোমুখি হন না। তবে পদ ছেড়ে দেওয়ার পর অথবা পদে আসার আগে যদি কোনো ধরনের মিসকন্ডাক্ট বা অপরাধের অভিযোগ থাকে, তবে সেগুলোর ক্ষেত্রে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ উন্মুক্ত থাকে।

সংবাদ সম্মেলনে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানান উপদেষ্টা। তিনি উল্লেখ করেন, চলতি বছরের মধ্যেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সরকারের পূর্ববর্তী অবস্থান এখনো বহাল রয়েছে। পাশাপাশি পর্যটন নগরী কক্সবাজারকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলেও জানান তিনি।

২০১৮ সালের বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের সময় জেলা প্রশাসক (ডিসেম্বর) হিসেবে দায় পালন করা ৩২ জন যুগ্ম সচিবকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর প্রেক্ষাপট নিয়ে জানতে চাওয়া হলে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি উপদেষ্টা।

তিনি জানান, সরকারি চাকরি আইন অনুযায়ী কারও চাকরির বয়স ২৫ বছর পূর্ণ হলে সরকার তাঁকে কারণ দর্শানো ব্যতিরেকেই বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠাতে পারে।

এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আগামী ব্রিকস সম্মেলনে অংশগ্রহণ প্রসঙ্গে উপদেষ্টা স্পষ্ট করেন, বাংলাদেশ ব্রিকসের সদস্য নয়, বরং পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রিত। প্রধানমন্ত্রী এ সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না সে বিষয়ে এখনো সরকার কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেনি।