ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের জামানত বাড়ছে, থাকছে যেসব প্রতীক

0
ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে প্রার্থীর জামানত, নির্বাচনী ব্যয় ও জামানত রক্ষার ভোটের হার বাড়িয়ে বিধিমালা সংশোধন করেছে ইসি। নির্দলীয় প্রতীকের এই নির্বাচনে সাংবাদিকদের কাজে বাধা দিলে কারাদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।। ছবি: সংগৃহীত

ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে প্রার্থী হতে জামানতের অর্থের পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। জামানতের অর্থ বৃদ্ধির পাশাপাশি নির্বাচনী ব্যয় নির্ধারণ, নতুন প্রতীক বরাদ্দ এবং অনিয়ম রোধে কঠোর বিধান যুক্ত করে ইউপি নির্বাচন বিধিমালা সংশোধন করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানটি। ১৬ সেপ্টেম্বর সই হওয়া এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন সম্প্রতি কার্যকর করা হয়েছে।

নতুন সংশোধিত বিধিমালা অনুযায়ী, ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে লড়তে প্রার্থীদের জামানতের পরিমাণ আগে ৫ হাজার টাকা থাকলেও তা বাড়িয়ে ২৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একইভাবে সাধারণ ও সংরক্ষিত সদস্য পদে লড়তে জামানতের পরিমাণ ১ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে। একই সঙ্গে জামানত ফেরত পাওয়ার শর্তও কঠিন করা হয়েছে; এখন থেকে কোনো প্রার্থী মোট প্রদত্ত ভোটের অন্তত ১৫ শতাংশ না পেলে তাঁর জামানত বাজেয়াপ্ত হবে। আগে মোট প্রদত্ত ভোটের এক-অষ্টমাংশ পেলেই জামানত ফেরত পাওয়া যেত।

আইন সংশোধনের ফলে এবারের ইউপি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে সম্পূর্ণ নির্দলীয় প্রতীকে। সে লক্ষ্যে সংশোধিত বিধিমালা থেকে দলীয় প্রতীকগুলো বাদ দিয়ে চেয়ারম্যান প্রার্থীর জন্য ২০টি, সাধারণ সদস্য পদে ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০টি মার্কা বা প্রতীক চূড়ান্ত করা হয়েছে। চেয়ারম্যান পদের প্রতীকগুলোর মধ্যে রয়েছে—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিলঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবিট্যাক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটর সাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।

সংরক্ষিত আসনের নারী সদস্য পদের ১০টি প্রতীক হলো—আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার। অন্যদিকে সাধারণ সদস্য পদের ১২টি প্রতীক হলো—উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চলাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।

নতুন বিধিমালায় নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে কমিশনকে বিশেষ ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। কোনো কেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভীতি প্রদর্শন বা কারসাজির কারণে ফলাফল চরমভাবে পক্ষপাতদুষ্ট হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত বা পুরো নির্বাচন বাতিল করে পুনরায় ভোটের নির্দেশ দিতে পারবে। একই সঙ্গে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতাও কমিশনের হাতে রাখা হয়েছে।

এ ছাড়া গণমাধ্যমকর্মীদের স্বাধীন সাংবাদিকতায় সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নতুন শাস্তির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। নির্বাচনী কাজে নিয়োজিত কোনো গণমাধ্যমকর্মীকে বাধা দিলে দায়ী ব্যক্তিকে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড বা সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড দেওয়া যাবে। একই সঙ্গে চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০ লাখ টাকা করা হয়েছে, তবে সদস্য প্রার্থীর ব্যয়সীমা পূর্বের মতো ২ লাখ টাকাই রাখা হয়েছে।