জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন চাষে সফল চৌগাছার জুলফিকার আলী

0
ছবি: সংগৃহীত।

মুকুরুল ইসলাম মিন্টু, চৌগাছা (যশোর) ॥ অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমনের চাষ হচ্ছে এখন যশোরের চৌগাছায়। পুষ্টিগুণে ভরা ও খেতেও সুস্বাদু এই ফল চাষে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছেন ফলচাষি জুলফিকার আলী সিদ্দিকী। নতুন ফলের চাষ দেখতে প্রতি দিনই মানুষ ভিড় করছেন জুলফিকার আলী সিদ্দিকীর বাগানে।

উপজেলার স্বরুপদাহ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী গ্রাম হিজলী। এই গ্রামের বাসিন্দা মরহুম মুন্সি আব্দুল খালেকের ছেলে জুলফিকার আলী সিদ্দিকী। মূলত তার পেশা নার্সারি ব্যবসা। প্রায় আড়াই দশক ধরে তিনি নার্সারি ব্যবসা করে আসছেন। গত কয়েক বছর ধরে নার্সারির পাশাপাশি ফলচাষে মনোযোগী হয়ে ওঠেন তিনি।

বর্তমানে তার বাগানে বিভিন্ন জাতের ফল চাষ আছে। তারমধ্যে অন্যতম হচ্ছে জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমন। প্রায় এক বিঘা জমিতে তিনি এই ফল চাষ করেছেন। বাম্পার ফলন হয়েছে। যদিও এখনো ফল বাজারজাত শুরু হয়নি, তবে দু-এক সপ্তাহের মধ্যে ফল বাজারজাত শুরু হবে বলে মনে করছেন তিনি। বর্তমানে বাংলাদেশের বাজারে এক কেজি পার্সিমন ১২শ টাকায় বিক্রি হয় বলে ফলচাষি জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, বৃষ্টিভেজা সকালে ফলচাষি জুলফিকার আলী সিদ্দিকী কিছুটা অসুস্থতার কারণে বাসায় বিশ্রামে আছেন। বাগান পরিচর্জা করছেন তারই ছোট ভাই হাবিবুর রহমান। কথা হয় তার সাথে।

হাবিবুর রহমান জানান, তার বড় ভাই অত্যন্ত সৌখিন একজন মানুষ। মসজিদে ইমামতি করতেন এক সময়। নিজের নার্সারিও দেখাশোনা করতেন। এরই সাথে তিনি মাল্টা, আঙুর, আনারকলিসহ বিভিন্ন ফলের চাষ শুরু করেন। পাশাপাশি নতুন ফল জাপানের জাতীয় ফল পার্সিমনের চাষ শুরু করেন। নার্সারি ব্যবসা কারণে তার বহু মানুষের সাথে সুম্পর্ক গড়ে ওঠে। তেমনই এক ব্যক্তির মাধ্যমে তিনি নতুন এই ফলের চারা সংগ্রহ করেন।

বাংলাদেশের মাটিতে পার্সিমনের চাষ করা যে সম্ভব সেটি প্রমাণ করেছেন আমার ভাই। কমলালেবুর মতো দেখতে এই ফল যেন আঙুর ফলের মতো ধরেছে। এক কেজি ফলের দাম ১২শ টাকা। এ বছর প্রতিটি গাছে যে পরিমাণ ফল এসেছে তাতে কয়েক মণ ফল বাজারজাত করা সম্ভব হবে বলে মনে করা হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা সন্নাসী হালদার, শুকুর আলী ও টিপু সুলতান বলেন, ফলচাষি জুলফিকার নতুন এই ফলের চাষ করে গোটা উপজেলায় আলোড়ন সৃষ্টি করেছেন। গাছে ফল পাকা শুরু করেছে। আমরা খেয়েছি। অনেক সুস্বাদু ফল। তার সাফল্যে অনেকেই অনুপ্রাণিত হয়ে পার্সিমন চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।

জুলফিকার আলীর ছোট ভাই হাবিবুর রহমান বলেন, ফলচাষে সাফল্য অর্জন করায় সরকার ভাইকে প্রায় অর্ধকোটি টাকা ব্যয়ে পলিঘর উপহার দিয়েছে। এই পলি ঘরে তিনি বিভিন্ন জাতের ফলফলাদি চাষ করতে পারবেন। এতে সুবিধা হলো, পোকা- মাকড়ের আক্রমণ কম হবে। এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগেও ফলের ক্ষতি হবে কম। ইতোমধ্যে কৃষি অফিস থেকে অফিসাররা পরিদর্শন করেছেন। দ্রুতই এটি উদ্বোধন করা হবে।

বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, পার্সিমন একটি পুষ্টিকর ও মিষ্টি ফল যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে ও শরীর সুস্থ রাখতে কার্যকরি। এই ফলের প্রধান উপকারিতা হচ্ছে, এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি ও ভিটামিনন এ, যা শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।

উপজেলা কৃষি অফিসার মুসাব্বির হুসাইন বলেন, ফলচাষি জুলফিকার আলী সিদ্দিকীর সাফল্যে আমরা গর্বিত। সম্প্রতি আমিসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার বাগানে গিয়েছি। গাছে ফল দেখে মুগ্ধ হয়েছি। নুতন নতুন ফলের চাষাবাদে যেমন কৃষক লাভবান হন, তেমন অর্থনীতিতে দেশ এগিয়ে যায়। সে কারণে নতুন চাষাবাদে আমরা কৃষককে সর্বদা উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি।