যশোর পৌরবাসীর আন্দোলনের মুখে পালালেন মেয়র

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ উন্নয়নবঞ্চিত যশোর পৌরবাসীর রোষানলের শিকার হয়ে নিজ কার্যালয় থেকে পালিয়ে গেলেন পৌরসভার মেয়র হায়দার গণী খান পলাশ। রোববার দুপুর একটার কিছু সময় আগে আমজনতার আন্দোলনে অবস্থা বেগতিক দেখে তিনি পালিয়ে যান। এর আগে সকাল থেকে উন্নয়ন বঞ্চিত বিক্ষুব্ধ যশোর পৌরবাসী পৌর ভবনসহ গোটা এলাকায় অবস্থান নেন।
রোববার সকাল থেকে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডের উন্নয়নবঞ্চিতরা পৌর ভবনসহ গোটা এলাকায় অবস্থান নেন। এ সময় তারা পৌর মেয়রকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করে স্লোগান দিতে থাকেন। দফা এক দাবি এক, মেয়রের পদত্যাগ। অবৈধ মেয়র, মানি না মানবো না। ভোট চুরির মেয়র, মানি না মানবো না- এমন স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে গোটা পৌর এলাকা। এমন অবস্থার মধ্যে পৌনে ১১ টার দিকে মেয়র হায়দার গণী খান পলাশ পৌর ভবনে আসেন এবং নিজ কার্যালয়ে যান। এরপর বিক্ষুব্ধ জনতা আরও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। পরে বিক্ষুব্ধ জনতার চাপ সামলাতে না পেরে মেয়র নিজ কার্যালয় থেকে পালিয়ে যান। এ সময়ও তারা পালাইছেরে পালাইছে, মেয়র পালাইছে -মেয়রকে নিয়ে এমন স্লোগান দিতে থাকেন।
পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুল বারিক বলেন, আমরা পৌরবাসী নিয়মিত পৌরকর পরিশোধ করেও উন্নয়নবঞ্চিত। আমার এলাকায় ড্রেন ও রাস্তা- ঘাটের কোনো উন্নয়ন হয়নি। উনি আমাদের দেওয়া অর্থ কেবল লোপাট করেছেন। আমাদের ভাগ্যের পরিবর্তন না ঘটিয়ে উনি নিজের ভাগ্যের পরিবর্তন ঘটিয়েছেন। এমন দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিকে আমরা পৌর মেয়র হিসেবে দেখতে চাই না।
পৌরসভার ৯ ওয়ার্ডের বাসিন্দা আব্দুর রশিদ বলেন, তার মতো (হায়দার গণী খান পলাশ) দুর্নীতিবাজ ব্যক্তি ইতঃপূর্বে পৌর মেয়রের দায়িত্ব লাভ করেনি। তিনি একজন আপদমস্তক দুর্নীতি পরায়ন ব্যক্তি। আমার এলাকায় জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট। সামান্য বৃষ্টি হলেই আমরা জলাবদ্ধতার শিকার হই। কিন্তু আজ পর্যন্ত উনি সমস্যার সমাধান করেননি। তিনি দুর্বৃত্তদের নিয়ে অফিস করেন। সেই দুর্বৃত্তদের কাছে আমরা পৌরবাসী এক প্রকার জিম্মি হয়ে আছি। পৌরসভায় কোনো কাজে গেলে সেই দুর্বৃত্তদের কথামতো করতে হয়।
৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা রিয়াজুল ইসলাম বলেন, তিনি (পৌর মেয়র) আমাদের ভোটে নির্বাচিত না। তিনি কোনো জনপ্রতিনিধি না, একজন দুর্নীতিবাজ। তার মতো দুর্নীতিবাজ জনপ্রতিনিধি দ্বারা কোনদিন জনগণের ভাগ্যের উন্নয়ন ঘটতে পারে না। সে কারণে আমরা পৌরকর পরিশোধ করেও আজ উন্নয়নবঞ্চিত।
এ বিষয় পৌরসভার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী কথা বলতে রাজি হননি। এমনকি পৌর মেয়র নিজেও কথা বলতে চাননি।