রামপালে মামলা করায় হুমকির অভিযোগ সংবাদ সম্মেলনে

0

রামপাল (বাগেরহাট) সংবাদদাতা॥ রামপালে চাঁদাবাজদের হামলায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনায় আদালতে মামলা করে বিপাকে পড়েছেন ভিকটিমসহ তার পরিবারের সদস্যরা। নিরাপত্তার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভিকটিম আবু সাইদের নাতি আসাবুর রহমান।
বুধবার (২৬ জুলাই) দুপুরে প্রেসক্লাব রামপালে তিনি সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১১ টার দিকে বাড়িতে যাওয়ার সময় পথরোধ করে তার নানা চাঁদপুর গ্রামের ওষুধ ব্যাবসায়ী আবু সাইদ শেখ ও মামা নাজমুল হাসানকে হাতুড়ি, লোহার রড ও ধারালো দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে সন্ত্রাসীরা। বর্তমানে তারা খুলনা মেডিকাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। আহতের ঘটনায় বাগেরহাটের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের (রামপাল) আদালতে ১৬ জনকে আসামি করে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন ভিকটিম আবু সাইদের ছোট ভাই আনোয়ারুল ইসলাম। আদালত মামলাটি বাগেরহাটের সিআইডিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এতে আসামি করা হয়েছে, শংকনগর গ্রামের আবু হানিফ ওরফে হানু, আব্দুল্লাহ শেখ, গিয়াস উদ্দিন শেখ, মহসীন শেখ, লালু শেখ, সাইফুল্লাহ শেখ, চাঁদপুর গ্রামের মিজান শেখ, মিরাজুল শেখ, জসিম শেখ, সেলিম শেখ, কামাল শেখ, জামাল শেখ, আবু দাউদ মল্লিক, আ. হালিম সরদার ও এরশাদ শেখকে। লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, গত ইংরেজি ১৭ জুন শংকনগর মৌজার একটি জমির দখল নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হয়। পরদিন ১৮ জুুন ওই ঘটনার প্রতিকার চেয়ে বাগেরহাটের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে ১৪৪ ধারার একটি মিস মামলা করেন দায়ের করেন মামা ভিকটিম নাজমুল হাসান। এতে প্রচন্ড ক্ষিপ্ত হয় প্রতিপক্ষ। তারা ভিকটিম আবু সাইদ ও নাজমুলের কাছে মামলার ক্ষতিপূরণ বাবদ দুই লাখ টাকা চাদাঁ দাবি করে এবং টাকা না দিলে জীবনে শেষ করে দেবে বলে হুমকি দেয়। এরপরে গত ৩০ জুলাই রাত সাড়ে ১১ টায় পিতা-পুত্র ফয়লাহাটের ওষুধের দোকানে বেচা- কেনা করে এক লাখ পঞ্চাশ হাজার টাকা নিয়ে ভ্যানে করে চাঁদপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন। পথে কেরামত ও আলতাফের বাড়ির সামনে পৌঁছলে তাদের সরকারি রাস্তায় ফেলে রাম দা, হাতুড়ি ও রড দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম এবং হাত পা ভেঙে দেয়া হয়। ওই সময় আসামিরা ভিকটিমদের পকেটে থাকা দেড় লাখ টাকা ও একটি স্মার্ট ফোনসেট চাঁদা বাবদ নিয়ে নেয়। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় আহতরা মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছেন। চিকিৎসা শেষে বাড়িতে ফিরলে আসামিরা এবার জীবনে শেষ করে দেবে বলে আশংকা প্রকাশ করে জেলা পুলিশ সুপার ও রামপাল থানা পুলিশের কাছে নিরাপত্তা কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য নেয়ার চেষ্টা করেও অভিযুক্তদের কাউকে পাওয়া যায়নি।