যশোর ঈদগাহে বিশাল সমাবেশে আল্লামা আহমদ শফী কাদিয়ানিরা মুসলিম না, তারা কাফির

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কাদিয়ানিদের অমুসলিম হিসেবে রাষ্ট্রীয় ঘোষণার দাবিতে ঢাকায় বড় ধরনের সমাবেশ করতে চান হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমীর ও বাংলাদেশ কওমি বোর্ডের সভাপতি আল্লামা শাহ আহমদ শফী। তিনি বলেন, কাদিয়ানিরা মুসলিম না, যারা এদের মুসলিম ভাবে বা মুসলিম বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তারাও মুসলিম নয়। তারা কাফির। আর তাদের মসজিদকে মসজিদ বলা যাবে না ওটা মন্দির। তারা বাংলাদেশে মুসলিম হিসেবে নয় অন্য ধর্মলম্বীদের মতো থাকতে পারবে। হেফাজতে ইসলামের আমীর আল্লামা শাহ আহমদ শফী শনিবার দুপুরে যশোর ঈদগাহে অনুষ্ঠিত যশোর দড়াটানা মাদ্রাসার দাওরায়ে হাদিস (টাইটেল) ডিগ্রি অর্জনকারীদের দস্তারবন্দী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন।
মাওলানা আহমদ শফী বলেন, এই বয়সে-অসুস্থ শরীরে আমি সারাদেশে সফর করে বেড়াচ্ছি। এর একটি সৎ উদ্দেশ্য আছে। তা হলো কাদিয়ানিদের অমুসলিম ঘোষণার দাবি আদায়ের জন্য। পর্যায়ক্রমে দেশের সকল বিভাগে সফর করা হবে। সর্বশেষ সব বিভাগে গণজমায়েত শেষে ঢাকায় লোকজন নিয়ে হাজির হবো ঢাকায়। ঢাকার মধ্যে একটি বড় সমাবেশ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বলবো- তুমিওতো মুসলমান, আমরাও মুসলান। তোমাকে জানাতে এসেছি গোলাম আহমেদ কাদিয়ানিরা মুসলিম নয়। যারা এদের মুসলিম ভাবে বা মুসলিম বলে সন্দেহ প্রকাশ করে তারাও মুসলিম নয়। তারা কাফির। এদের সাথে আত্মীয়তা করা যাবে না। মুসলিমের কবরস্থানে তাদের দাফন হয়ে থাকলে লাশ তুলে নদীতে ভাসিয়ে দিতে হবে।
হেফাজতে ইসলামের আমীর আহমদ শফী আরও বলেন, আমাদের নবী হযরত মোহাম্মাদ স. এর পর কোনো নবী আসবে না এটি চিরন্তন সত্য। তিনিই একমাত্র শেষ নবী। অথচ কাদিয়ানিরা আমাদের নবীকে শেষ নবী মানে না। গোলাম আহমেদ কাদিয়ানি নিজেকে শেষ নবী দাবি করে। ফলে তারা ও তাদের অনুসারীরা কাফির। যারা নিজেকে মুসলামান দাবি করেন তারা তাদেরকে মুসলমান হিসেবে স্বীকৃতি বা সন্দেহ করতে পারে না। এ সময় তিনি উপস্থিত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, দাবি আদায়ে আপনারা প্রয়োজনে শহীদ হতে রাজি আছেন কিনা ? তখন উপস্থিত জনতা হাত উঁচু করে সমর্থন জানান।
দড়াটানা মাদ্রাসার প্রিন্সিপাল মুফতি মুজিবুর রহমানের সভাপতিতে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ কওমি বোর্ডের সহ-সভাপতি আল্লামা আব্দুর রহমান হাফেজ্জি, মাওলানা হাসান জামিল ঢাকা, মাওলানা আব্দুল বাসিত খান সিরাজগঞ্জ, মাওলানা মোস্তাক আহমেদ, মুফতি নুরুল আমিন, মুফতি মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম, মুফতি মাওলানা মো. আব্দুল মান্নান, দড়াটানা মাদরাসার পরিচালনা পরিষদের নির্বাহী সম্পাদক আলহাজ তানভীরুল ইসলাম সোহানসহ অন্যান্যরা। সভা পরিচালনা করেন, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া দড়াটানা মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা মরহুম মুফতি মাওলানা মো. আলী আকবরের ছেলে মুফতি মাওলানা মো. নাসিরুল্লাহ। ইসলামী সমাবেশকে ঘিরে যশোরসহ আশপাশ জেলার বিভিন্ন কওমি মাদরাসার শিক্ষক শিক্ষার্থী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার লক্ষাধিক মানুষের লোকের সমাগম ঘটে। এর আগে দড়াটানা মাদ্রাসা থেকে গত ২৫ বছরে দাওরায়ে হাদিস-টাইটেল ডিগ্রি অর্জনকারী ৬শ জন শিক্ষার্থীকে দস্তারবন্দী-তথা পাগড়ি প্রদান করেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। এর আগে দুপুরে চট্রগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসা ময়দান থেকে হেলিকপ্টার যোগে যশোরের উদ্দেশ্যে রওনা হন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। দুপুর ১ টার দিকে যশোর শামসুল হুদা স্টেডিয়ামে তাঁকে বহনকারী হেলিকপ্টারটি এসে পৌঁঁছায়। পরে সেখান থেকে নিয়ে যাওয়া হয় যশোর শহরের একটি অভিজাত হোটেলে। সেখানে অবস্থান করার দুপুর পৌনে ৩ টায় যশোর কেন্দ্রীয় ঈদগাহে এসে তিনি পৌঁঁছান। এ সময় ১০৮ বছর বয়সী উপমহাদেশের প্রখ্যাত এ আলেমকে হুইল চেয়ারে করে মঞ্চে তোলা হয়। মঞ্চে মাত্র ৪০ মিনিট সময়ের মধ্যে দস্তারবন্দী-তথা পাগড়ি প্রদান ও বক্তব্য দিয়ে বিকেল ৩ টা ৪০ মিনিটের দিকে হেলিকপ্টারে করে আবার চট্রগ্রামের হাটহাজারী মাদরাসার উদ্দেশ্যে রওনা হন।