যশোরে সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ জেলা আইন শৃঙ্খলা কমিটির সভায়

0

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোরে সড়ক দুর্ঘটনা বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। একই সাথে দুর্ঘটনা প্রতিরোধে করণীয় সম্পর্কেও আলোচনা করা হয়। গতকাল রোববার সকাল সাড়ে ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের অমিত্রাক্ষর সভাকক্ষে আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় বলা হয়, গত মার্চ মাসে জেলায় ১১টি সড়ক দুর্ঘটনা হয়। দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত এবং ৯ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে শুধুমাত্র মনিরামপুরে নিহত হয়েছেন ১০ জন। এছাড়া অভয়নগরে ২ জন, বাঘারপাড়ায় ১ জন ও ঝিকরগাছায় ২ জন নিহত হয়েছেন।

সভায় যশোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান বাবলু দুর্ঘটনার জন্য হাইওয়ে সড়কে ইজিবাইকসহ ছোট যানবাহন চলাচলকে দায়ী করেছেন। এসব বাইক চলাচল বন্ধেরও দাবি জানান তিনি।

সভায় উপস্থিত পুলিশ সুপার রওনক যশোর বাস মালিক সমিতির সভাপতি বদরুজ্জামান বাবলুর দেওয়া তথ্য সঠিক নয় উল্লেখ করে বলেছেন, ছোট বাইকের জন্য নয়, বাস চলাচলে মালিকদের টাইম বেঁধে দেওয়ার জন্যই দুর্ঘটনা ঘটছে। ছোট বাইকের জন্য হাইওয়ে সড়কে দুর্ঘটনা ঘটেছে সম্প্রতি এমন নজির পাওয়া যায়নি। তিনি বলেন, হাইওয়ে পুলিশ দিয়ে বেপরোয়া বাস চলাচল নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়। বাস মালিকরা চাইলেই এটা সম্ভব। এ জন্য পুলিশ সুপার বাস মালিকদের বসে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে করণীয় সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহবান জানিয়েছেন।

চুড়ামনকাটিতে রূপসা পরিবহনের বাসের চাপায় একজন মাদ্রাসাছাত্রী নিহত হওয়ায় জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভায় আবারও গড়াই ও রূপসা পরিবহনের বাসের বেপরোয়া চলাচলের বিষয়টি উঠে আসে। সভায় বক্তারা এ বিষয়ে কুষ্টিয়ার রূপসা ও গড়াই পরিবহন মালিক এবং সেখানকার পুলিশ সুপার ও জেলা প্রশাসকের সাথে এ বিষয়ে আলোচনা করার প্রতি গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভায় উপশহর থেকে মণিহার এবং মণিহার থেকে মুড়লি পর্যন্ত সড়কের ওপর বাস রেখে দেওয়ার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়। বলা হয়, এ বিষয়ে শিগগির বাস মালিকদের সাথে বসে সমাধানের চেষ্টা করা হবে। তারপরও সমাধান না হলে সড়কে বাস রেখে দেওয়া হলে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা করা হবে।

সভায় বলা হয়, মার্চে জেলায় ৬ জন খুন এবং ৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এর আগের মাসে ৩ জন খুন ও ৩টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছিলো।

জেলা প্রশাসক মো. আজহারুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য রাখেন এবং উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কমলেশ মজুমদার, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকন, যশোর চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান খান, যশোর পৌরসভার প্রশাসক রফিকুল হাসান, জেলা জামায়াতের আমীর গোলাম রসুল, জামায়াত নেতা আব্দুল কুদ্দুস, প্রেসক্লাব যশোরের সভাপতি জাহিদ হাসান টুকুন, রাইটস যশোরের নির্বাহী পরিচালক বিনয় কৃষ্ণ মল্লিক, বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা আহবায়ক রাশেদ খান প্রমুখ।