যশোর চেম্বারের নির্বাচন : আদালতে মামলা নিয়ে একপক্ষ সরব হলেও অন্যপক্ষ নীরব

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর চেম্বার অব কমার্সের নির্বাচনের ওপর স্থিতাবস্থা খারিজের আবেদন করার সব ধরণের প্রস্তুতি নিয়েছে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের প্রার্থীরা। রবিবার তারা মামলার বিবাদী হিসেবে স্বেচ্ছায় বিবাদি শ্রেণিভুক্ত হওয়ার পর এ প্রক্রিয়ার দিকে এগুচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের ১৮ জন সদস্য মামলার বিবাদী হিসেবে স্বেচ্ছায় শ্রেণিভুক্ত হলেও ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদের ১৮ জন প্রার্থী এ বিষয়ে এখনো নীরব রয়েছেন। তারা মুখে নির্বাচনের পক্ষে কথা বললেও তাদের কোন ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। যেকারণে এ নিয়ে ব্যবসায়ী মহলে নানা আলোচনা-সমালোচনা হচ্ছে।
এ বিষয়ে সোমবার রাতে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের নেতা চেম্বারের সাবেক সভাপতি মিজানুর রহমান খাঁন বলেন, যশোরের ব্যবসায়ীদের স্বার্থ ও সুরক্ষার জন্য বরাবরই আমরা নির্বাচনের পক্ষে ইতিবাচক ভুমিকা রেখে আসছি। আমরা চাই খুব দ্রুত একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মাধ্যমে চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রির পরিচালনার দায়িত্ব ব্যবসায়ীদের হাতে আসুক। তাই মামলা খারিজের জন্য মঙ্গলবার আদালতে আমাদের পক্ষ থেকে আবেদন করা হবে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, গতকাল এ বিষয়ে শুনানি হওয়ার কথা থাকলেও এদিন চেম্বারের প্রশাসকের পক্ষে জিপি কাজী বাহাউদ্দীন ইকবাল সময় প্রার্থনার আবেদন জানানোর কারণে এখনও শুনানি হয়নি। যেকারণে ব্যবসায়ী ঐক্য পরিষদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে স্বেচ্ছা বিবাদী হিসেবে মামলা খারিজের আবেদন করবেন। এদিকে চেম্বার নির্বাচন নিয়ে আদালতে মামলা ও পরবর্তীতে নির্বাচন স্থগিতের সিদ্ধান্ত নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদ নির্বাচনের পক্ষে অবস্থান স্পষ্ট করলেও তাদের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোন কার্যক্রম পরিলক্ষিত হচ্ছে না। যেকারণে তাদের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ ব্যবসায়ীদের মাঝে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ভোটার বলেন, চেম্বার নির্বাচন স্থগিত নিয়ে ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদের কোনো কোনো সদস্যর ইন্ধনের বিষয়টি এখন পুরোপুরি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। তারা যদি সত্যিই নির্বাচনের পক্ষে থাকতো তাহলে এক পক্ষ স্বেচ্ছায় বিবাদী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হলেও তারা কেনো এ বিষয়ে নীরব রয়েছেন?  সোমবার রাতে এ বিষয়ে ব্যবসায়ী অধিকার পরিষদের নেতা হুমায়ূন কবীর কবু লোকসমাজকে বলেন, আমরাও এ বিষয়ে আদালতে স্বেচ্ছায় বিবাদী হিসেবে শ্রেণিভুক্ত হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছি। তবে এতো দিন কেনো হননি এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগামীকাল (আজ) এ বিষয়ে তারা সিদ্ধান্ত নেবেন।
গত ৭ জানুয়ারি যশোর চেম্বার অব কমার্স ইন্ড্রাস্ট্রির নির্বাচনের দিনক্ষণ চূড়ান্ত ছিলো। দীর্ঘ সাত বছর পর ঝুলে থাকা নির্বাচনকে ঘিরে যশোরের ব্যবসায়ীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা দেখা যায়। নির্বাচনে দুইটি প্যানেলে প্রার্থীরা অংশ নেন। কিন্তু ভোটগ্রহণের মাত্র দুইদিন আগে ভোটার তালিকায় থাকা কয়েকজন সদস্যর বৈধতা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ এনে গত বুধবার আদালতে নালিশি আবেদন করেন মেসার্স পারভেজ ট্রেডার্সের মালিক মেহেদী হাসান। এ আবেদনের প্রেক্ষিতে যশোরের সিনিয়র সহকারী জজ সুজাতা আমিন বিবাদীদের এক কার্যদিবসের মধ্যে আদালতে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে শুনানিতে অংশগ্রহণের নির্দেশ দেন। এর পরদিন মামলার কারণে চেম্বারের নির্বাচন স্থগিত ঘোষণা করেন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির আহবায়ক।