রাখাইনে ‘নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে’ বাংলাদেশ থেকে ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার কথা জানাল মিয়ানমার

0
রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার কথা জানিয়েছে মিয়ানমারের সেনাসমর্থিত সরকার। সংকট ৯ বছরে পড়ার পর এ তথ্য জানায় মিয়ানমার।। ছবি: সংগৃহীত

মিয়ানমারের সেনাসমর্থিত সরকার জানিয়েছে, রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতি হলে তারা বর্তমানে বাংলাদেশের আশ্রয়শিবিরে থাকা প্রায় ৩ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিজ দেশে ফেরত নিতে ইচ্ছুক। জান্তাসমর্থিত সরকার নিশ্চিত করেছে, যাচাই-বাছাই করা এসব রোহিঙ্গা দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা ছিলেন।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে শনিবার (১৫ আগস্ট ২০২৬) এই বিবৃতি দেওয়া হয়। রোহিঙ্গা শরণার্থী সংকট ৯ বছরে পদার্পণ করার প্রেক্ষাপটে মিয়ানমার সরকারের পক্ষ থেকে এমন বক্তব্য সামনে এল।

উলেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনীর নৃশংস সামরিক অভিযানের কারণে প্রায় ৭ লাখ (বাংলাদেশের হিসাব অনুযায়ী ৮ লাখের বেশি) রোহিঙ্গা সীমান্ত পেরিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে বাধ্য হয়। কক্সবাজারে আগে থেকেই অবস্থান করা লাখ লাখ রোহিঙ্গাসহ এসব সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠী মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও জাতিগত মিলিশিয়াদের সহিংসতা থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। এই সামরিক অভিযানের ভয়াবহতার কারণে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এটিকে গণহত্যা ও জাতিগত নিধন হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। তবে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের সরকারি ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মধ্যে স্বীকৃতি না দিয়ে তাদেরকে ‘বাঙালি’ বা অবৈধ অভিবাসী হিসেবে দাবি করে আসছে।

মিয়ানমারের কর্মকর্তারা জানান, বাংলাদেশ থেকে হস্তান্তরিত ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর একটি তালিকা গত জুলাইয়ের শেষ নাগাদ তারা যাচাই-বাছাই করেছেন। যাচাই করা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ ব্যক্তির মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের বাসিন্দা বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের পরিচয় সঠিকভাবে চিহ্নিত করা যায়নি এবং ৪ হাজার ২৪১ জন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে যুক্ত ছিল বলে মিয়ানমার দাবি করেছে।

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, রাখাইনের নিরাপত্তা পরিস্থিতি স্থিতিশীল হওয়ার পর পরই এই ৩ লাখ বাসিন্দাকে ফেরত নিতে তারা বাংলাদেশের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবে। একই সাথে বিবৃতিতে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য অস্বীকার করে দাবি করা হয়, ২০১৭ সালে ৫ লাখ ৪০ হাজারের বেশি মানুষ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছিল এবং ২ লাখের বেশি মানুষ উত্তর রাখাইনেই রয়ে যায়।

বাংলাদেশ ও মিয়ানমার ২০১৮ সালে দুই বছর মেয়াদি প্রত্যাবাসন চুক্তিতে সম্মত হলেও ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানে অং সান সু চির সরকার উৎখাত হওয়ার পর সে উদ্যোগ ভেস্তে যায়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালে মিয়ানমার সামরিক বাহিনী ও সশস্ত্র গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র (এএ) মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হলে আবারও বহু রোহিঙ্গা বাস্তুচ্যুত হয়ে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করে।

এদিকে আশ্রয়শিবিরে অবনতিশীল পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক মানবিক সাহায্য হ্রাস এবং প্রত্যাবাসনে অনিশ্চয়তার কারণে বহু রোহিঙ্গা ঝুঁকিপূর্ণ নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দিয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন। এর আগে গত জুলাইয়ে মালয়েশিয়া থেকে ৫ হাজার রোহিঙ্গা ফেরত নেওয়ার কথা উঠলেও মিয়ানমার কর্মকর্তা হান উইন অং স্পষ্ট করেন, ওই কর্মসূচি কেবল মালয়েশিয়ার আটককেন্দ্রে থাকা যাচাইকৃত মিয়ানমার নাগরিকদের জন্যই প্রযোজ্য।