ঝিনাইদহে আন্তঃজেলা ডাকাত দলের ১০ জন আটক, ইজিবাইকসহ লুণ্ঠিত মালামাল উদ্ধার

0
ছবি: সংগৃহীত।

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা ॥ ঝিনাইদহ পুলিশ আন্তঃজেলা ডাকাত চক্রের ১০ সদস্যকে আটক করেছে। সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও ঝিনাইদহ সদর থানা পুলিশের যৌথ অভিযানে তারা আটক হয়। এই চক্রটির কাছ থেকে ছিনতাই হওয়া ইজিবাইক, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়।

শনিবার দুপুরে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ঝিনাইদহ পুলিশ সুপার কার্যালয় এ তথ্য জানায়। মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, কোটচাঁদপুর উপজেলার তালসার গ্রামের মৃত আব্দুল জব্বারের ১৪ বছর বয়সী ছেলে মিশকাত। বাবার অকালমৃত্যুর পর পরিবারের একমাত্র অবলম্বন একটি ইজিবাইক চালিয়ে সে তার সংসারের হাল ধরেছিল।

গত ১৯ জুলাই বিকেলে কোটচাঁদপুর রেলগেট থেকে যাত্রীবেশে চারজন ডাকাত মিশকাতের ইজিবাইকে ওঠে। তারা কৌশল করে তাকে ঝিনাইদহ সদর এলাকার বংকিরা মাঠসংলগ্ন জনমানবহীন স্থানে নিয়ে যায়।

সেখানে রাস্তা থেকে দূরে নির্জন এক মেহগনি বাগানে মিশকাতের মুখ ও হাত-পা বেঁধে ফেলে তাকে ফেলে রাখা হয়। এরপর তার একমাত্র সম্বল ইজিবাইক ও মোবাইল ফোনটি নিয়ে চম্পট দেয় ডাকাতরা। এ ঘটনায় মিশকাতের চাচা ২১ জুলাই ঝিনাইদহ সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

ঘটনার পর ঝিনাইদহের পুলিশ সুপার মিয়া মোহাম্মদ আশিস বিন হাছান (পিপিএম) অপরাধীদের শনাক্তে সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল ও সদর থানা পুলিশকে বিশেষ নির্দেশ দেন।

তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত দল চুয়াডাঙ্গা সদর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছিনতাইয়ে সরাসরি জড়িত মূল আসামি ডাকাত সরদার আকাশকে আটক করে। তার দেওয়া তথ্যে কুষ্টিয়া সদর এলাকা থেকে সরাসরি যুক্ত অন্য তিন ডাকাত জিয়ারুল ওরফে জিয়া (৪৪), সিরাজুল ইসলাম (৪০) ও আখতার মোল্লাকে (৪০) আটক করা হয়।

পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যমতে লুণ্ঠিত মালামাল ক্রয়-বিক্রয়ে জড়িত রাশিদুল ইসলাম ওরফে বল্টু (৫০), লিটন আলী (৫০), সজীব শেখ (২৪), মাসুদ রানা (৩২), কুমারখালী এলাকা থেকে ইসলাম খান ওরফে তাহের (৬৫) এবং মিরপুর এলাকা থেকে আশরাফুল ইসলামকে (৪২) আটক করা হয়। আসামিদের কাছ থেকে মিশকাতের ইজিবাইক, ১টি লুণ্ঠিত মোবাইল ফোসসহ সর্বমোট ৮টি মোবাইল ফোন এবং ইজিবাইক বিক্রির ৩ হাজার ৪শ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শেখ বিল্লাল হোসেন জানান, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আকাশ, জিয়া, সিরাজুল ও আখতার স্বীকার করেছে তারা দীর্ঘদিন ধরে ঝিনাইদহ, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মাগুরা ও পাবনা অঞ্চলে মহাসড়ক ও আঞ্চলিক সড়কে দস্যুতা ও ডাকাতি করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। আটকদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।