যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে আওয়ামী লীগের ঠিকাদারকে কাজ দিতে শর্ত পরিবর্তনের অভিযোগ

0

 

স্টাফ রিপোর্টার ॥ স্বৈরাচার শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তার দলীয় অনুসারীদের ঠিকাদারী কাজ বাগিয়ে দিতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতারে তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদ। হাসপাতালের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের স্টেশনারি মালামাল, বিবিধ মালামাল ও কাপড় ধোলাইয়ের কাজের জন্যে আহ্বান করা দরপত্রের কাজ আওয়ামী লীগের ঠিকাদারের অনুকূলে দিতে তিনি রীতিমত কুটকৌশল চালিয়ে যাচ্ছেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়কের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ সাধারণ ঠিকাদারদের। এ জন্যে দরপত্রে শর্তাবলী পরিবর্তন করা হয়েছে । দরপত্র দাখিলের তারিখ স্থগিত করা হলেও তার পূর্ণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি। এছাড়া স্থগিত হওয়া তারিখের আগেই দরপত্র দাখিল করারও অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের ২০২৪-২৫ অর্থ বছরের স্টেশনারি মালামাল, বিবিধ মালামাল এবং কাপড় ধোলাই কাজের জন্যে দরপত্র আহ্বান করা হয়। এই কাজের জন্যে দরপত্রে ২৩ টি শর্ত আরোপ করা হয়। অথচ একই কাজের বিগত ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আহ্বান করা দরপত্রে ২২ টি শর্ত উল্লেখ ছিল। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশিদ গেল ১৫ জুলাই ওই দরপত্রে স্বাক্ষর করেন। তিনটি কাজের জন্যে ১৩টি দরপত্র জমা পড়ে। এরমধ্যে তিনটি ডাকযোগে ও বাকিগুলো সরসারি দরপত্রের বাক্সে জমা দেওয়া হয়। সেখানে দরপত্রের ২২ নম্বর শর্তবলীতে বলা হয় ( ২০২১-২২, ২০২২-২৩, ২০২৩-২৪) তিন অর্থ বছরের যেকোন এক অর্থ বছরে সরকারি যে কোন স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ১২ লাখ টাকার স্টেশনারি / বিবিধ মালামাল সরবরাহের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। কিন্তু একই কাজের জন্যে ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে আহ্বান করা দরপত্রে ২২ টি শর্তের মধ্যে এমন কোন শর্ত নেই।
২০২৪-২৫ অর্থ বছরে তিনটি কাজের জন্যে আহ্বান করা দরপত্রে বলা হয় ৫ আগস্ট সকাল ৯ টা থেকে ১১ টার মধ্যে দরপত্র দাখিল করতে হবে। কিন্তু তার দুইদিন আগে ডাকযোগে তিনটি দরপত্র পাঠানো হয় বলে হাসপাতালের একটি বিশ্বস্ত সূত্র থেকে জানা যায়।
তবে হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ স্বৈরাচার সরকারের পতনের পর দেশের পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে পূর্ব নির্ধারিত দরপত্র দাখিলের তারিখ পরিবর্তন করে ২০ আগস্ট নির্ধারণ করা হয়। পরবর্তীতে যার কোন পুনঃবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়নি।
হাসপাতালে বিগত সময়ে একাধিক কাজের সাথে যুক্ত থাকা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে এই প্রতিবেদকের কথা হয়। তারা জানান, হাসপাতাল আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ঠিকাদাররা জিম্মি করে রেখেছেন। হাসপাতালে তাদের নিজস্ব পেশিশক্তির বলয় রয়েছে। সেই শক্তির বলে তারা এককভাবে কাজ বাগিয়ে নেয়। তাদের কারণে সাধারণ কোন ঠিকাদার দরপত্র দাখিল করতে পারেন না। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতির পরও হাসপাতারের তত্ত্বাবধায়ক সেই ঠিকাদারদের অনুকূলে কাজ দিতে নিজের মনগড়া দরপত্র আহ্বান করেছেন।
এ বিষয় যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে তত্ত্বাবধায়ক হারুন অর রশীদ বলেন, সচ্ছতা বজায় রেখে দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। শিডিউল জমাদানের সময়সীমা বৃদ্ধির বিষয়টি নোটিশের মাধ্যমে জানানো হয়েছে। আমার দপ্তরের নোটিশ বোর্ডেও টানানো হয়েছে।
এ দরপত্রে ১২ লাখ টাকার মালামাল সরবরাহের অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাজের স্বার্থে অভিজ্ঞতা চাইতে পারি। অনেকে ভুয়া কাগজপত্র দেখিয়ে কাজ বাগিয়ে নেয়। তাছাড়া দরপত্র আহ্বান এই ধরনের অভিজ্ঞতা চাওয়া অযৌক্তিক না।