রণজিৎ রায় এমপির বিরুদ্ধে বাঘারপাড়া আ.লীগ ঐক্যবদ্ধ কাল ঘটতে চলেছে এর বহিঃপ্রকাশ

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ পনের আগস্টকে ঘিরে যশোরের বাঘারপাড়া আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন মেরুকরণ শুরু হয়েছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রণজিৎ কুমার রায়ের বিপক্ষের সকল গ্রুপ এক মঞ্চে ওঠার জন্য ঐক্যমতে পৌঁছেছে। এ কারণে আগামীকাল সোমবার পনের আগস্টের অনুষ্ঠানে বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতে নতুন একটি জোটের আত্মপ্রকাশ ঘটতে চলেছে। যে জোট আগামী দিনে এমপি রণজিৎ রায়ের বিপক্ষে বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের তৃণমূল নেতা কর্মীদের মনের ইচ্ছা পূরণ করতে পারবে এমনটাই মনে করছেন সচেতন মহল।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে গ্রুপিংয়ের বিষয়টি নতুন কিছু না। প্রয়াত সংসদ সদস্য শাহ হাদীউজ্জামানের আমলেও বাঘারপায় ছোট্ট একটা গ্রুপ তাঁর বিপক্ষে কাজ করতো। পরবর্তীতে রণজিৎ কুমার রায় ২০০৮ সালে এমপি নির্বাচিত হলে ধীরে ধীরে বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের গ্রুপ রাজনীতি প্রকট আকার ধারণ করে। এক সময় উপজেলা চেয়ারম্যান প্রয়াত নাজমুল ইসলাম কাজল রণজিৎ কুমার রায়ের বিপক্ষের অংশে নেতৃত্ব দিতেন। আওয়ামী লীগের বেশিরভাগ নেতাকর্মী নাজমুল ইসলাম কাজলের সাথে থাকার কারণে তিনি বিদ্রোহী হিসাবেই বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। তার মৃত্যুর পর নেতৃত্বের কোন্দল নিয়ে কাজল অংশে ভাঙন ধরে। যার ধারাবাহিকতায় বাঘারপাড়ায় এমপি রণজিতৎ কুমার রায়ের বিপক্ষের শক্তি চার ভাগে বিভক্ত হয়। আবার অনেকেই কোন অংশে না গিয়ে নিজের মত করে রাজনীতি শুরু করেন।
স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতা কর্মী সূত্রে জানা গেছে, এমপি রণজিৎ কুমার রায়ের বিপক্ষে একাংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন যশোর জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক, যশোর জেলা পরিষদের সাবেক সদস্য বিপুল ফারাজী। প্রয়াত নাজমুল ইসলাম কাজলের সহধর্মিণী বাঘারপাড়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ভিক্টোরিয়া পারভীন সাথীও একটা অংশ নিয়ে সামনের দিকে এগুচ্ছেন। সাবেক অতিরিক্ত সচিব সন্তোষ কুমার অধিকারি হঠাৎ করেই বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে আলোচনায় উঠে এসেছেন। তিনি বাঘারপাড়ার অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে একটি বলয় তৈরি করেছেন। যে বলয় দিয়ে তিনি এখন প্রধান আলোচানার কেন্দ্রে রয়েছেন। ফ্রি ওষুধ চিকিৎসা সেবা দিয়ে সাধারণ মানুষের মন জয় করার চেষ্টা চালাচ্ছেন প্রফেসর ডা. নিকুঞ্জ বিহারি গোলদার। তিনি উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রউফকে সাথে নিয়ে গুটি গুটি পায়ে এগুচ্ছেন। পনের আগস্ট উপলক্ষে তিনি বাঘারপাড়া ও অভয় নগরে অসংখ্য তোরণ নির্মাণ করে বেশ আলোচনায় উঠে এসেছেন।
তবে এসব গ্রুপ নেতা ও তাদের গ্রুপের নেতৃস্থানীয়রা সকলেই স্থানীয় সংসদ সদস্য ও বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি রণজিৎ কুমার রায়ের বিপক্ষেই রাজনীতি করছেন। দীর্ঘ দিন ধরে এ চার অংশকে এক অংশে রুপ দেওয়ার জন্য অনেকেই কাজ করেছেন। তাতে ভালো কোনো ফল আসেনি। সম্প্রতি বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলীর প্রচেষ্টায় এ চার অংশের নেতাদের এক টেবিলে আনতে সক্ষম হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার তারা এক মতে পৌছেছেন। গত শুক্রবার বিকেলে ও গতকাল দিনব্যাপী এ বিষয়ে বৈঠক হয়েছে। অনুষ্ঠান সফল করার জন্য আজও সব অংশের নেতারা এক টেবিলে বসবেন। পনের আগস্টের অনুষ্ঠান তারা এক সাথে পালন করে বাঘারপাড়ার আওয়ামী লীগ প্রিয় মানুষদের একটি নতুন বার্তা দেবেন এমনটাই প্রত্যাশা করছেন স্ব স্ব গ্রুপের নেতাকর্মীরা।
আজীবন চেয়ারম্যান খ্যাত দোহাকুলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবু মোতালেব তরফদার, জামদিয়া ইউপি চেয়ারম্যান আরিফুর রহমান তিব্বত, ধলগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান রবিউল ইসলাম রবি, নারিকেলবাড়িয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার এমদাদ হোসেন জানিয়েছেন, বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে দীর্ঘ দিন ধরে একনায়ক তন্ত্র চলছে। রণজিৎ রায় মনে করেন টাকা দিয়েই সব ঘাট পার হওয়া যায়, মনোনয়ন পেলেই এমপি। যে কারণে তিনি নেতা কর্মীদের ন্যূনতম মূল্যায়ন করেন না। এ কারণে বাঘারপাড়ায় আওয়ামী লীগের ৮০ ভাগ নেতাকর্মী তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী পনের আগস্ট শোক দিবসের অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এর বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।
এ বিষয়ে বাঘারপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা হাসান আলী জানিয়েছেন, এমপি রণজিৎ রায়ের অনিয়মের বিরুদ্ধে বাঘারপাড়ার আওয়ামী লীগ আজ ঐক্যবদ্ধ হয়েছে। আগামীকাল এর বহিঃপ্রকাশ ঘটবে।