রাতে যশোর শহরে নিরাপত্তা সংকট, তৎপরতার কথা জানালো পুলিশ

অকেজো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা, অলিতে গলিতে ছিনতাই

0

মীর মঈন হোসেন মুসা ॥ প্রতারক, ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন অপরাধীদের দৌরত্ম্যে আতংকিত যশোরবাসী। বিশেষ করে রাতের যশোর হয়ে উঠছে ভয়ংকর। গভীর রাতে চলাচল বিপদজনক হয়ে উঠেছে। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছিনতাই-চাকুবাজি। রাতে অলিতে গলিতে অবস্থান নিয়ে ছিনতাইকারীরা পথচারীদের সর্বস্ব ছিনিয়ে নিচ্ছে। ট্রেন ও বাসযাত্রীরা রাতে বাড়ি ফিরতে ভয় পাচ্ছেন।

শহরে পুলিশি টহল কিছুটা বাড়লেও জোরদার তৎপরতা নেই। রমজান মাসে মানুষের জানমালের নিরাপত্তায় পুলিশের কী ধরনের কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সেই বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কোনোকিছু প্রকাশ করছেন না। তাছাড়া জানমালের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝেও উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে।

একাধিক সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় যশোর শহরের বিভিন্ন স্থানে বসানো ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ভাঙচুর হয়। অপরাধ নিয়ন্ত্রণে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে এসব ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা নিয়ন্ত্রণ ও পর্যবেক্ষণ করা হতো। ৪/৫টি ছাড়া সব ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা ভাঙ্গা অথবা অকেজো। আর এরই সুযোগ নিচ্ছে ছিনতাইকারীসহ বিভিন্ন ধরনের অপরাধীরা।

রাতে শহরের বিভিন্ন স্থানের অলিতে গলিতে অবস্থান নিয়ে পথচারী অথবা রিকশার গতিরোধ করে যাত্রীদের ছুরি/চাকুর ভয় দেখিয়ে সর্বস্ব লুট করছে দুর্র্বৃত্তরা। বিশেষ করে গভীর রাতে অথবা ভোরে যারা বাড়ি ফেরেন মূলত তাদেরই টার্গেট করছে ছিনতাইকারীরা। ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা না থাকায় ছিনতাইকারীরা যেমন সুযোগ নিচ্ছে তেমনি তাদেরকেও শনাক্ত করা যাচ্ছেনা। সূত্র জানায়, রমজান মাস শুরুর ২ দিন আগে শহরের শংকরপুরে কুখ্যাত সন্ত্রাসী ও ছিনতাইকারী অনিক ওরফে অনি এবং ছোট আকাশসহ কয়েকজন দুর্বৃত্ত কসমেটিক ব্যবসায়ী শামীমকে অপহরণ করে প্রচণ্ড মারধর এবং ৮০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। তার কাছে থাকা ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয় দুর্বৃত্তরা। পরে শামীমকে নিয়ে তারা শংকরপুর গোলপাতা মসজিদ এলাকায় গেলে পুলিশের টহল গাড়ি দেখে তাকে ফেলে পালিয়ে যায়।

এর একদিন পর সন্ত্রাসী অনিক গং আরো দুই জন পথচারীকে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবি করেছিলো বলে জানা গেছে। পরে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ব্যাপক তৎপরতা চালিয়ে ওই দুই ব্যক্তিকে আহত অবস্থ্ায় উদ্ধার করে। তবে সন্ত্রাসী অনিক বা তার কোনো সহযোগী অভিযানে আটক হয়নি। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় পুলিশ সুপারের বাংলোর অদূরে আয়শা সরদারের বাড়ির পাশের গলিতে দুর্বৃত্তরা নেওয়াজ আহমেদ নামে এক যুবকের মাথায় জিআই পাইপ দিয়ে আঘাত করে তার কাছ থেকে ২শ’ টাকা ও ম্যানিব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। পরে স্বজনেরা রক্তাক্ত জখম নেওয়াজ আহমেদকে উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়।

ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়ায় বাস ও ট্রেনের যাত্রীরা চরম নিরাপত্তার অভাব বোধ করছেন বলে জানা গেছে। যশোরের বিভিন্ন পরিবহন কাউন্টারের কর্মীরা বলছেন, গভীর রাতে কোনো যাত্রী বাস থেকে নামলে া নিরাপত্তার জন্য কাউন্টার অফিসে বসে থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। শহরের গাড়িখানা রোডের হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারম্যান মো. কওছার আলী জানান, রাতে কোনো যাত্রী বাস থেকে নামলে তিনি যদি বাড়ি ফিরতে নিরাপত্তার অভাব বোধ করেন তাহলে তাকে কাউন্টার অফিসে অবস্থান করতে বলেন।

মণিহার এলাকার সোহাগ পরিবহনের কাউন্টারম্যান রবিউল ইসলাম জানান, রাতে তাদের গাড়ি গাড়িখানা রোড হয়ে যায়। যাত্রীদের রাতে অবস্থানের জন্য তাদের অফিসে ব্যবস্থা রয়েছে। ঈগল পরিবহনের কাউন্টারম্যান সাঈদ হোসেন কৃতি বলেন, ছিনতাইকারীদের কারণে নিরাপত্তার অভাব বোধ করায় রাতে তাদের পরিবহনে যাত্রী কমে গেছে।

যশোরে ট্রেনযাত্রীরা প্রতিনিয়ত ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ার কারণে গভীর রাতে অথবা ভোরে কেউ এলে এখন আর কেউ রেলস্টেশনের বাইরে বের হন না। তাছাড়া পুলিশও সকাল না হওয়া পর্যন্ত তাদেরকে প্লাটফর্মের বাইরে যেতে দেন না বলে জানিয়েছেন রেলস্টেশন এলাকার মোহাম্মদ আলী নামে একজন খাবার হোটেল মালিক।

রমজানের শুরুতেই ছিনতাইকারীদের তৎপরতা বেড়ে যাওয়া আতঙ্কের কথা জানালেন মো. লালন সরদার নামে এক ব্যক্তি। তিনি ঝুমঝুমপুরের বাসিন্দা। একইভাবে আতঙ্কের কথা জানিয়েছেন বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা আইনজীবী সহকারী শাহরিয়ার হাসান।