রামনগরে যুবলীগের মিছিলের চেষ্টা জনতার প্রতিরোধ, আটক ৩

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সোমবার সন্ধ্যায় যশোর সদরের রামনগরে যুবলীগ কর্মীরা মিছিল বের করার চেষ্টা করলে স্থানীয়রা ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর মামলার ৩ আসামি আটক হয়। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে তাদের আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এদিকে অন্তর্ববর্তীকালীন সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির অভিযোগে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এক সদস্য কোতয়ালি থানায় ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে অভিযোগ দিয়েছেন। তবে অভিযোগটি এখনো মামলা হিসেবে রেকর্ড করা হয়নি বলে থানা সূত্রে জানা গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সোমবার মাগরিবের নামাজের কিছু আগে যশোর-চুকনগর সড়কের যশোর সদরের রামনগর কানাইতলা নামক স্থানে হঠাৎ একদল যুবক মুখে মাস্ক পরে পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পক্ষে নানা স্লোগান দিতে থাকে। মাত্র দুই থেকে তিন মিনিটের মাথায় আশপাশের লোকজন তাদের ধাওয়া করে। তারা দিকবেদিক ছুটাছুটি করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। এসময় জনতা বিএনপির অফিস ভাংচুর মামলার তিন আসামীকে ধরে ফেলে।
আটক হওয়া ওই তিন জন হলেন, সদর উপজেলার ঘুনি গ্রামের আজগর মোল্যার ছেলে রিপন হোসেন (২৫), বসুন্দিয়ার গাইদগাছী গ্রামের আমজাদ হোসেনের ছেলে আশরাফুল ইসলাম (২৮) ও পদ্ববিলা গ্রামের গোলাম মোস্তফা সরদারের ছেলে সবুজ হোসেন(২৭)।
এ বিষয়ে মঙ্গলবার দুপুরে যশোর কোতোয়ালি থানার ওসি আব্দুর রাজ্জাক জানান, সোমবার সন্ধ্যায় রামনগর কানাইতলা এলাকায় সালেহা মেটালের সামনে যশোর-চুকনগর মহাসড়কে যুবলীগ কর্মী রানা হোসেনের নেতৃত্বে ঝটিকা মিছিল বের করার চেষ্টা করে। এ সময় স্থানীয়রা ধাওয়া করে তিন যুবলীগ কর্মীকে পাকড়াও করে। পরে তাদের যশোর কোতোয়ালি মডেল থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
এদিকে এই ঘটনা নিয়ে যশোর সদরের রামনগরের কাজীপুরের বাসিন্দা, জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেন আটক ৩ জনসহ মোট ৫৬ জনের নাম উল্লেখ করে মঙ্গলবার যশোর কোতয়ালী থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, মিছিলকারীরা বর্তমান অন্তর্ববতীকালীন সরকাকে বেকায়দায় ফেলতে ওই দিন, আগ্নেয়াস্ত্র, বোমাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। এসময় স্থানীয় জনতা তাদেরকে ধাওয়া দেয় এবং ঘটনাস্থল থেকে জেলা বিএনপির অফিস ভাংচুর মামলার ৩ আসামীকে আটক করে।
রাতে কোতয়ালী থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন জানান, আটক তিন জনকে মঙ্গলবার দুপুরে আদালতে সোপর্দ করা করা হয়েছে। আদালত তাদেরকে জেলহাজতে পাঠিয়েছে।
অ্যাডভোকেট আকরাম হোসেনের মামলার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগটি থানায় এসেছে তবে সেটি এখনো রেকর্ড করা হয়নি।