যশোরে শিশু ডায়ারিয়ার প্রকোপ : মিলছে না শয্যা

0

স্টাফ রিপোর্টার॥ যশোরে শিশু ডায়রিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। প্রতিদিন নতুন নতুন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হলেও মিলছে না শয্যা। শীতে মেঝেয় বিছানা পেতে তাদের চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালের সংক্রামক ওয়ার্ডে গতকাল সকালে ডায়রিয়া রোগীর সংখ্যা ছিল ৩১ জন। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত ভর্তি হয় ১৮ জন। কয়েকজনের ছাড়পত্র দেয়ার পর চিকিৎসাধীন ২৮ জনের মধ্যে ১৫ জনই শিশু। একদিনে ভর্তি রোগীরা হচ্ছে আয়ন (২৫ মাস), সিফাত (১১ মাস), সাকিল (৩ বছর), মুরসালিন (৮ বছর), উমায়ের (৪ মাস), মারুফ (৪ বছর), সাকিল (সাড়ে তিন বছর), রাবেয়া (৫ বছর), সুরাইয়া (২ মাস), নীরব (৫ বছর), আঞ্জুরা (১৮ মাস), আয়ন (২৫ মাস), জান্নাতি (২১ মাস), হাসানুজ্জামান (১৪ মাস), বয়স্করা হচ্ছেন- ইউসুফ আলী (৩০), আবু হানিফা (৬৫), জাহাঙ্গীর (২৫)। এর আগের দিন ৪ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ছিল ৩৭ জন। চলতি বছর এ পর্যন্ত যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতাল হতে চিকিৎসা নিয়েছে ৪শ’ ৪৬ জন। ৪ জানুয়ারি হতে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৩০ দিনে ৩শ’ ৯৩ জন, আর ২৯ জানুয়ারি হতে ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১ সপ্তাহে ভর্তি হয় ১শ’ ২১ জন। ওই সপ্তাহে মোট চিকিৎসা নেয় ১শ’ ৩৭ জন। ভর্তি হওয়া এ সকল রোগী হাসপাতালের সংক্রামক ওয়ার্ডে বেড পাচ্ছে না। বেডের অভাবে রোগীরা বাড়ি থেকে বিছানা এনে মেঝেতে চিকিৎসা নিচ্ছে। সংক্রামক ওয়ার্ডে মোট বেডের সংখ্যা ৫টি। পর্যাপ্ত বেড না থাকার কারণে শীতের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের অস্বস্তিকর পরিবেশে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। ডায়রিয়া আক্রান্ত ৮ মাস বয়সের জমজ শিশু আলিফ ও আলামিনের মাতা নাজমা বেগম জানিয়েছেন, দুটি শিশু ৫ দিন ধরে চিকিৎসাধীন থাকলেও বেড পাচ্ছে না। মেঝেতে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে তাদের। একই অভিযোগ অন্যান্য রোগীর অভিভাবকদেরও।
সূত্র জানিয়েছে, যখন প্রচণ্ড শীত ছিল তখন ডায়রিয়ার প্রকোপ ছিল কম। এখন শীত কমে গেছে। অথচ, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। উপজেলা পর্যায়েও বেড়েছে ডায়রিয়া। শীতজনিত শুষ্ক আবহাওয়ায় রোটা ভাইরাসের প্রভাব বৃদ্ধি পাওয়ায় শিশুরা বেশি ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছে। শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাল্কা শীতে ডায়রিয়ায় শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। এর কারণ হচ্ছে শিশুদের প্রতি মা-বাবাদের সতর্কতা কিছুটা কমে যায়। তখন ঠান্ডা শিশুদের দেহে প্রবেশ করে। চিকিৎসকগণ এটিকে কোল্ড ডায়রিয়া বলে অভিহিত করেন। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলীপ কুমার রায় জানিয়েছেন, ওয়ার্ডে ওষুধ সংকট নেই। তাদের আইভি স্যালাইন মজুদ আছে। ডায়রিয়া পরিস্থিতি সামাল দেয়ার সক্ষমতা রয়েছে তাদের।