যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল: পরিত্যক্ত ভবন ময়লা-আবর্জনার স্তুপ আর মশা প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত

0

বিএম আসাদ ॥ বারবার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের পরিত্যক্ত ভবন অপসারণ করা হচ্ছে না। ফলে ভবন এলাকা ময়লা-আবর্জনার স্তুপ আর মশা মাছি প্রজনন ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া রোগ জীবাণু পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন ও নির্মল পরিবেশের জায়গা হাসপাতাল। অসুস্থ মানুষকে (রোগী) সুস্থ করার জন্যে হাসপাতালে প্রয়োজন হয় নির্মল পরিবেশ। সেখানে থাকে পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কোলাহলমুক্ত অবস্থা। কিন্তু যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে নেই এ অবস্থা। সেখানে রয়েছে ১০টি পরিত্যক্ত ভবন। বৃটিশ আমলে এ সব ভবন নির্মাণ করা হয়েছিল। কোনটি নির্মাণ করা হয়েছিল ৭৫ বছর আগে। যে ভবনগুলো কয়েক বছর আগে গণপূর্ত বিভাগ থেকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়। এ সব ভবনের পাশে নিয়মিত ময়লা ফেলার কারণে সেখানে আবর্জনার স্তুপ জমেছে। জন্মেছে লতাগুল্ম গাছ-গাছালি। ফলে এসব ভবনে ভুতুড়ে পরিবেশ বিরাজ করছে। মশা-মাছি আর বিভিন্ন ধরনের পোকা-মাকড় জন্ম নিচ্ছে। বর্তমানে ডেঙ্গুর জনক এডিস মশার উপদ্রব বেড়েছে। গত ৭ নভেম্বর পর্যন্ত যশোর জেলায় এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে ১শ’ ৩৮ জন আক্রান্ত হয়েছেন। ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ অবস্থায় মশা জন্ম নিচ্ছে হাসপাতাল চত্বরে অবস্থিত পরিত্যক্ত ভবন। এলাকার ময়লা-আবর্জনা ও ড্রেনে। বিস্তৃত জায়গা জুড়ে বিরাজ করছে নোংরা পরিবেশ। এ অবস্থার মধ্যে বহিরাগত অ্যাম্বুলেন্সসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন অবস্থান করে। সেখানে থাকে লোকজনের ভিড়। মশার কামড়ে তারা অতিষ্ঠ। হাসপাতালের ওয়ার্ডেও রয়েছে মশার উপদ্রব। মশার কামড়ে রোগী ও দর্শণার্থীরা আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন এ অবস্থা চলছে বছরের পর বছর। পরিত্যক্ত ভবন থাকার কারণে এ সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। অথচ, স্বাস্থ্য সুরক্ষার কাজে নিয়োজিত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এসব ভবন অপসারণ এবং ময়লা-আবর্জনা পরিস্কার করার ক্ষেত্রে উদাসীন। ভবনগুলোর মালিক গণপূর্ত বিভাগ। ভবন নির্মাণ, পরিত্যক্ত ঘোষণা এবং ভেঙ্গে ফেলার দায়িত্ব তাদের। এ জন্য হাসপাতালে একটি কমিটি আছে। যে কমিটিতে আছে, জেলা প্রশাসকের প্রতিনিধি, গণপূর্ত বিভাগের প্রকৌশলী ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। বিভিন্ন সময় ওই কমিটির সভা হয়। এসব সভায় পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। কিন্তু দ্রুত কার্যকর হচ্ছে না। সভা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে পরিত্যক্ত ভবন অপসারণের কার্যক্রম। ফলে, সেখানকার নোংরা পরিবেশের শিকার হতে হচ্ছে রোগী ও সাধারণ মানুষের। এ ব্যাপারে হাসপতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. আরিফ আহমেদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, গণপূর্ত বিভাগকে পরিত্যক্ত ভবন ভেঙে ফেলার জন্য চিঠি দেয়া হয়েছে। তারা ব্যবস্থা নেবে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের দায়িত্বপ্রাপ্ত গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি লোকসমাজকে বলেন, সেখানে ১০টি পরিত্যক্ত ভবন আছে। ভবনগুলো সার্ভে করা হবে। এরপর ভাঙার কাজ শুরু হবে। ভবন ভেঙে ফেলার পর জায়গা পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন হবে।