যশোর ও কেশবপুরের দুই ইউনিয়নে নির্বাচন নিয়ে হিংসাত্মক ঘটনা

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠছে যশোর সদর ও কেশবপুর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের পরিবেশ। একের পর এক সহিংস ঘটনাকে কেন্দ্র করে ভোটাররা আতঙ্কিত হয়ে পড়ছেন। স্থানীয়রা জানান, বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টার দিকে সদর উপজেলার দেয়াড়া ইউনিয়নের আলাদা দুই গ্রামে ককটেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। ওয়ার্ড যুবলীগের সভাপতি ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী মাসুদ রানা ফন্টু জানান, তিনি মোরগ প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে প্রচারণা শেষ করে বাড়িতে যান। এর কিছু সময় পরই তার বাড়ির সিঁড়িতে দূর থেকে একটি ককটেল নিক্ষেপ করে মোটরসাইকেলে তারা চলে যায়। তিনি জানান,তার ভাগ্নে আনিছকে ওই এলাকার মহিন, শামিনুর, সাগর, রোহানী, সাদ্দামসহ আরও কয়েকজন কোনো কারণ ছাড়ায় মারধর করে। তিনি বিষয়টির প্রতিবাদ জানান। এ ঘটনার জের ধরে এ ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি দাবি করেন।
নারাঙ্গালী বাজারের পাশের বাসিন্দা ইউনিয়ন যুবলীগের সদস্য হারুনার রশিদ জানান, তিনি ঘরে ঘুমিয়েছিলেন। এমন সময় একটি মোটরসাইকেলে কয়েকজন সন্ত্রাসী বাড়ির সামনে এসে ডাক চিৎকার দেয়। সবশেষে বাড়ির টিনে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাতে থাকে। অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এরপর বাড়ির সামনের গলিতে ককটেল নিক্ষেপ করে। বিভিন্ন ধরনের হুমকি ধামকি দিয়ে চলে যায়। তবে, তিনি কাউকেই চিনতে পারেননি বলে জানান । নৌকার পক্ষে কাজ করায় তার বাড়িতে হামলা চালানো হয়েছে বলে তিনি ধারণা করছেন । এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী প্রভাষক লিয়াকত আলী বলেন, পূর্ব পরিকল্পিত ভাবেই তার কর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। যা তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরাই করছেন বলে তিনি দাবি করেন। এ বিষয়ে তিনি আইনি পদক্ষেপ নেবেন বলেও জানান। এ বিষয়ে দেয়াড়া ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা কোতোয়ালি থানার এসআই খান মাইদুল ইসলাম বলেন, ঘটনার পর ওই এলাকায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করা হয়েছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে ও একই সাথে জড়িতদের আটকের চেষ্টা চলছে। এদিকে, একই রাতে উপজেলার রামনগর ইউনিয়নে নৌকার নির্বাচনী অফিসে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার গভীর রাতে সদর উপজেলার রামনগর ইউনিয়নের ডহরসিঙ্গিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। তবে এতে বড় ধরনের কোন দুর্ঘটনা না ঘটলেও অফিসটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

স্থানীয় আওয়ামী লীগের কর্মীদের দাবি, রাতের কোন এক সময়ে দুর্বৃত্তরা পেট্টোল দিয়ে নির্বাচনী অফিসে আগুন ধরিয়ে দেয়। এতে অফিসটি পুড়ে যায়। সকালে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী নাজনীন নাহার বলেন, ‘নির্বাচনী কাজ শেষ করে আমাদের দলের নেতাকর্মীরা রাত সাড়ে ১২টার দিকে বাড়ি চলে যায়। সকালে ওই ওয়ার্ডের সভাপতি আমার মোবাইল ফোনে কল করে নির্বাচনী অফিস আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার খবর জানান। পরে আমি ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি, আগুনে অফিসের চেয়ার-টেবিল, ব্যানার ও পোস্টার পুড়ে গেছে।’ এ ঘটনায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের দায়ী করেন তিনি। একই সাথে ঘটনার সাথে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন তিনি। এ ঘটনার প্রতিবাদে চেয়ারম্যান প্রার্থী নাজনীন নাহারের সমর্থকরা বিক্ষোভ করে বলে এলাকাবাসী জানান। যশোর কোতয়ালি থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পরিদর্শনে যায় বলে নাজনীন নাহার জানান। এ বিষয়ে জেলা সিনিয়র নির্বাচন অফিসার মো. হুমায়ূন কবীর বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে যশোর সদরের ১৫ ইউনিয়নে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বিরাজ করছে। রামনগর ও দেয়াড়ায় যে ঘটনা ঘটেছে বলা হচ্ছে এ বিষয়ে এখনো আমার কাছে কেউ অভিযোগ করেননি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি জানান।
স্টাফ রিপোর্টার, কেশবপুর (যশোর) ॥ আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে কেশবপুরের সুফলাকাঠি ও গৌরিঘোনা ইউনিয়নে আলাদা ঘটনায় নৌকা প্রতীকের কর্মীদের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর ও কর্মীদের পিটিয়ে আহত করার অভিযোগ এনেছেন প্রার্থীরা। সুফলাকাঠি ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মুনজুর রহমানের কলাগাছি বাজারে চশমা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা। খবর পেয়ে বৃহস্পতিবার রাতে ঘটনাস্থলে পৌছালে অজ্ঞাতনামা প্রাইভেটকার আরোহীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে পালিয়ে যায় বলে সাংবাদিকদের জানান মুনজুর রহমান। শুক্রবার কলাগাছি বাজারে তার বহরে থাকা জোবান মোল্যা ও নাইম সরদারকে নৌকার কর্মী সারুটিয়া গ্রামের পচার ছেলে শাহিন ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। তিনি সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশের দাবি জানান। এদিকে, গৌরিঘোনা ইউনিয়নের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাসুদুর রহমান অভিযোগ করেছেন তার গৌরিঘোনা বাজারে চশমা প্রতীকের নির্বাচনী অফিস ভাঙচুর করেছে নৌকা প্রতীকের কর্মীরা। এ ঘটনার প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেলে গৌরিঘোনা বাজার চত্বরে তিনি বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভ সমাবেশে দলমত নির্বিশেষে হাজারো মানুষ উপস্থিত হন। সমাবেশে মাসুদুর রহমান বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমানের নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার গৌরিঘোনা বাজারের নির্বাচনী কার্যালয় ভাঙচুর করে। এ বিষয়ে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী এস এম হাবিবুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় তার কোনো কর্মী সমর্থকরা জড়িত নেই। কেশবপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বোরহান উদ্দীন বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।