বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যার শ্যুটার গ্রেফতার, জামাইয়ের সম্পৃক্ততার তথ্য

0
শুটার ত্রিদিব চক্রবর্তী মিশুক।

স্টাফ রিপোর্টার ॥ যশোর শহরের শংকরপুরে নগর বিএনপির ৭ নম্বর ওয়ার্ড শাখার যুগ্ম সম্পাদক আলমগীর হোসেন হত্যার শ্যুটারকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। গ্রেফতার ত্রিবিদ চক্রবর্তী মিশুক (৩৪) মোটরসাইকেলের পেছনে বসে গুলি নিক্ষেপ করেছিলেন বলে পুলিশের কাছ থেকে জানা গেছে। তিনি যশোর শহরের বেজপাড়া পূজার মাঠ এলাকার পুরোহিত মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাদের ছেলে।

বুধবার শহরের বেজপাড়ায় আওয়ামী লীগ নেতা মোহিত কুমার নাথের বাড়ির সামনে থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হলে ত্রিবিদ চক্রবর্তী মিশুক স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, নিহত আলমগীর হোসেনে জামাই বাসেদ আলী পরশ সন্ত্রাসী ভাড়া করে আলমগীর হোসেনকে খুন করিয়েছেন। হত্যা মিশনে ৮জন ছিলেন। অন্যদের আটকের চেষ্টা চলছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই অলক কুমার দে জানান, গত বুধবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বেজপাড়া থেকে তারা শ্যুটার মিশুককে গ্রেফতার করেছেন। তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে শনাক্ত করে গ্রেফতার করা হয়। বৃহস্পতিবার বিকেলে তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়।

এসময় মিশুক ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আছাদুল ইসলাম জবানবন্দি গ্রহণ করেন। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন।

জবানবন্দিতে মিশুক আদালতকে জানিয়েছেন, পূর্ব পরিচিত প্রিন্স তাকে একটি স্থানে ডেকে নিয়ে গিয়েছিলো। সেখানে অমি ও পরশসহ আরো অনেকে ছিলেন । পরশ অস্ত্র ও গুলির জন্য প্রিন্সকে টাকা দিয়েছিলেন। ঘটনার দিন অমি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন ও মিশুক পেছনে বসেছিলেন। শংকরপুরে নয়ন কাউন্সিলরের অফিসের সামনে পৌঁছালে তিনি (মিশুক) চলন্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী আলমগীর হোসেনের মাথায় গুলি চালিয়েছিলেন।

জেলা পুলিশ প্রশাসনের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) আবুল বাশার জানান, তারা আটক মিশুককে জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পেরেছেন, জামাই পরশ সন্ত্রাসী ভাড়া করে আলমগীর হোসেনকে খুন করিয়েছেন। এর পেছনে পারিবারিক দ্বন্দ্ব রয়েছে। তিনি বলেন, স্ত্রীর সাথে পরশের ভালো সম্পর্ক ছিলো না। হত্যাকান্ডের কয়েক মাস আগে পরশের স্ত্রী বাবার বাড়িতে চলে গিয়েছিলেন।

ডিবি পুলিশের ওসি শেখ মোহাম্মদ আলী জানান, হত্যা মিশনে মোট ৮ জন ছিলেন। শংকরপুর বটতলা এলাকাসহ আলমগীর হোসেনের বাড়ি ফেরার রাস্তার বিভিন্ন স্থানে তারা অবস্থান নেন।

ওসি আরও জানান, হত্যাকান্ডে তিনটি মোটরসাইকেল ব্যবহার করা হয়। ওই মোটরসাইকেলে যারা ছিলেন তাদেরকে আটকের চেষ্টা চলছে।

আটক মিশুকের পিতা মিহির চক্রবর্তী ত্রিনাদ জানান, তার একমাত্র ছেলে মিশুক ইভেন্ট ম্যানেজমেন্টের কাজ করেন। মাঝে মধ্যে লাইটিংয়েরও কাজ করে থাকেন। গত বুধবার বিকেল ৪টার দিকে বেজপাড়া শ্রীধর পুকুর পাড় এলাকা থেকে মিশুককে আটক করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ তাকে জানিয়েছিলো, এসপি সাহেবের এক আত্মীয়ের মোবাইল ফোন চুরি হয়ে গেছে। মোবাইল ফোন চুরি সংক্রান্ত ঘটনায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেলে আদালতে এসে জানতে পারেন, তার ছেলেকে বিএনপি নেতা আলমগীর হত্যা মামলায় পুলিশ গ্রেফতার করেছে। তার ছেলে জবানবন্দিও দিয়েছেন।

উল্লেখ্য, বিএনপি নেতা আলমগীর হোসেন জমির ব্যবসা করতেন। তিনি এলাকায় দানশীল ব্যক্তি হিসেবেও পরিচিত ছিলেন। গত ৩ জানুয়ারি সন্ধ্যায় আলমগীর হোসেন যশোর মেডিকেল কলেজ সংলগ্ন নিজের ব্যবসায়ীক কার্যালয় থেকে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন। পথে শংকরপুর ইসহাক সড়কে খাজা বেকারির কারখানার সামনে পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তরা তার মাথায় গুলি করেন। ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী শামীমা বেগম জামাই পরশ এবং একই এলাকার সাগরের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩/৪ জনকে আসামি করে কোতয়ালি থানায় মামলা করেন।