যশোর-১ ও যশোর-২ আসনের মনোনয়নপত্র বাছাই

বাদ পড়লেন হাসান জহির, বিএনপির অ্যাড.ইসহক ও জামায়াতের মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ

0
ছবি: সংগৃহীত।

তহীদ মনি ॥ ১ জানুয়ারি যাচাই বাছাই শেষে যশোর-১ (শার্শা) আসনের ও যশোর-২ (ঝিকরগাছা-ছৌগাছা) আসনের ১৮টি মনোনয়নপত্রের মধ্যে ৬টি বৈধ বলে বিবেচিত হয়েছে রিটার্নিং অফিসারের কাছে। অবশিষ্টদের মধ্যে ৭টি সরাসরি বাতিল হয়েছে। অন্যদেরগুলো রয়েছে স্থগিত।

জানা গেছে, যশোর-১ শার্শা আসনের একমাত্র বৈধ প্রার্থী জামায়াতের মুহাম্মাদ আজীজুর রহমান। এছাড়া স্বতন্ত্র শাহজাহান আলী গোলদার এবং আবুল হাসান জহির এক শতাংশ শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ায় তাদের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। সামান্য ত্রুটি বিচ্যুতি থাকায় বিএনপির নুরুজ্জামান লিটন ও মফিকুল হাসান তৃপ্তি, জাতীয় পার্টির জাহাঙ্গীর আলম চঞ্চল ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী বক্তিয়ার রহমানের মনোনয়নপত্র সাময়িক স্থগিত করেছে জেলা রির্টার্নং অফিসার।

আসনটিতে ৭ জন প্রার্থী তাদের মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। আগামী ৪ জানুয়ারির মধ্যে স্থগিত হওয়া মনোনয়নপত্রের প্রার্থীরা শর্ত পূরণ করলেই তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করতে পারবেন জেলা রিটার্নিং অফিসার ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।

এদিকে যশোর-২ (ঝিকরগাছা-ছৌগাছা) আসনে ১০ জনের ১১টি মনোনয়নপত্র জমা হলেও বৃহস্পতিবারের যাচাই বাছাই শেষে ৪ জনের ৫টি মনোনয়নপত্র বৈধ বলে ঘোষণা করেন জেলা রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ আশেক হাসান। এর মধ্যে বিএনপির মনোনয়ন প্রাপ্ত মোসা. সাবিরা সুলতানার দুটি, ইসলামী আন্দোলন বালাদেশের প্রার্থী মো. ইদ্রিস আলী, আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবিপার্টি) রিপন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ সামাজতান্ত্রিক দল-বাসদ এর ইমরান খানের মনোনয়নপত্র রয়েছে।

তবে যশোর-২ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষে বাতিল করা হয়েছে। ২০ বছর আগের একটি ৪০ হাজার টাকার ক্রেডিট কার্ড বিষয়ে একটি ব্যাংক আপত্তি তুলেছিল এবং ঋণখেলাপির অভিযোগ আনে ব্যাংকটি । তথ্যটি জানার পর মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ সব দায় পরিশোধ করে এনওসি আনলেও তা ২৯ ডিসেম্বরের পরে বিধায় জেলা রিটার্নিং অফিসার নিয়মানুসারে সেটি গ্রহণ করার ক্ষমতা তার নেই বলে জানান।

নির্বাচন সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিনি নির্বাচনী আপিল আদালতে আবেদনের সুযোগ পাবেন। যেহেতু বকেয়া টাকা পরিশোধ করা হয়েছে, সেহেতু আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

একই আসনে বিএনপির প্রার্থী মোহাম্মদ ইসহকের দলীয় মনোনয়ন সংবলিত পত্র না থাকায় তার প্রার্থিতা বাতিল হয়েছে। এছাড়া ১ শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষরে গড়মিল থাকায় স্বতন্ত্র প্রার্থী মেহেদী হাসান এবং মিথ্যা তথ্য দেওয়ায় স্বতন্ত্র প্রার্থী জহুরুল হকের মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে। এ আসনে সাবিরা সুলতানার ২টি মনোনয়নপত্র দাখিল করেন। একটি বৈধ হওয়ায় অন্যটিও বৈধ বলে ধরা হয়।

অন্যদিকে, যশোর-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী নুরুজ্জামান লিটন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী হাসান জহির ও শাজাহান গোলদারের মনোনয়নপত্রের সাথে জমাকৃত তথ্যাদি সংশোধনের জন্য ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত সময় দিয়েছে জেলা রিটার্নিং অফিসার। যথায়থ শর্ত পূরণ করতে পারলে তাদের মনোনয়নপত্র বৈধ হতে পারে বলে নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার সকালে জেলা কালেক্টরেট ভবনের অমিত্রাক্ষর মিলনায়তনে এই মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই কাজ অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় জানানো হয় ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত যাচাই বাছাই চলবে। এর মধ্যে সংশোধনযোগ্য ছোটোখাটো ত্রুটি যা নির্বচন কমিশন রিটার্নিং অফিসারকে সংশোধনের ক্ষমতা দিয়েছে তা সংশোধন সাপেক্ষে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করা হবে। আজকের এই যাচাই বাছাই শেষের ফল চূড়ান্ত নয়।

চূড়ান্তভাবে বতিলকৃত মনোনয়নপত্রের প্রার্থীরা ৫ থেকে ৯ জানুয়ারির মধ্যে নির্বাচন কমিশনে সরাসরি যোগযোগের মাধ্যমে তাদের প্রার্থিতা ফিরেও পেতে পারেন। এখান থেকে বাতিলকৃতদের ৫ জানুয়ারির আগেই সার্টিফাইড কপি দেওয়া হবে যা নিয়ে তারা নির্বাচন কমিশনে যেতে পারবেন।

যাচাই-বাছাইকালে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মো. জাহাঙ্গীর আলম রাকিব, ডিডিএলজি রফিকুল হাসান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা) খান মাসুম বিল্লাহ, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ইরুফা সুলতানাসহ সেনা, পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাব এর প্রতিনিধি, ব্যাংকসহ বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, প্রার্থী ও তাদের আইনজীবী প্রমুখ।